বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের জায়গা নয়, এটি মানুষের ব্যক্তিত্ব, চিন্তাভাবনা ও পেশাগত পরিচয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফেসবুকে করা একটি মন্তব্য অনেক সময় ব্যক্তিগত গণ্ডি ছাড়িয়ে সবার সামনে চলে আসে। তাই কোথাও কমেন্ট করার আগে দু’বার ভাবা জরুরি। কারণ একটি অসচেতন বা আপত্তিকর মন্তব্য ভবিষ্যতে তৈরি করতে পারে বড় ধরনের সমস্যা।
অনেকেই মনে করেন, ফেসবুকের কমেন্টবক্সে লেখা কথা খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনলাইনে লেখা প্রতিটি শব্দই একটি ডিজিটাল রেকর্ড হিসেবে থেকে যায়। স্ক্রিনশট, শেয়ার বা সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি পুরোনো মন্তব্যও বহু বছর পর সামনে চলে আসতে পারে। ফলে মুহূর্তের আবেগে করা একটি মন্তব্য ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক সম্মান এমনকি পেশাগত ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অনেক ঘটনা দেখা গেছে, যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে অচেনা নারী, অভিনেত্রী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর কিংবা পরিচিত ব্যক্তিদের ছবি ও পোস্টের নিচে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ বা হয়রানিমূলক মন্তব্য করার কারণে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোথাও চাকরি হারানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে, আবার কোথাও নষ্ট হয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক পরিচিতি।
আরও পড়ুন
ইউটিউবের আয়ে কোটিপতি হতে চাইলে চ্যানেলের শুরুতেই যা করবেন
একজন কর্মীর আচরণ শুধু অফিসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বর্তমানে নিয়োগের আগে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রার্থীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করে। কোনো ব্যক্তির অনলাইন আচরণ যদি প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, কর্পোরেট কর্মী কিংবা জনসাধারণের সঙ্গে যুক্ত পেশার মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নারীদের ছবি বা পোস্টে অসম্মানজনক মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত রুচির বিষয় নয়, এটি অনলাইন হয়রানির পর্যায়ে পড়তে পারে। অনেক সময় এসব মন্তব্যের কারণে ভুক্তভোগীরা মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। একই সঙ্গে মন্তব্যকারীর বিরুদ্ধেও সামাজিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই ‘মজা করে’ বা ‘বন্ধুদের হাসানোর জন্য’ করা মন্তব্যও কখনো কখনো গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা উচিত। প্রথমত, এই মন্তব্যটি যদি নিজের পরিবারের কেউ বা সহকর্মীরা দেখেন, তাহলে কেমন লাগবে সেটি ভাবতে হবে। দ্বিতীয়ত, মন্তব্যটি কারো সম্মান বা ব্যক্তিগত অধিকারে আঘাত করছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। তৃতীয়ত, রাগ বা উত্তেজনার মুহূর্তে কোনো মন্তব্য না করাই ভালো।
আরও পড়ুন
অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে বাধা আসতে পারে!
ফেসবুক শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি এখন ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড তৈরির একটি প্ল্যাটফর্মও। একটি ভালো মন্তব্য যেমন একজন মানুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে পারে, তেমনি একটি খারাপ মন্তব্য মুহূর্তেই তা নষ্ট করে দিতে পারে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বাধীন মত প্রকাশের পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণ করাও জরুরি।
মনে রাখতে হবে, অনলাইনের দেয়ালে লেখা কথাগুলো বাতাসে মিলিয়ে যায় না। একটি মন্তব্যই কখনো কখনো একজন মানুষের চরিত্র, মূল্যবোধ ও পেশাগত পরিচয়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়ায়। তাই ফেসবুকে কমেন্ট করার আগে একটু থামুন, ভাবুন।কারণ একটি ভুল মন্তব্যের মূল্য অনেক বড় হতে পারে।
কেএসকে
বিজ্ঞাপন