বিজ্ঞাপন
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেললাইন (ডাবল রেললাইন) প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম রউফের বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথের চাষাঢ়া থেকে দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকালে এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথের চাষাঢ়া থেকে দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেললাইন (ডাবল রেললাইন) প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম রউফের নেতৃত্বে রেলওয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
রেলওয়ের উচ্ছেদ কর্মীরা বিদ্যমান রেললাইনের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেকু দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে দেন। এসময় রেলের জমিতে সিটি করপোরেশনের চলমান হকার পুনর্বাসনের কাজেও তারা বাধা দেন। সেখানে বিছানো ইট তুলে ফেলেন উচ্ছেদ কর্মীরা।
আরও পড়ুন
নাসিকের ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি এসময় বিছানো ইটগুলো তুলে ফেলায় রেলওয়ে কর্মকর্তা সেলিম রউফের ওপর ক্ষুব্ধ হন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
ওই সময় সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি ভদ্র মানুষ বলে...নাহলে এখানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে যেত। আওয়ামী লীগের লোকেরা বিভিন্ন মার্কেট করে রেলওয়ের জায়গা দখল করে রেখেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তো আপনারা কিছু করছেন না। আমরা তো একটা সরকারি সংস্থা। আপনাদের এই জায়গার প্রয়োজন হলে আপনি এসে আমার সঙ্গে কথা বলবেন, পরামর্শ করবেন। তা না করে আপনারা হঠাৎ এসে ভেকু লাগিয়ে সব গুড়িয়ে দিলেন।’
এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী ও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে নাসিক প্রশাসক বলেন, ‘এই রেলওয়ে কার? সরকারের এবং জনগণের তো? এই উন্নয়ন আমাদের স্বার্থেই হচ্ছে। আমিও তো সরকারের প্রতিনিধি, সরকারের এত বড় প্রকল্পে বিঘ্ন ঘটানোর অধিকার কি আমার আছে? এটাও জনগণের স্বার্থেই করা হচ্ছিল। এখানে তো স্থায়ী কিছু করা হয়নি, শুধু ইট বিছানো হয়েছিল, যা আপনাদের কাজেও লাগবে।’
এসময় রেলওয়ের প্রকল্প পরিচালক সেলিম রউফ নাসিক প্রশাসককে বলেন, ‘এখানে জমিটি যদি আমি ফ্রি করে না দেই ঠিকাদারতো কাজ করতে পারবে না।’
আরও পড়ুন
রিয়া গোপের পরিবারকে নাসিক প্রশাসকের আর্থিক অনুদান
পরে হকার পুনর্বাসনের জন্য বিছানো ইটগুলো আর না তুলে রেলওয়ের ওই কর্মকর্তাকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ চলমান রাখার কথা বলেন প্রশাসক। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আপনাদের যখন এই জায়গার প্রয়োজন হবে, আমাকে বলবেন; আমি নিজে এসে জায়গা হস্তান্তর করে দেবো।’
এ বিষয়ে পরে মোহাম্মদ সেলিম রউফ বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি বড় প্রকল্পের কাজ চলছে, যেখানে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ স্টেশন পর্যন্ত ডাবল লাইন নির্মাণ করা হবে। আমরা এসে দেখলাম, আমাদের প্রকল্পের অ্যালাইনমেন্টের ওপর কে বা কারা রাস্তা সোলিং করেছে এবং ঘর তুলে রেখেছে। যেখানে আমাদের নতুন ডুয়েলগেজ লাইন বসবে।’
তিনি বলেন, ‘এরইমধ্যে চাষাঢ়া এবং নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন উভয় দিক থেকেই আমাদের কাজ এগিয়ে এসেছে। তাই রেলওয়ে আইন অনুযায়ী আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি।’
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এসআর
বিজ্ঞাপন