বিজ্ঞাপন
দিনভর কাজের ব্যস্ততা, অফিসের মিটিং কিংবা আড্ডার ফাঁকে অনেক সময় এক কাপ গরম চা ঠান্ডা হয়ে যায়। তখন অনেকেই সেটি আবার গরম করে পান করেন। এমনকি অনেক চায়ের দোকানেও একই চা বারবার ফুটিয়ে পরিবেশন করা হয়। এতে চায়ের গন্ধ, স্বাদ এবং সতেজতা যেমন কমে যায়, তেমনি পুষ্টিগুণও উল্লেখযোগ্যভাবে নষ্ট হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার গরম করা চা নিয়মিত পান করার অভ্যাস শরীরের জন্যও খুব একটা উপকারী নয়।
পুনরায় গরম করা চা কি নিরাপদ
চা তৈরি হওয়ার পর দীর্ঘ সময় রেখে আবার গরম করলে এর রাসায়নিক গঠনে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে চায়ের সুগন্ধি যৌগগুলো ভেঙে যেতে শুরু করে, ফলে চায়ের স্বাভাবিক স্বাদ ও সুবাস নষ্ট হয়। দুধ-চা হলে দীর্ঘ সময় কক্ষ তাপমাত্রায় রেখে পরে গরম করলে জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই চা বারবার গরম করে খাওয়ার বদলে টাটকা চা পান করাই ভালো।
ঠান্ডা হয়ে যাওয়া চা পুনরায় গরম করার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কমে যেতে পারে
চায়ের অন্যতম উপকারী উপাদান হলো পলিফেনল ও ক্যাটেচিনজাতীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। দীর্ঘ সময় ধরে চা গরম রাখলে বা বারবার ফুটালে এই উপকারী উপাদানের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। ফলে এক কাপ তাজা চা থেকে যে উপকার পাওয়া সম্ভব, পুনরায় গরম করা চা থেকে তা নাও মিলতে পারে।
দীর্ঘ সময় ধরে ফুটতে থাকা চা পুষ্টিগুণ হারাতে পারে
স্বাদ তিতা হওয়ার কারণ
চা অতিরিক্ত সময় গরম হলে ট্যানিনের স্বাদ আরও প্রকট হয়ে ওঠে। এতে চায়ের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পানীয়টি তিতা বা কষাটে লাগতে পারে। একই সঙ্গে ক্যাফিনের স্বাদও তুলনামূলক তীব্র মনে হতে পারে, যা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর।
দুধ-চা বেশি সময় রেখে খাওয়া ঠিক নয়
দুধ মেশানো চা সবচেয়ে বেশি সতর্কতার সঙ্গে পান করা উচিত। দুধযুক্ত চা অনেকক্ষণ বাইরে রেখে দিলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। পরে সেটি শুধু গরম করলেই সব ঝুঁকি দূর হয় না। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় রাখা দুধ-চা পান করলে পেটের অস্বস্তি, বমি, ডায়রিয়া বা খাদ্যবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বারবার ফুটালে হজমেও প্রভাব পড়তে পারে
অতিরিক্ত গরম করা চায়ের স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তিত হওয়ায় অনেকের ক্ষেত্রে অম্লতা, বুকজ্বালা বা বদহজমের সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যাদের গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা সংবেদনশীল পাকস্থলীর সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য বারবার গরম করা চা এড়িয়ে চলাই ভালো।
আরও পড়ুন
কাঁচা মরিচ নাকি শুকনো মরিচ, স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপকারী
চা সংরক্ষণে যা করবেন
যদি একবারে বেশি চা তৈরি করতেই হয়, তাহলে সেটি দীর্ঘ সময় চুলায় ফুটিয়ে না রেখে একটি থার্মোস ফ্লাস্কে সংরক্ষণ করুন। এতে চা কিছুটা সময় গরম থাকবে এবং বারবার ফুটানোর প্রয়োজন হবে না। তবে দুধ-চা হলে যত দ্রুত সম্ভব পান করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
আরও পড়ুন
হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেলে যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, চা তৈরি করার ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যেই পান করা সবচেয়ে ভালো। এতে চায়ের স্বাদ, সুগন্ধ এবং উপকারী উপাদান অনেকটাই অক্ষুণ্ন থাকে। প্রয়োজন হলে অল্প পরিমাণে বারবার টাটকা চা তৈরি করুন। এতে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমবে, পাশাপাশি প্রতিটি কাপে মিলবে চায়ের আসল স্বাদ ও সতেজতা।
সূত্র: হেলথ লাইন, এনডিটিভি ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন