সারাদেশ

শ্যামনগরের বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিতে হাইকোর্টের রুল

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
6 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত খাবার পানির সরবরাহ নিশ্চিতের দাবিতে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে শ্যামনগরবাসীর জন্য সুপেয় পানি সরবরাহের বিষয়ে রাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদন ৬০ দিনের মধ্যে হলফনামা আকারে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনকারী সংস্থার পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. কাওছার, মাকসুদুর রহমান ও মারুফ হাসান তমাল। এর আগে সংশ্লিষ্ট দাবিতে মানবাধিকার সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। এতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক এবং সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক বিবাদী করা হয়। আইনি নোটিশ পাঠানোর পরও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় পরবর্তীতে শ্যামনগরবাসীর নিরাপদ ও পর্যাপ্ত খাবার পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করা হয়। আরও পড়ুন দণ্ডিত আসামিদের তথ্য কেন ডিজিটালাইজেশন করা হবে না, হাইকোর্টের রুল শুনানিতে বলা হয়, নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার অধিকার সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের আলোকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের অংশ এবং এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। রিটে উল্লেখ করা হয়, শ্যামনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকট চলছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে অধিকাংশ নলকূপ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুলাই মাসে এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এলাকার অনেক মানুষ নিরাপদ পানির জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। নারী ও শিশুরা পানি সংগ্রহের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করছে। ধুমঘাট এলাকার বাসিন্দা শেফালি রানী মণ্ডলের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, তিনি প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে এবং নদী সাঁতরে পানি সংগ্রহ করেন। এতে পারিবারিক জীবন, শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিকব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রতিবছর একই সময়ে সংকট তীব্র হওয়ার বিষয়টি জানা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার পরিচায়ক বলে রিটে উল্লেখ করা হয়। এই প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার পল্লব বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ইতিপূর্বে সুপেয় পানি পাওয়ার অধিকারকে সাংবিধানিক এবং মৌলিক অধিকার দাবি করে কোনো মামলা হয়নি। এই মামলা দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জীবনধারণের মৌলিক প্রয়োজনের নিশ্চয়তা বিধানে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে। ভবিষ্যতে যে কোনো নাগরিক সুপেয় পানি হতে বঞ্চিত হলে সরাসরি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারবেন।’ এফএইচ/একিউএফ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>