বিজ্ঞাপন
বগুড়ায় এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় চরম ফল বিপর্যয় ঘটেছে ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের একজনও পাস করতে পারেনি। শূন্য পাসের তালিকায় থাকা এই ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আটটিই দাখিল মাদরাসা এবং একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বগুড়ার এই চিত্র সামনে আসে। এমন উদ্বেগজনক ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- গাবতলী উপজেলার কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদরাসা; শিবগঞ্জ উপজেলার বালা বত্রিশ দাখিল মাদরাসা, ধাড়িয়া গাংগইট দাখিল মাদরাসাও দুদাহার রহমানিয়া দাখিল মাদরাসা; শেরপুর উপজেলার কল্যাণী বালিকা দাখিল মাদরাসা ও মধ্যভাগ বালিকা দাখিল মাদরাসা; ধুনট উপজেলার হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল বিএম কলেজ ও রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদরাসা এবং সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর পিএম দাখিল মাদরাসা।
এমন ভরাডুবির বিষয়ে জানতে চাইলে গাবতলীর কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদরাসার সুপার আব্দুল জলিল বলেন, আমার ৫০ বছরের কর্মজীবনে এটি সবচেয়ে দুর্বল ব্যাচ। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এক বা দুটি বিষয়ে ফেল করায় কেউ পাস করতে পারেনি। কেন এমন ফল হলো, বুঝতে পারছি না।
আরও পড়ুন
ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন মা, দুজনই পেয়েছেন জিপিএ-৫
অন্যদিকে, শিবগঞ্জের বালা বত্রিশ দাখিল মাদরাসা থেকে এবার পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির সুপার জুয়েলুর রহমান বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি নন-এমপিওভুক্ত। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনায় অনাগ্রহের কারণে ফল এমন খারাপ হয়ে থাকতে পারে।
বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তার বলেন, ৯টি প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানার জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো শিক্ষক সংকট আছে কিনা, কিংবা অন্য কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে কিনা সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে। মূল কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনএইচআর/এএসএম
বিজ্ঞাপন