বিজ্ঞাপন
একজন শিক্ষক আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান হলে একটি প্রজন্মকে আলোকিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম।তিনি বলেন, একটি শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়েই একজন শিক্ষকের দায়িত্ব শেষ হয় না। শিশুর মেধা, মনন, নৈতিকতা ও ভবিষ্যতের ভিত গড়ে তোলার গুরুদায়িত্বও শিক্ষকের ওপর বর্তায়।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে পটিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পটিয়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এমপি এনামুল হক বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তির ওপর। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শুধু পাঠদান করেন না, তারা একটি শিশুর স্বপ্ন, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ গড়ে দেন। তাই মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, শুধু বিদ্যালয়ের ভবন, অবকাঠামো কিংবা আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল শিক্ষক। একজন শিক্ষক যদি নিজের দায়িত্বকে শুধু চাকরি হিসেবে না দেখে মহান পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের জীবন বদলে দেওয়া সম্ভব।
এমপি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ পরিচালনা করবে। তাদের শুধু ভালো ফলাফল করালেই হবে না, সৎ, মানবিক, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
পটিয়ার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পর্যায়ে সাফল্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, পটিয়ার শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছে। তাদের এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা খুঁজে বের করে বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।
মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন অর্থনৈতিক বা সামাজিক কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণে পিছিয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এমপি এনাম আরও বলেন, শিক্ষক, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় যত বেশি হবে, শিক্ষার পরিবেশ তত সুন্দর হবে। পটিয়ার প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হক। উদ্বোধক ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ। বিদায়ী অতিথি ছিলেন সাবেক পটিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কর্মকার।
এ ছাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আশীষ কুমার ধর, উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ আবুল মনসুর, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল হোসেন, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জবরুত খান, বিশু দেসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সাংগঠনিক প্রতিবেদন পাঠ করেন পটিয়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মনছুর আলম চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন সমিতির সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান।
বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির মহাসচিব সাবেরা বেগম, মুহাম্মদ ইয়াছিন নুর, সিমকি রক্ষিত, শিশির কান্তি মিত্র, মিহির কান্তি দে, অসীম চক্রবর্তী, অপরেশ দাশ ও প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রামের সাংগঠনিক সচিব মুহাম্মদ ওবাইদুল্লাহসহ অনেকে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন সুবাইতা মালিয়াত।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং বিদ্যালয়কেন্দ্রিক সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভা শেষে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, গুণী শিক্ষক এবং বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে গৌরব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এমআরএএইচ/জেএইচ
বিজ্ঞাপন