বিজ্ঞাপন
মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল পাওয়ার পর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে ছুটে আসেন গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা। তাদের স্বাগত জানাতে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেন স্কুলের স্কাউটের সদস্যরাও। ঢাকের তালে তালে সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এমন দৃশ্য দেখা যায়। কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে শিক্ষার্থীদের অনেকেই মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানে আসেন। এ সময় তাদের ফুল ও বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই আনন্দে সহপাঠীদের সঙ্গে সময় কাটান। কেউ কেউ মা-বাবাকে নিয়ে ছবি তোলেন। আবার সন্তানের সাফল্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অভিভাবকরাও।
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন তামিম জুবায়ের। ফল পাওয়ার পর মা উম্মে হাবিবা ও বাবা আব্দুল হালিম বাপ্পীকে সঙ্গে নিয়ে কলেজে আসেন তিনি।
তামিম বলেন, ‘এ বছর পরীক্ষার প্রস্তুতি গোছানো ও সুন্দরভাবে নিয়েছিলাম। প্রথম দিকে একটু ভয় কাজ করছিল। তবে প্রতিটি পরীক্ষাই ভালো হয়েছে। আনন্দটা ভাগাভাগি করতেই মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে কলেজে এসেছি।’
এদিকে, গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার পর বাবা এ এম এন ডক্টর সাইফুল আলমকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে আসেন মোহাম্মদ শাফিন শাহরিয়ার। তিনিও মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
শাফিন শাহরিয়ার বলেন, ‘সর্বপ্রথম মহান রাব্বুল আলামিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে আমার অভিভাবক ও শিক্ষক মণ্ডলীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
শাফিনের বাবা ড. সাইফুল আলম বলেন, ‘আমার ছেলে ভালো ফল করেছে, এতে আমি অনেক খুশি। শিক্ষক মণ্ডলীর অক্লান্ত পরিশ্রম, দিকনির্দেশনা ও পরামর্শের পাশাপাশি আমার সন্তানের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।’
আব্দুস সালাম নামেৃএক অভিভাবক বলেন, ফল প্রকাশের পর সন্তানের মুখে হাসি দেখার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এতদিনের অপেক্ষা ও দুশ্চিন্তার পর আজকের দিনটি আমাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’
আরেক অভিভাবক বলেন, ‘সন্তানকে পড়াশোনায় মনোযোগী রাখতে পরিবার থেকে চেষ্টা করেছি। একই সঙ্গে স্কুলের শিক্ষকরা সবসময় পাশে ছিলেন। আজকের ফলাফল দেখে মনে হচ্ছে আমাদের সেই চেষ্টা সফল হয়েছে।’
এসএসসিতে পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন অংশ নেয়।
এসএসসিতে এবার পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। দাখিলে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ১৭৬ জন।
এসএসসিতে ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে, ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
ইএআর/এসএনআর
বিজ্ঞাপন