জাতীয়

ইউটিউবের আয়ে কোটিপতি হতে চাইলে চ্যানেলের শুরুতেই যা করবেন

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
9 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
বর্তমানে ইউটিউব শুধু বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং লাখ লাখ মানুষের আয়ের অন্যতম বড় উৎস। তবে একটি চ্যানেল খুলেই যে আয় শুরু হবে, এমন ধারণা ভুল। বিশেষ করে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম-এর নীতিমালায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর মৌলিক ও মানসম্মত কনটেন্ট তৈরির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এআই দিয়ে তৈরি বা কম পরিশ্রমে বানানো পুনরাবৃত্তিমূলক ভিডিওর ক্ষেত্রে এখন ইউটিউব আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর। আপনিও যদি ভবিষ্যতে ইউটিউব থেকে ভালো আয়ের স্বপ্ন দেখেন, তাহলে চ্যানেল তৈরির শুরু থেকেই কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। তাহলে খুব সহজেই হাজার হাজার ডলার আপনিও ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন। শুরুতেই ঠিক করুন কোন বিষয় নিয়ে কাজ করবেন অনেকেই শুরুতে একদিন প্রযুক্তি, পরের দিন রান্না, আবার অন্যদিন ভ্রমণের ভিডিও আপলোড করেন। এতে দর্শক বিভ্রান্ত হন এবং চ্যানেলের পরিচিতি গড়ে উঠতে সময় লাগে। তাই প্রথমেই একটি নির্দিষ্ট বিষয় বা নিস নির্বাচন করুন। যেমন- প্রযুক্তি ও গ্যাজেট, শিক্ষা, রান্না, ভ্রমণ, স্বাস্থ্য ও ফিটনেস, গেমিং, লাইফস্টাইল, ব্যবসা বা ফ্রিল্যান্সিং। একটি নির্দিষ্ট বিষয় ধরে নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ করলে দর্শকের আস্থা তৈরি হয় এবং ইউটিউবের অ্যালগরিদমও আপনার ভিডিও সঠিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। আরও পড়ুন টাকা ছাড়াই ইউটিউব প্রিমিয়াম দেখার সুযোগ দেবে গুগল পেশাদারভাবে চ্যানেল তৈরি করুন একটি গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়েই কয়েক মিনিটে ইউটিউব চ্যানেল খোলা যায়। তবে শুধু চ্যানেল খুললেই কাজ শেষ নয়। শুরুর দিকেই আকর্ষণীয় একটি চ্যানেলের নাম নির্বাচন করুন। এরপর ভালো মানের প্রোফাইল ছবি, ব্যানার এবং চ্যানেলের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি যুক্ত করুন। এগুলো দর্শকের কাছে আপনার চ্যানেলের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। ভিডিওর মানের চেয়ে ধারাবাহিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ইউটিউবারদের অনেকেই প্রথম ভিডিওকেই নিখুঁত বানানোর চেষ্টা করেন। এতে ভিডিও প্রকাশ করতেই অনেক দেরি হয়ে যায়। বরং শুরুতে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশের অভ্যাস তৈরি করুন। সপ্তাহে নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন ভিডিও আপলোড করলে দর্শকেরা জানবেন কখন নতুন কনটেন্ট পাবেন। ধারাবাহিকতাই দীর্ঘমেয়াদে সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি। থাম্বনেইল ও শিরোনামে গুরুত্ব দিন একটি ভালো ভিডিওও অনেক সময় কম ভিউ পায় শুধুমাত্র দুর্বল থাম্বনেইল বা আকর্ষণহীন শিরোনামের কারণে। ভিডিওর বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল রেখে পরিষ্কার ও আকর্ষণীয় থাম্বনেইল তৈরি করুন। পাশাপাশি এমন শিরোনাম ব্যবহার করুন, যা দর্শকের আগ্রহ তৈরি করবে কিন্তু বিভ্রান্তিকর হবে না। মনিটাইজেশনের জন্য কী কী শর্ত? ইউটিউব থেকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করতে হলে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হতে হয়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বিজ্ঞাপনভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ মনিটাইজেশনের জন্য প্রয়োজন-অন্তত ১ হাজার জন সাবস্ক্রাইবার। গত ১২ মাসে ৪ হাজার ঘণ্টা পাবলিক ওয়াচ টাইম। অন্যদিকে যারা মূলত ইউটিউব শর্টস তৈরি করেন, তাদের ক্ষেত্রে গত ৯০ দিনের মধ্যে শর্টস ভিডিওতে মোট ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) ভিউ এবং ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে। তবে ইউটিউব কিছু দেশে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে আগেই সীমিত সুবিধাসহ-তে যোগ দেওয়ার সুযোগও দেয়। তাই নিজের দেশের জন্য প্রযোজ্য নিয়ম নিয়মিত দেখে নেওয়া ভালো। শুধু সংখ্যা নয়, নীতিমালাও গুরুত্বপূর্ণ অনেকেই মনে করেন, ওয়াচ টাইম ও সাবস্ক্রাইবার পূরণ হলেই আয় শুরু হবে। বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। চ্যানেলকে অবশ্যই ইউটিউবের কমিউনিটি গাইডলাইন, কপিরাইট নীতি এবং মনিটাইজেশন নীতিমালা মেনে চলতে হবে। অন্যের ভিডিও কপি করা, সামান্য পরিবর্তন করে পুনরায় আপলোড করা বা শুধুমাত্র এআই দিয়ে তৈরি পুনরাবৃত্তিমূলক কনটেন্ট প্রকাশ করলে মনিটাইজেশন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। এমনকি চ্যানেলও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রতিটি ভিডিওতে নিজস্ব উপস্থাপনা, গবেষণা, বিশ্লেষণ কিংবা নতুন তথ্য যোগ করার চেষ্টা করুন। আরও পড়ুন ইউটিউব চ্যানেল থাকলে যেসব কাজ করবেন না দর্শকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুন সফল ইউটিউবাররা শুধু ভিডিও প্রকাশ করেন না, দর্শকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রাখেন। মন্তব্যের উত্তর দেওয়া, দর্শকের পরামর্শ অনুযায়ী নতুন ভিডিও তৈরি করা এবং কমিউনিটি পোস্টের মাধ্যমে সক্রিয় থাকা চ্যানেলের গ্রোথে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ধৈর্যই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ইউটিউবে রাতারাতি সফল হওয়ার উদাহরণ খুবই কম। বেশিরভাগ সফল নির্মাতাই বছরের পর বছর নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করে দর্শকের আস্থা অর্জন করেছেন। তাই শুরুতেই আয়ের চিন্তা না করে মানসম্মত ও মৌলিক কনটেন্ট তৈরিতে মনোযোগ দিন। সময়ের সঙ্গে সাবস্ক্রাইবার, ভিউ এবং আয় সবই বাড়তে পারে। মনে রাখবেন, ইউটিউবে সফল হওয়ার সবচেয়ে বড় তিনটি মন্ত্র হলো মৌলিক কনটেন্ট, নিয়মিত আপলোড এবং দর্শকের আস্থা অর্জন। এই তিনটি বিষয় ধরে রাখতে পারলে ইউটিউবকে দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী আয়ের মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। কেএসকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>