বিজ্ঞাপন
গ্যাস সংকট, নিয়ন্ত্রণহীন লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ভূতুড়ে বিল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সারাদেশে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। জাগো নিউজের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—
বরিশাল
দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে নগরীর টাউন হলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।
এতে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের ওপর অস্বাভাবিক ও ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ভোলা
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. হারুনুর রশিদের নেতত্বে বিকেলে ভোলা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। এসময় তিনি বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে জনগণের আস্থা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। সরকারকে দ্রুত এসব দাবি নেমে কার্যক্রর ব্যবস্থা নিতে হবে।
দিনাজপুর
দুপুরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিবেবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আফতাব উদ্দীন মোল্লা, জাগপার কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরুল কায়েস রুপম, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি দিনাজপুর জেলার সভাপতি রুহুল আমিন, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান পলাশ প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গা
দুপুরে চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন জোটের নেতারা। সমাবেশে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আনোয়ারুল হক মালিক ও বর্তমান সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে শিল্প, কৃষি ও জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত, ভূতুড়ে বিল বন্ধ, বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আলমগীর হোসেন, খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা শফিকুল ইসলাম, জামায়াতের জেলা যুব বিভাগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপুসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফেনী
দুপুরে ফেনীতে কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।
এর আগে বিক্ষোভ মিছিলে বক্তারা বলেন, জেলার অধিকাংশ এলাকায় কয়েক দিন ধরে গ্যাস না থাকায় গৃহস্থালি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানায় চরম সংকট তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অযৌক্তিক বিদ্যুৎ বিল ও মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। এসময় তারা বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেটের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানান।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা জামায়াতের সম্পাদক মাওলানা আবদুর রহিম, শহর জামায়াতের আমির প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম, এনসিপির জেলা সদস্যসচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, এবি পার্টির জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক আফলাতুন বাকি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা নাজমুল আলম, জাগপার জেলা সভাপতি মো. সাইফুদ্দিনসহ জোটের নেতৃবৃন্দ।
কুমিল্লা
বিকেলে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজি আক্তারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি দেন জোটটির নেতারা। এর আগে, নগরীতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, এবি পার্টির কুমিল্লা জেলা সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ তোফিক, মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবুর রহমান, খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের জামাল, ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েতসহ জোটের নেতৃবৃন্দ।
কেএইচকে/জেআইএম
বিজ্ঞাপন