জাতীয়

পিরোজপুরে ৮ শিক্ষার্থীর ৭ শিক্ষক, তবু ফেল সবাই

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
4 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলার পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আছেন সাতজন, এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল আটজন। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা গেলো পাস করেনি একজনও। এমন ফলাফল ঘিরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক না থাকা এবং শিক্ষকদের গাফিলতিই এমন ফলাফলের অন্যতম কারণ। অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থী বলেন, অনেক দিন স্যাররা ঠিকমতো ছিলেন না। ক্লাস করানোর মতো শিক্ষকও ছিল না। অংক ও ইংরেজির শিক্ষক ছিল না। ক্লাসও কম হয়েছে। অনেক সময় স্যাররা ছুটি দিয়ে দিতেন, তাই আমরা চলে যেতাম। অভিভাবক বাসুদেব সাহা বলেন, অভিভাবক হিসেবে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। চার-পাঁচটি বিষয়ে প্রাইভেট পড়িয়েছি। নিয়মিত চেষ্টা করছি। কিন্তু স্কুলে স্যাররা কী করছেন, বলতে পারছি না। স্কুলে গেছে আর আসছে। ক্লাসের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত স্কুল হয়নি। কখনো ১০টায় গিয়ে ১১টায় চলে এসেছে। শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস নিতেন না, তাই শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যেতে চাইতো না। এলাকাবাসীর ভাষ্য, একসময় পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সুনাম ছিল। প্রতিবছরই শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করত। কিন্তু এবার আটজন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় তারা হতাশ। ওই এলাকার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক। আগে শিক্ষক কম ছিল, এখন আগের চেয়ে চারজন শিক্ষক বেশি। তারপরও সবাই ফেল করেছে। এর দায় কে নেবে? এলাকার জন্যও বিষয়টি অত্যন্ত খারাপ এবং লজ্জাজনক। আরও পড়ুন এসএসসিতে টাঙ্গাইলের ৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউই পাস করেনি তিনি বলেন, স্কুল সাধারণত দুইটার পরও চলার কথা, কিন্তু অনেক সময় তার আগেই ছুটি হয়ে যায়। স্কুলে কমিটিও নেই। ফলে স্কুল কেন বন্ধ হচ্ছে, কেন শিক্ষার্থীরা পাস করছে না এগুলো জিজ্ঞেস করার মতো কার্যকর কেউ নেই। প্রতিবাদ করারও কেউ নেই। কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ না হওয়ার বিষয়ে জে.কে পঞ্চগ্রাম নেছারিয়া বালিকা দাখিল মাদরাসার ইংরেজি শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকেরা যদি আরও একটু সচেতন ও দায়িত্বশীল হতেন, তাহলে ফলাফল আরও ভালো হতে পারতো। হয়তো কিছু ভালো শিক্ষার্থীও পাস করতো। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন পরীক্ষার্থীও পাস করবে না এটা কখনোই কাম্য নয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ৮ থেকে ১০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে, অথচ সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। সেখান থেকে অন্তত তিন-চারজন শিক্ষার্থী পাস করা উচিত ছিল। পিরোজপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, শতভাগ ফেল করা বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল আমরা পর্যালোচনা করছি। ফল খারাপ হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হবে। জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মো. তরিকুল ইসলাম/এনএইচআর/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>