বিজ্ঞাপন
জেলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা মাত্র সাতটি
কর্মসংস্থানের জন্য ভরসা অন্য জেলা
ভোলায় প্রচুর পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত থাকলেও আজ গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত শিল্পকারখানা। ফলে তৈরি হয়নি তেমন কর্মসংস্থান। এতে বাড়ছে বেকারত্ব। জীবিকার তাগিদে ছুটছে হচ্ছে রাজধানী, বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। অথচ ভোলার গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায়।
ভোলা সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৯০ দশকে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নে শাহবাজপুরে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর একে একে এখন পর্যন্ত ভোলা নর্থ ও ইলিশা নামের আরও দুটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করা হয়। ভোলার তিনটি গ্যাসক্ষেত্রের ৯টি কূপে ২-৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট মজুত রয়েছে।
‘পড়াশোনা শেষ করে যে জেলায় কোনো বেসরকারি চাকরি করবো, সেই সুযোগ নেই। চাকরি করতে হলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে করতে হবে। এসব কারণে আমাদের ভোলার মেয়েরা সরকারি চাকরি না পেলে বেকার থাকেন’
এসব গ্যাস ভোলার গ্যাসভিত্তিক সাতটি শিল্পকারখানা, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেডের দুটি সংযোগ, তিনটি পাওয়ার প্ল্যান্ট, ভোলা সদরে দুটি বাণিজ্যিক ও ভোলা পৌরসভায় দুই হাজার ৩৭৬টি এবং বোরহানউদ্দিন পৌর এলাকায় মাত্র পাঁচটি আবাসিকে গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সাতটি কারখানা যথেষ্ট নয় বলছেন জেলার বাসিন্দরা।
জেলা পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ভোলার সাত উপজেলায় জনসংখ্যা ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৪৪৪ জন (সবশেষ জনশুমারি অনুযায়ী)। এদের মধ্যে ১৫ বছরের ওপরে জনসংখ্যা ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫৪ জন। যার মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছয় লাখ ৩০ হাজার ৫৪৯ জন। আর নারী ছয় লাখ ৮৬ হাজার ৫৫০ জন।
সরকারি চাকরি করেন; বেতন, মজুরির বিনিময়ে অথবা লাভের জন্য বা নিজস্ব ভোগের জন্য কাজ করেন বা কাজে সাহায্য করেন সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা—এমন পুরুষ ও নারীর সংখ্যা জেলায় আট লাখ ২ হাজার ৮৬ জন। ৫৪ হাজার ৫২৬ জন সম্পূর্ণ বেকার। এদের মধ্যে ২৫ হাজার ৭৮৯ জন পুরুষ ও ২৯ হাজার ৩৮২ জন নারী। বাকি সাড়ে চার লাখের মধ্যে শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিরা রয়েছেন।
‘বিগত সরকারের আমলে শিল্প উদ্যোক্তারা ভোলায় শিল্পকারখানা করতে এসে নানাভাবে চাঁদাবাজির শিকার হয়ে চলে গেছেন। যে কারণে জেলায় পর্যাপ্ত শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি’—চেম্বার সভাপতি
ভোলার স্থানীয় বাসিন্দা নুর মো. রুবেল জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভোলার তিনটি গ্যাসক্ষেত্রের ৯টি কূপে প্রচুর পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে। কিন্তু বিগত সরকারগুলো জেলায় তেমন শিল্পকারখানা গড়ে তোলেনি। ফলে উন্নয়নও হয়নি। আমরা চাই বর্তমান সরকার যেন ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলে।’
আরও পড়ুন
৩৪ পর পুনর্মিলনী / চুলে পাক ধরলেও স্কুলজীবনের বন্ধুদের চিনতে ভুল হয়নি কারও
উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরির জন্য চেষ্টা করছেন মেহেদি হাসান। আলাপকালে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতি বছরই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বা সমমান পাস করে হাজারও শিক্ষার্থীরা বের হচ্ছেন। কিন্তু তারা জেলায় চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন না। এর অন্যতম কারণ এখানে তেমন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি।’
‘জেলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। শিল্প-কারখানা করতে চাইলে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে’—জেলা প্রশাসক
ভোলা কলেজে স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্রী তাহমিনা ইসলাম। জেলায় কল-কারখানা না থাকায় অন্যদের মতো আক্ষেপ তারও। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করে যে জেলায় কোনো বেসরকারি চাকরি করবো, সেই সুযোগ নেই। চাকরি করতে হলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে করতে হবে। এসব কারণে আমাদের ভোলার মেয়েরা সরকারি চাকরি না পেলে বেকার থাকেন।’
আরও পড়ুন
ভোলায় জোয়ারে ঘরের সামনে বুকসমান পানি, সীমাহীন দুর্ভোগ
তাহমিনা ইসলাম বলেন, ‘ভোলায় যদি পর্যাপ্ত শিল্প-কারখানা থাকতো, তাহলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হতো। তখন আমাদের মতো শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করে সংসারের হাল ধরতে পারতেন।’
জিদান আনাবিল নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘জীবিকার তাগিদে অনেকে রাজধানী, বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত। তারপরও জেলায় বেকারত্ব কমছে না। দেশে শিল্প-কারখানা স্থাপন করা হলে বেকারত্ব কমবে।’
আরও পড়ুন
ঘুরে আসুন সামরাজ ঘাটের মাছের রাজ্য থেকে
কর্মসংস্থানের অভাবে ভোলায় দিন দিন বেকারত্ব বাড়ছে বলে জানান ভোলা জেলা সুজনের সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ চৌধুরী।
তিনি বলেন, বেকারত্বের কারণে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ছে। অপরাধ নির্মূলে ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলার দাকি জানান তিনি।
আরও পড়ুন
৪ বছরেও জোড়া লাগেনি সাবমেরিন ক্যাবল, আজও অন্ধকারে মদনপুর ইউনিয়ন
গত ১৮ বছর ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে না ওঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক তরিকুল ইসলাম কায়েদ।
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে শিল্প উদ্যোক্তারা ভোলায় শিল্পকারখানা করতে এসে নানাভাবে চাঁদাবাজির শিকার হয়ে চলে গেছেন। যে কারণে জেলায় পর্যাপ্ত শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি।’
আরও পড়ুন
ভোলায় বন্ধ হাঁস প্রজনন খামার, ভাঙছে হাজারো উদ্যোক্তার স্বপ্ন
তরিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আগের মতো পরিস্থিতি নেই। তাই এবার শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে বলে আশা করি।
এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘জেলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। শিল্প-কারখানা করতে চাইলে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
এসআর/জেআইএম
বিজ্ঞাপন