বিজ্ঞাপন
একসময় গহনার কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে উঠত হলুদ সোনার ঝলক। কিন্তু এখন সেই জায়গা ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে ভিন্ন এক আভা। দেখতে চকচকে সাদা, আবার নামও সোনা। বিশ্বজুড়ে আধুনিক তরুণ-তরুণীদের কাছে এই সাদা সোনার চাহিদা এখন আকাশছোঁয়া। বিয়ের আংটি, এনগেজমেন্ট রিং, হীরার নেকলেস কিংবা আধুনিক নকশার গহনায় সাদা সোনার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
কিন্তু অনেকেই জানেন না সাদা সোনা আসলে কী। এটি আসলেই সোনা, নাকি কৃত্রিম কোনো বস্তু? বাজারে এর দামই বা কত? চলুন জেনে নেওয়া যাক-
সাদা সোনা আসলে কী?
নামের কারণে অনেকেই মনে করেন, সাদা সোনা হলো প্রকৃতিতে পাওয়া সাদা রঙের কোনো মূল্যবান ধাতু। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়।
আরও পড়ুন
বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে ৬৭ হাজার টাকা, বাংলাদেশে কত কমলো?
খাঁটি সোনা স্বাভাবিকভাবেই হলুদ রঙের। তাই সাদা সোনা তৈরি করতে খাঁটি সোনার সঙ্গে প্যালাডিয়াম, নিকেল, রুপা কিংবা জিংকের মতো সাদা রঙের ধাতু নির্দিষ্ট অনুপাতে মেশানো হয়। এভাবে তৈরি হয় একটি সংকর ধাতু বা অ্যালয়।
এই অ্যালয়ের রং পুরোপুরি উজ্জ্বল সাদা হয় না। তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর ওপর রোডিয়ামের একটি পাতলা প্রলেপ দেওয়া হয়। এই প্রলেপের কারণে গহনা আরও চকচকে, উজ্জ্বল এবং প্লাটিনামের মতো আকর্ষণীয় দেখায়।
সাদা সোনা কি খাঁটি সোনা?
সাদা সোনা খাঁটি সোনা নয়। তবে এতে সোনা থাকে।
সাদা সোনার গহনা/ ছবি: পেক্সেলস
কতটুকু সোনা রয়েছে, সেটি নির্ভর করে ক্যারেটের ওপর। ২৪ ক্যারেট সোনা প্রায় শতভাগ বিশুদ্ধ। কিন্তু ২৪ ক্যারেট দিয়ে সাধারণত গহনা তৈরি করা হয় না। কারণ এটি খুব নরম।
১৮ ক্যারেট সাদা সোনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ সোনা থাকে। বাকি অংশ অন্যান্য ধাতু।
১৪ ক্যারেট সাদা সোনায় সোনার পরিমাণ প্রায় ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ। বাকি অংশ সংকর ধাতু।
অর্থাৎ সাদা সোনার রং বদলালেও এর মূল উপাদান সোনাই।
কেন জনপ্রিয় হচ্ছে সাদা সোনা?
গত এক দশকে আধুনিক গহনার নকশায় সাদা সোনার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে হীরা বসানো গহনায় এটি বেশি দেখা যায়। কারণ সাদা পটভূমিতে হীরার উজ্জ্বলতা আরও বেশি ফুটে ওঠে।
আরও পড়ুন
সোনা কিনে লাভবান হওয়ার উপায়
এ ছাড়া সাদা সোনা দেখতে আধুনিক। পশ্চিমা ফ্যাশনের সঙ্গে সহজে মানিয়ে যায়। অফিস, আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারেও এটি সহজে পরা যায়।
অনেকের কাছে হলুদ সোনার তুলনায় এটি বেশি মার্জিত বলেও মনে হয়।
সাদা সোনা ও প্লাটিনাম কি এক?
অনেকেই প্লাটিনাম এবং সাদা সোনাকে একই জিনিস মনে করে ভুল করেন। কিন্তু এই দুটি একেবারেই আলাদা।
প্লাটিনাম একটি স্বতন্ত্র মূল্যবান ধাতু। অন্যদিকে সাদা সোনা হলো সোনাভিত্তিক সংকর ধাতু।
প্লাটিনাম স্বাভাবিকভাবেই সাদা। এর জন্য আলাদা প্রলেপের প্রয়োজন হয় না।
সাদা সোনার ক্ষেত্রে রোডিয়ামের প্রলেপ সময়ের সঙ্গে ক্ষয় হতে পারে। তখন গহনার রং কিছুটা বদলে যেতে পারে। প্রয়োজনে আবার নতুন করে প্রলেপ দেওয়া যায়।
সাদা সোনার দাম কত?
সাদা সোনার দাম নির্ভর করে এতে থাকা সোনার পরিমাণের ওপর। অর্থাৎ একই ক্যারেট হলে হলুদ সোনা ও সাদা সোনার মৌলিক দাম প্রায় একই।
আরও পড়ুন
সোনা এখনই কিনবেন না অপেক্ষা করবেন? নজর রাখবেন যেদিকে
তবে বাজারে বিক্রয়মূল্যে কিছু পার্থক্য দেখা যেতে পারে। কারণ সাদা সোনা তৈরিতে অতিরিক্ত সংকর ধাতু ব্যবহার করা হয়। পরে রোডিয়ামের প্রলেপও দিতে হয়। এসব কারণে মেকিং চার্জ বা প্রস্তুত ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে।
বাংলাদেশের বাজারে ১৮ ক্যারেট কিংবা ১৪ ক্যারেট সাদা সোনার গহনার দাম সাধারণত একই মানের হলুদ সোনার কাছাকাছি থাকে। তবে চূড়ান্ত মূল্য নির্ভর করে ওজন, নকশা, ব্র্যান্ড, শ্রমমূল্য এবং সেই সময়ের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সোনার দামের ওপর। অনেক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ডিজাইনের কারণে দাম আরও বেশি হতে পারে।
বাংলাদেশের বাজারে ৬ আগস্ট ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায়। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা।
সাদা সোনার গহনা/ ছবি: পেক্সেলস
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকায়।
সাদা সোনা কেনার সময় কী দেখবেন?
গহনা কেনার আগে ক্যারেট অবশ্যই যাচাই করতে হবে। হলমার্ক আছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া জরুরি। বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কেনা নিরাপদ।
আরও পড়ুন
ভরি-ক্যারেট-হলমার্ক / সোনা কেনার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
যদি নিকেলে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে প্যালাডিয়াম-ভিত্তিক সাদা সোনা বেছে নেওয়া ভালো। প্রয়োজনে বিক্রেতার কাছ থেকে ব্যবহৃত সংকর ধাতুর তথ্যও জেনে নেওয়া যেতে পারে।
রং নষ্ট হলে কী করবেন?
রোডিয়ামের প্রলেপ দীর্ঘদিন ব্যবহারে ক্ষয়ে যেতে পারে। তখন গহনায় হালকা হলদে আভা দেখা দিতে পারে। এটি স্বাভাবিক।
এ অবস্থায় দক্ষ জুয়েলারির মাধ্যমে ফের রোডিয়াম প্রলেপ দিলে আগের উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।
তীব্র রাসায়নিক পদার্থ, ব্লিচ কিংবা শক্তিশালী ক্লিনার থেকে গহনা দূরে রাখা ভালো। ব্যবহারের পর নরম কাপড়ে মুছে সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
বিনিয়োগের জন্য কি সাদা সোনা ভালো?
বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে সাদা সোনা ও হলুদ সোনার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য খুব বেশি নেই। কারণ মূল্য নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সোনার বিশুদ্ধতা ও ওজন।
আরও পড়ুন
সোনা কেন কিনে রাখবেন?
তবে গহনা বিক্রির সময় মেকিং চার্জের পুরো অর্থ সাধারণত ফেরত পাওয়া যায় না। তাই কেবল বিনিয়োগের জন্য গহনা কেনার বদলে অনেকেই সোনার বার বা কয়েনকে বেশি উপযোগী মনে করেন।
অন্যদিকে ব্যবহার, নকশা ও সৌন্দর্যের কথা বিবেচনা করলে সাদা সোনা আধুনিক ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় একটি বিকল্প।
সূত্র: গোল্ড কনসাল, এজেলাক্স, ব্রাইডস ডটকমকেএএ/
বিজ্ঞাপন