জাতীয়

কলকাতার আরজি করের ঘটনায় নতুন মোড়

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আবারও নতুন মোড় এসেছে। ঘটনার দুই বছর পর পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তর পৃথকভাবে বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ঘটনায় ২০২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে ভারতজুড়েও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার প্রায় দুই বছর পরও নির্যাতিতার পরিবার বলছে, তারা পূর্ণাঙ্গ বিচার পায়নি। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। এবার রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর আরজি করের ঘটনা নিয়ে পৃথক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় স্বাস্থ্য দপ্তর আলাদাভাবে তদন্ত করছে। তিনি বলেন, ঘটনার দিন রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে যারা ছিলেন, তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে। তদন্তের প্রয়োজনে তাদের তলবও করা হতে পারে। নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ঘটনার সময় হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হবে। ‘দুইদিক থেকেই তদন্ত হচ্ছে’ স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন তদন্তের ঘোষণার পর নির্যাতিতার বাবা শেখর রঞ্জন দেবনাথ বলেন, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তার মেয়ে আর ফিরে আসবে না। তিনি বলেন, যতদিন তিনি বেঁচে থাকবেন, ততদিন মেয়ের জন্য বিচার পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তার কথায, আগে একদিক থেকে তদন্ত চলছিল। এখন দুইদিক থেকেই তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার দ্রুত বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা করছে বলেও দাবি করেন তিনি। নির্যাতিতার বাবা আরও বলেন, সিবিআইয়ের তদন্তকারী দলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরোনো কর্মকর্তাদের সরিয়ে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা মামলার বিভিন্ন প্রমাণ ও নথি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তবে তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সরকারের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ওই সময়ের রাজ্য সরকার ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। ‘আমরা এখনো বিচারের আশায়’ নির্যাতিতার মা বিজেপির বিধায়ক রত্না দেবনাথ বলেন, তার মেয়ের জন্মদিন ও মৃত্যুর দিন একই তারিখে পড়েছে। তিনি বলেন, মেয়েকে হারানোর পরও পরিবার এখনো বিচারের আশায় রয়েছে। রাজ্য সরকার তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করছে বলেও দাবি করেন তিনি। ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত এক নারী চিকিৎসকের মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভবন থেকে উদ্ধার করা হয়। তদন্তে ওই চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গসহ পুরো ভারতে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেয়। ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নামেন। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। মামলায় সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে শিয়ালদহ আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে নির্যাতিতার পরিবার ও আন্দোলনকারীদের একটি অংশের অভিযোগ, মামলার সব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। এবার রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের পৃথক তদন্তে নতুন কোনো তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে। ডিডি/কেএএ/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>