বিজ্ঞাপন
তিন দশক পর আদালতে গড়াল কিংবদন্তি র্যাপার টুপাক শাকুর হত্যাকাণ্ডের বিচার। ১৯৯৬ সালে লাস ভেগাসে গুলিতে নিহত এই মার্কিন হিপহপ তারকার হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক গ্যাং নেতা ডুয়েন ‘কেফে ডি’ ডেভিসের বিচার শুরু হয়েছে।
গেল সোমবার লাস ভেগাসে মামলার জুরি বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়।
৬৩ বছর বয়সী ডেভিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি টুপাককে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং যে বন্দুক দিয়ে হামলা চালানো হয়, সেটি সরবরাহ করেছিলেন। তবে টুপাককে গুলি করা ব্যক্তিটি তিনি নিজে ছিলেন- এমন অভিযোগ ডেভিসের বিরুদ্ধে নেই। নেভাদা আইনে হত্যাকাণ্ডে সহযোগী হিসেবেও দায়ী করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন
সাড়ে পাঁচ বছরের সম্পর্ক, দেড় বছর আগে বিয়ে করেছেন সোহানা সাবা
বিচারপ্রক্রিয়া প্রায় এক মাস চলতে পারে। তবে তিন দশক আগের সেই হামলায় ঠিক কে গুলি চালিয়েছিল, বিচারে তার নিশ্চিত উত্তর মিলবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
১৯৯৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাতে লাস ভেগাসে মাইক টাইসনের একটি বক্সিং ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন টুপাক। ম্যাচ শেষে তার সঙ্গে ছিলেন ডেথ রো রেকর্ডসের প্রতিষ্ঠাতা সুজ নাইট।
এর আগে এমজিএম গ্র্যান্ড ক্যাসিনোর ভেতরে ডেভিসের ভাতিজা ও ক্রিপস সদস্য অরল্যান্ডো ‘বেবি লেন’ অ্যান্ডারসনের সঙ্গে টুপাক ও তার সহযোগীদের মারামারি হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ডেভিস এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে টুপাককে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরে রাতে একটি সাদা ক্যাডিলাক টুপাকদের গাড়ির পাশে এসে থামে। গাড়িটি থেকে গুলি ছোড়া হলে গুরুতর আহত হন টুপাক। হাসপাতালে নেওয়ার ছয় দিন পর, ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
টুপাক হত্যাকাণ্ড দীর্ঘদিন মার্কিন সংগীতজগতের অন্যতম আলোচিত অমীমাংসিত মামলা হয়ে ছিল। তদন্ত বছরের পর বছর তেমন এগোয়নি। পরে ডেভিসের প্রকাশ্য বক্তব্য ও ২০১৯ সালে প্রকাশিত তার স্মৃতিকথা মামলাটিকে নতুন করে আলোচনায় আনে।
স্মৃতিকথায় ডেভিস জানান, হত্যাকাণ্ডের রাতে তিনি সেই ক্যাডিলাকের সামনের আসনে ছিলেন এবং পেছনে থাকা ব্যক্তিদের হাতে একটি পিস্তল তুলে দিয়েছিলেন। তবে কে টুপাকের দিকে গুলি চালিয়েছিল, তা তিনি বইয়ে বলেননি।
তার এই বক্তব্যসহ আগের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারের তথ্য তদন্তকারীদের নজরে আসে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ডেভিসকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে হত্যার অভিযোগে দোষী নন বলে জানান।
কারাগার থেকে ২০২৫ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেভিস বলেন, তিনি কাউকে হত্যা করেননি এবং তার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো প্রমাণ নেই। নিজের স্মৃতিকথার তথ্য নিয়েও তিনি আপত্তি তোলেন।
তার দাবি, বইটির সহলেখক বিক্রি বাড়ানোর জন্য তার বক্তব্যকে নিজের মতো করে উপস্থাপন করেছেন।গ্যাং নেতা ডেভিস
ডেভিসের আইনজীবীরা তার স্মৃতিকথা এবং ২০০৮ সালে পুলিশের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকার আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের বিরোধিতা করেছিলেন। তবে তা ঠেকাতে পারেননি।
টুপাকের মৃত্যুর পেছনে হিপহপের দ্বন্দ্বওটুপাক হত্যাকাণ্ডের সময় মার্কিন হিপহপে পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের শিল্পীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল। টুপাক ছিলেন লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক ডেথ রো রেকর্ডসের অন্যতম প্রধান তারকা। অন্যদিকে পূর্ব উপকূলের ব্যাড বয় রেকর্ডসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দ্য নোটোরিয়াস বিআইজি।
টুপাকের সঙ্গে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্পর্ক তার হত্যাকাণ্ডকে আরও আলোচিত করে তোলে। উল্লেখযোগ্যভাবে, টুপাক হত্যার মাত্র ছয় মাস পর ১৯৯৭ সালের মার্চে দ্য নোটোরিয়াস বিআইজিও গুলিতে নিহত হন।
‘ক্যালিফোর্নিয়া লাভ’, ‘অল আইজ অন মি’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে টুপাক বিশ্বসংগীতে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার মৃত্যু হলেও হিপহপ সংস্কৃতিতে তাঁর প্রভাব এখনো ব্যাপক।
আরও পড়ুন
অভিনয় ছাড়ছেন না হাসান মাসুদ, বললেন ‘ওই কথা বলাটা আমার ভুল হয়েছে’
এদিকে টুপাকের সৎভাই মরিস শাকুর গত মে মাসে হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি দেওয়ানি মামলা করেন। তার অভিযোগ, টুপাক হত্যার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন ব্যক্তি তিন দশকেও জবাবদিহির আওতায় আসেননি।
ডেভিসের বিচার চলাকালে সেই পুরোনো প্রশ্নই আবার সামনে এসেছে- টুপাককে আসলে কে গুলি করেছিল এবং কেন? তবে এই মামলায় মূলত ডেভিস হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী বা সহযোগী ছিলেন কি না, সেটিই বিচারকদের নির্ধারণ করতে হবে।
এলআইএ
বিজ্ঞাপন