জাতীয়

হামে ১৪৩ দিনে হাসপাতালে ভর্তি সোয়া লাখ, সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ১.১১ লাখ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
5 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
দেশে হাম সংক্রমণ অব্যাহত থাকলেও চিকিৎসাব্যবস্থায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অর্থাৎ ১৪৩ দিনে দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এক লাখ ১৫ হাজার ২৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে এক লাখ ১১ হাজার ৫ জন চিকিৎসাশেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। ভর্তি হওয়া রোগীদের সিংহভাগ চিকিৎসাশেষে বাড়ি ফিরেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাব্যবস্থাও কার্যকর ভূমিকা রাখছে। প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। একদিনেই ভর্তি ৮৪১, সুস্থ হয়ে ফিরলেন ৮১৮ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৮৪১ জন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ৮১৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ২৭৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, সিলেটে ১১৯ জন, বরিশালে ১১৪ জন, খুলনায় ৬০ জন, ময়মনসিংহে ৩৭ জন, রাজশাহীতে ৩১ জন এবং রংপুরে ৮ জন ভর্তি হয়েছেন। আরও পড়ুন জরিপ / হামে আক্রান্ত ১০টি পরিবারের ৯টিই চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ঋণ নিয়েছেন অন্যদিকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ঢাকা বিভাগে ২৭৪ জন, চট্টগ্রামে ১৯২ জন, বরিশালে ১২৭ জন, সিলেটে ৯৬ জন, খুলনায় ৫১ জন, ময়মনসিংহে ৩৫ জন, রাজশাহীতে ২৫ জন এবং রংপুরে ২৮ জন রোগী। ১৫ মার্চ থেকে কী বলছে পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগী ১ লাখ ৩২ হাজার ৯০৫ জন। নিশ্চিত হাম রোগী ১৬ হাজার ৬৫৫ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৪ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৫ জন। এদিকে সন্দেহভাজন হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ৭৫৮ জনের। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৩০ জন, সিলেটে ১১৫ জন, রাজশাহীতে ৯১ জন, ময়মনসিংহে ৭১ জন, চট্টগ্রামে ৬১ জন, বরিশালে ৪৫ জন, খুলনায় ৩২ জন এবং রংপুরে ১৩ জন। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ৬০ জন, সিলেটে ৩ জন, রাজশাহীতে ২ জন, ময়মনসিংহে ২ জন, চট্টগ্রামে ১০ জন এবং বরিশালে ১৯ জন। আরও পড়ুন আইসিডিডিআর’বির অনুসন্ধান / হামের জিনগত পরিবর্তন হয়নি, আক্রান্ত বেশি ৯ মাসের নিচে নতুন শনাক্ত ১২৪, মৃত্যু নেই গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৯৫৯ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। পরীক্ষায় তাদের মধ্যে ১২৪ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো নিশ্চিত হাম রোগীর মৃত্যু হয়নি। তবে ৫ জন সন্দেহভাজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ঢাকায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি ৫১ জন নতুন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরপর চট্টগ্রামে ২৯ জন, সিলেটে ২৭ জন, বরিশালে ৭ জন, রাজশাহীতে ৫ জন এবং ময়মনসিংহে ৫ জন। খুলনা ও রংপুর বিভাগে নতুন কোনো নিশ্চিত রোগী পাওয়া যায়নি। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯৪ জন, চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, সিলেটে ১১৯ জন, বরিশালে ১১৪ জন, রাজশাহীতে ৩১ জন, ময়মনসিংহে ৩৭ জন, খুলনায় ৬০ জন এবং রংপুর বিভাগে ১০ জন। লক্ষ্যমাত্রার থেকে বেশি টিকাদান সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচিও জোরদার করা হয়েছে। ৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সারা দেশে ১ কোটি ৯০ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৬ জন শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন। আরও পড়ুন হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২৫, নিশ্চিত হামে মৃত্যু ৯৫ এর মধ্যে বরিশালে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩৮ জন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে টিকা দেওয়া হয়েছে ১০ লাখ ৭৭ হাজার ৭৭ জনকে। চট্টগ্রামে ৪২ লাখ ৯৬ হাজার ২১৮ জন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে টিকা দেওয়া হয়েছে ৪৭ লাখ ১ হাজার ৮১৩ জনকে। ঢাকায় ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার ৬৩২ জন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে টিকা দেওয়া হয়েছে ৪৭ লাখ ৩৪ হাজার ১০২ জনকে। খুলনায় ১৬ লাখ ১৪ হাজার ২৭৩ জন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে টিকা দেওয়া হয়েছে ১৬ লাখ ৬৮ হাজার ১৮১ জনকে। ময়মনসিংহে ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৫ জন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে টিকা দেওয়া হয়েছে ১৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩৩ জনকে। রাজশাহীতে ২০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৩৫ জন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে টিকা দেওয়া হয়েছে ২১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৯৪ জনকে। রংপুরে ১৮ লাখ ৮৮ হাজার ২৪৭ জন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে টিকা দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ ৩৯ হাজার ৬৯৭ জনকে। আর সিলেটে ১৩ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৬ জন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে টিকা দেওয়া হয়েছে ১৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৯ জনকে। অর্থাৎ প্রতিটি বিভাগে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনগুলোতেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে টিকাদান সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতিও আশাব্যঞ্জক। মোট ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯৯ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সিটি করপোরেশনগুলোতে ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আরও পড়ুন সিলেটে শতক ছুঁলো প্রাণহানি, হাম শনাক্তের ফল নিয়ে প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি কভারেজ অর্জন করেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন (১১৪ শতাংশ)। এরপর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (১১২ শতাংশ), চট্টগ্রাম ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন (১১০ শতাংশ), নারায়ণগঞ্জ (১০৫ শতাংশ), ঢাকা দক্ষিণ ও খুলনা (১০৩ শতাংশ) এবং বরিশাল, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ (১০১ শতাংশ)। সিলেট সিটি করপোরেশন শতভাগ এবং রংপুর সিটি করপোরেশন ৯৯ শতাংশ কভারেজ অর্জন করেছে। এমএএস/এমএএইচ/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>