বিজ্ঞাপন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে পঞ্চমদিনের মতো আজ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আজকের শুনানিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও ওবায়দুল কাদেরের একটি ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানো হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
ফোনকলে হাছান মাহমুদ বলেন: জি আপা স্লামালাইকুম।
শেখ হাসিনা: ফোন করছিলে
হাছান মাহমুদ: না না তখন চাপ পড়ে গেছিল, সরি।
শেখ হাসিনা: ও হো।
হাছান মাহমুদ: কাদের ভাই রেখেছিল। তখন আবার চাপ পড়ে গেছিল। সরি।
শেখ হাসিনা: ওরা কিন্তু সব ওই জায়গায় আবার তৈরি হচ্ছে, শুধু আগুন দিয়ে পুড়াবে সব।
হাছান মাহমুদ: হ্যাঁ হ্যাঁ।
শেখ হাসিনা: বুঝছো?
হাছান মাহমুদ: জি আপা, আপনি কাদের ভাইকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
শেখ হাসিনা: না, আমাদের লোক থাকতে বলো। ওরা আগুন দিয়ে পুড়াবে তো, তাদের বাড়ি–গাড়ি আছে, এখন সেগুলো পাবলিক দিয়ে পুড়াবে আর কী করবে।
হাছান মাহমুদ: জি জি।
শেখ হাসিনা: আমাদের অন্য কিছু করে লাভ নাই। তোরাও পুড়াবি আয়, আমরাও পুড়াব।
হাছান মাহমুদ: জি জি রাইট, এটাই টিট ফর ট্যাট। জি আপা। কাদের ভাই আছে। জাস্ট একটা গায়েবানা জানাজা পড়ে আমরা চলে আসবো, যেহেতু প্রোগ্রাম দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার যার গন্তব্যে মহল্লায় মহল্লায় চলে যাবো।
শেখ হাসিনা: না, যার যার এলাকায়।
হাছান মাহমুদ: জি জি রাইট। যার যার এলাকায়।
শেখ হাসিনা: বিভিন্ন এলাকায় লোক ঠিক করো...সব নেতাকর্মীদের এভাবে ব্যবস্থা কবো।
হাছান মাহমুদ: কাদের ভাইকে একটু দিচ্ছি।
শেখ হাসিনা: প্রত্যেকটা এমপিকে ডাক, খবর দাও। প্রত্যেক এলাকায় যার যার প্রটেকশন দিতে হবে।
ওবায়দুল কাদের: জি জি।
শেখ হাসিনা: না, ওই যে তোমার সেতু ভবনে আবার আগুন লাগাচ্ছে। আমি র্যাব পাঠাচ্ছি আর আমি বলছি যে যেখানে যেখানে গ্যাদারিং, আছে সব জায়গায় র্যাব। আর ওরা আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘর আছে না, এখন আর বসে থাকার সময় নেই। আমাদেরও বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘরে আগুন পাবলিক দেবে। ওদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কী কী আছে খুঁজে বের করো। আজকে তাদের একটাই কাজ, সব জায়গায় বসে থাকবে আর খালি আগুন দেবে।’
ওবায়দুল কাদের: সেটাই, পুলিশ কমিশনার সে কথাই বললো। জি, আমাদের তো ঠেকাতে হবে।
এফএইচ/এমএএইচ/
বিজ্ঞাপন