বিজ্ঞাপন
বর্ষা এলেই ডায়রিয়া, পেটব্যথা, বদহজম, গ্যাস, বমি কিংবা খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো সমস্যা অনেকটাই বেড়ে যায়। অনেকেই মনে করেন, বাইরের খাবার খাওয়া বা দূষিত পানি পান করাই এর একমাত্র কারণ।
কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় সমস্যা লুকিয়ে থাকে নিজের রান্নাঘরেই। প্রতিদিনের কিছু ছোট ভুল অজান্তেই খাবারে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দেয়, যা পেটের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বর্ষাকালে শুধু খাবারের গুণগত মান নয়, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
ভেজা স্পঞ্জ বা তোয়ালে ব্যবহারে
বাসন মাজার স্পঞ্জ ও রান্নাঘরের তোয়ালে সবচেয়ে বেশি জীবাণু বহনকারী জিনিসগুলোর একটি। বাসন ধোয়ার পর এগুলো যদি ভালোভাবে পরিষ্কার না করা হয় এবং ভেজা অবস্থায় পড়ে থাকে, তাহলে সেখানে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জন্মায়।
পরে সেই স্পঞ্জ বা তোয়ালে আবার প্লেট, গ্লাস কিংবা রান্নার পাত্রে ব্যবহার করলে জীবাণু সহজেই খাবারে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ডায়রিয়া, বমি, খাদ্যে বিষক্রিয়া বা পেটের সংক্রমণ হতে পারে। তাই প্রতিদিন স্পঞ্জ সাবান দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে রাখুন এবং নিয়মিত পরিবর্তন করুন।
অভ্যাস বদলালেই পেটের অসুখ থেকে সুরক্ষা পাবেন
একই ছুরি ও কাটিং বোর্ডে সব খাবার কাটা
অনেকেই একই ছুরি দিয়ে কাঁচা মাছ, মাংস, শাকসবজি এবং পরে ফল বা রান্না করা খাবার কেটে ফেলেন। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস। এভাবে কাঁচা খাবারে থাকা জীবাণু সরাসরি রান্না করা বা খাওয়ার উপযোগী খাবারে চলে আসে। একে বলা হয় ক্রস-কন্ট্যামিনেশন। একইভাবে কাটিং বোর্ডও প্রতিবার ব্যবহারের পর গরম পানি ও ডিশওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত।
ডাস্টবিন পরিষ্কার না রাখা
রান্নাঘরের ডাস্টবিন খোলা রাখা বা কয়েক দিন ধরে আবর্জনা জমিয়ে রাখার অভ্যাসও পেটের রোগের বড় কারণ হতে পারে। পচা খাবারে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও মাছি জন্মায়। সেখান থেকে জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে বা মাছির মাধ্যমে খাবারে পৌঁছে যেতে পারে। তাই ডাস্টবিনে সবসময় ঢাকনা ব্যবহার করুন এবং প্রতিদিন আবর্জনা ফেলে ডাস্টবিন পরিষ্কার রাখুন।
শাকসবজি ভালোভাবে না ধোয়া
বর্ষাকালে শাকসবজি ও ফলের গায়ে মাটি, কীটনাশক, জীবাণু ও পরজীবীর ডিম লেগে থাকতে পারে। শুধু পানিতে একবার ধুয়ে রান্না করলে সেগুলো পুরোপুরি দূর হয় না। রান্নার আগে শাকসবজি পরিষ্কার পানিতে কয়েকবার ধুয়ে নিন। চাইলে হালকা লবণ মেশানো পানি বা অল্প ভিনেগার মেশানো পানিতে ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পরে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন। এতে জীবাণুর ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
একই তেল বারবার ব্যবহার করা
মাছ বা ভাজাপোড়া করার পর অনেকেই সেই তেল বারবার ব্যবহার করেন। কিন্তু বারবার উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করলে তেলের রাসায়নিক গঠন পরিবর্তিত হতে শুরু করে এবং ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন তেল নিয়মিত খেলে হজমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, প্রদাহ এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই যতটা সম্ভব একই তেল বারবার ব্যবহার না করাই ভালো।
হাত পরিষ্কার না করা
রান্না শুরুর আগে এবং কাঁচা মাছ-মাংস ধরার পর সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া জরুরি। একইভাবে রান্নার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আবার হাত না ধুয়ে খাবার স্পর্শ করাও জীবাণু ছড়ানোর অন্যতম কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন
থালা-বাসন ধোয়াতে কমতে পারে মানসিক চাপ
ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণেও সতর্ক থাকা
রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিলে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। খাবার ঠান্ডা হলে পরিষ্কার, ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রেখে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। একই সঙ্গে ফ্রিজও নিয়মিত পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
হৃদযন্ত্র থেকে দাম্পত্য জীবন, তরমুজ যেসব উপকার করে
বর্ষাকালে পেটের অসুখ থেকে বাঁচতে শুধু বাইরের খাবার এড়িয়ে চললেই হবে না। রান্নাঘরের ছোট ছোট অভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে। সহজ কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সুস্থ থাকতে বর্ষায় রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতাকেই দিন সর্বোচ্চ গুরুত্ব।
সূত্র: টাইমস নাউ, হেলথলাইন
এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন