জাতীয়

মেসির গল্প কাঁদাচ্ছে বিশ্বকে, ‘বাবাকে জড়িয়ে ধরার অপেক্ষায় থাকতাম’

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
লিওনেল মেসির জীবনে ফুটবল যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল পরিবার। আর সেই পরিবারের সবচেয়ে প্রভাবশালী মানুষদের একজন ছিলেন তার বাবা হোর্হে মেসি। মাঠে মেসির প্রতিটি সাফল্য, ব্যর্থতা কিংবা কঠিন সময়ে নীরবে পাশে থাকা এই মানুষটিই ৬৮ বছর বয়সে দীর্ঘ অসুস্থতার পর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। বাবার মৃত্যুর পর তাই মেসির পুরোনো কথাগুলো নতুন করে সামনে এসেছে। যেখানে ফুটবল কিংবদন্তিকে দেখা যায় একেবারেই অন্যরকম, এক সন্তানের ভূমিকায়। ২০১৯ কোপা আমেরিকার আগে এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক গাস্তোন রেকোন্দো মেসিকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তোমার বাবা কেমন?’ উত্তর দিতে গিয়ে নিজের বাবার সঙ্গে সম্পর্কের এমন এক ছবি এঁকেছিলেন মেসি, যা আজ আরও বেশি আবেগঘন। মেসি বলেছিলেন, হোর্হে ফুটবলকে ভীষণ ভালোবাসতেন। তার সঙ্গে ফুটবল নিয়ে অনেক আলোচনা হতো। বার্সেলোনা কিংবা আর্জেন্টিনার ম্যাচ সবকিছু নিয়েই বাবার সঙ্গে কথা বলতেন তিনি। মেসি বলেন, ‘সে ফুটবল ভালোবাসে, ভীষণ উপভোগ করে এবং ফুটবল নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে। বিশেষ করে আমার সঙ্গে। আমরা আমার খেলা ম্যাচ, বার্সেলোনা ও জাতীয় দলের ম্যাচ নিয়ে কথা বলি।’ তবে বাবাকে নিয়ে মেসির সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া কথাগুলো ছিল ফুটবলের বাইরের জীবন নিয়ে। মেসি জানান, ছোটবেলায় তার বাবা ভোর ৪টায় কাজে বের হতেন এবং রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফিরতেন। সারাদিন কাজের কারণে বাবার সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ হতো না। তার ভাষায়, ‘আমার বাবা ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠতেন এবং প্রতিদিন রাত ৯টায় রাতের খাবারের সময় বাড়ি ফিরতেন। আমরা একে অপরকে খুব বেশি দেখতাম না। আর যখন দেখতাম, তখন সেই সময়টা আমি খুব উপভোগ করতাম।’। এরপরই আসে সবচেয়ে আবেগী অংশটি, ‘তিনি কখনো আমার ওপর চিৎকার করতেন না। আমি তাকে খুব উপভোগ করতাম, কারণ আমি তাকে মিস করতাম এবং তিনি কখন বাড়ি ফিরবেন, কখন তাকে জড়িয়ে ধরতে পারবো সেই অপেক্ষায় থাকতাম।’ বাবার সঙ্গে নিজের তখনকার সম্পর্কের তুলনাও করেছিলেন মেসি। তিনি বলেছিলেন, নিজের সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও সিরোর সঙ্গে প্রায় সারাদিন সময় কাটাতে পারেন তিনি। সকালে অনুশীলনের পর সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটান, সপ্তাহান্তে ম্যাচ খেলতে ভ্রমণ করেন, আবার ফিরে এসে সন্তানদের পাশে থাকেন।তার ভাষায়, ‘বাবার মতোই সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা করেন তিনি, তবে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে তার শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকে পার্থক্য রয়েছে।’ হোর্হের প্রতি মেসির ভালোবাসার আরেকটি স্মরণীয় উদাহরণ ২০০৮ সালের একটি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ। উরুগুয়ের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-১ ব্যবধানের জয়ে গোল করেছিলেন মেসি। গোলের পর জার্সি তুলে ভেতরে থাকা টি-শার্টে লেখা বার্তা দেখিয়েছিলেন তিনি, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি, বাবা।’ সেদিন হোর্হে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। মেসি জানতেন, ফুটবল তার বাবার কাছে কতটা প্রিয়। তাই মাঠে গোল করেই বাবাকে উপহার দিতে চেয়েছিলেন সেই মুহূর্তটি। মেসি পরে বলেছিলেন, ‘আমার বাবা তখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার পাশে থাকার এবং তার কাছাকাছি থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় ছিল এটি। আমি জানতাম, তিনি আমাকে খেলতে দেখতে কতটা ভালোবাসেন, কতটা ভোগেন। তাই মনে হয়েছিল, এটা তার জন্য একটি ভালো উপহার হবে।’ হোর্হে নাকি সেই উদযাপনের কথা আগে থেকে জানতেনই না। মেসি বলেছিলেন, তিনি এমনিতেই গোল করে খুব বেশি উদযাপন বা কাউকে কিছু উৎসর্গ করেন না। তাই টি-শার্টে লেখা সেই বার্তাটি বাবার জন্য ছিল একেবারেই বিশেষ চমক। আজ হোর্হে মেসি নেই। কিন্তু মেসির জীবনের অসংখ্য মুহূর্তে তিনি থেকে যাবেন। একটি গোলের পর জার্সির নিচে লেখা ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি, বাবা।’ ম্যাচ শেষে বাবার মতামত জানতে চাওয়া ছেলেটির স্মৃতিতে, আর সেই সন্তানের হৃদয়ে যে প্রতিদিন রাত ৯টায় বাবার বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকত শুধু তাকে একবার জড়িয়ে ধরবে বলে। আরআর/আইএন
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>