জাতীয়

স্ট্রেচারে আদালতে, অসুস্থ আসামিকে চিকিৎসার পরামর্শ বিচারকের

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
3 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
চার কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর মাগুরা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার আদালতে এসেছিলেন পদ্মা ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা রুহুল আমিন পলাশ। শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ এই আসামিকে পরে স্ট্রেচারে করে এজলাসে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১১ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় নিয়ে আপাতত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আদালত। পলাশের আইনজীবী মো. রমজান আলী রিপন জানান, পলাশ দীর্ঘদিন স্নায়ুজনিত জটিলতায় ভুগছেন। তার কোমর থেকে নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে। তিনি অন্যের সহায়তা ছাড়া চলাফেরা কিংবা দৈনন্দিন কাজ করতে পারেন না। আদালতে আসামির শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে জামিনের আবেদন করা হয়। আইনজীবী আদালতকে বলেন, পলাশ ব্যাংকের একজন জুনিয়র কর্মকর্তা ছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা ছাড়া তিনি কোনো অর্থ আত্মসাৎ বা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। আরও পড়ুন মাগুরায় শিশু ধর্ষণ-হত্যা: হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু শুনানিতে আসামির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আদালত বলেন, তাকে কারাগারে পাঠানো হলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল বা কারা হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ পর্যায়ে আইনজীবীর পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণের আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে পলাশের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেন। শারীরিকভাবে সুস্থ হলে পরবর্তীতে তাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। এর আগে সকালে মাগুরার মোহাম্মদপুরের দোহিল গ্রামের বাড়ি থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার আদালতে পৌঁছান পলাশ। তার সঙ্গে ছিলেন বাবা রেজাউল করিম ও স্ত্রী। আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর পর তাকে স্ট্রেচারে করে এজলাসে নেওয়া হয়। শুনানি শেষে দুপুরের পর আবার অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালত এলাকা ত্যাগ করেন তিনি। মামলার অভিযোগ দুদকের অভিযোগ, দ্য ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) লিমিটেডের জামালপুরের বকশীগঞ্জ শাখা থেকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে চার কোটি তিন লাখ ৪১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ অভিযোগে ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক সহিদুর রহমান সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা করেন। মামলায় প্রথমে পাঁচজনকে আসামি করা হয়। তারা হলেন- ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী, তার মেয়ে রিমি চিশতী, সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার ফখরুজ্জামান, সাবেক ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার রুহুল আমিন পলাশ এবং কামরুজ্জামান। আরও পড়ুন ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারি / সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন পেছাল তদন্ত শেষে বকশীগঞ্জ শাখার সাবেক প্রধান ও ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুদুর রহমান খানকেও আসামি করে দুদক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান গত বছরের ৬ অক্টোবর আদালতে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি আদালত অভিযোগপত্র আমলে নেন। ওই সময় পলাতক থাকায় মাসুদুর রহমান, ফখরুজ্জামান, রুহুল আমিন পলাশ ও কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলার আরেক আসামি বাবুল চিশতী কারাগারে এবং রিমি চিশতী জামিনে রয়েছেন। পলাশের বাবা রেজাউল করিম বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই পলাশ নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। কয়েক বছর ধরে তিনি প্রায় শয্যাশায়ী। এমনকি অন্যের সহায়তা ছাড়া দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজও করতে পারেন না। ছেলের বিরুদ্ধে আনা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, তার ছেলে এ ঘটনায় জড়িত নন এবং তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।  এমডিএএ/কেএসআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>