জাতীয়

‘মুরালিধরনকে ছক্কা মারার পরই সাঙ্গাকারার সঙ্গে তুমুল ঝগড়া হয় পাঠানের’

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
7 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
২০০৫ সালের সেই ঘটনা আজও যেন স্পষ্ট মনে আছে ইরফান পাঠানের। দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় ভারত-শ্রীলঙ্কা টেস্টে ব্যাট হাতে নিজের কাজটা দারুণভাবেই করছিলেন ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার; কিন্তু মাঠের উত্তাপ হঠাৎই বদলে দিয়েছিল ম্যাচের একটি আবহ। মুখোমুখি হয়ে গিয়েছিলেন দুই দলের দুই তারকা- ইরফান পাঠান ও কুমার সাঙ্গাকারা। শুরু হয়েছিল কথার লড়াই, যা একপর্যায়ে ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়েও চলে গিয়েছিল। সম্প্রতি সেই পুরোনো ঘটনার কথা সামনে এনে চমকে দিলেন পাঠান। তার দাবি, ওই ম্যাচে বল পরিবর্তন নিয়ে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের অসন্তোষ ছিল। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। ফলে মাঠে নেমে মুত্তিয়া মুরালিধরনকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করার পর সাঙ্গাকারার সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। সেই ম্যাচে ভারতের একাদশে থাকা পাঠানকে ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে তুলে ওপেন করতে পাঠানো হয়েছিল। সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন তিনি। ইনিংসের শুরুতেই মুরালিধরনের মতো বিশ্বসেরা স্পিনারের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ভারতকে এগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বাঁ-হাতি এই ব্যাটার। মুরালিধরনকে পরপর দুটি ছক্কাও মেরেছিলেন পাঠান। আর সেই আক্রমণই যেন আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। উইকেটের পেছন থেকে সাঙ্গাকারা তাকে লক্ষ্য করে কথা বলতে শুরু করেন। পাঠানের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার তারকা শুধু স্লেজিংয়েই থামেননি, ভারতীয় ক্রিকেটারদের ‘চিট’ বা প্রতারক বলেও কটাক্ষ করেছিলেন। পাঠান বলেন, ‘দিল্লিতে একটি টেস্ট ম্যাচ ছিল। আমি ওপেন করেছিলাম এবং ৯৩ রান করেছিলাম। প্রথম ইনিংসের পর আমরা যখন বোলিং করতে যাই, তখন বলের বাক্স বদলানো হয়েছিল বা এ ধরনের কিছু একটা হয়েছিল। শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়রা বিষয়টি নিয়ে খুশি ছিল না। সাঙ্গাকারা তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরব ছিল।’ কিন্তু সেই সময় পুরো বিষয়টি সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না বলে জানিয়েছেন পাঠান। তিনি বলেন, ‘এরপর যখন আমি ব্যাট করতে যাই, তখন কী হয়েছিল সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। আমাকে শুধু ওপেন করতে বলা হয়েছিল।’ ব্যাট হাতে নামার পর অবশ্য মুরালিধরনের ওপর চড়াও হওয়ার সুযোগ পেয়ে যান পাঠান। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা স্পিনারের বলে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেন তিনি। পাঠানের মতে, নতুন বলে মুরালিধরনকে এভাবে আক্রমণ করা মানে শ্রীলঙ্কার পরিকল্পনাকে কিছুটা হলেও এলোমেলো করে দেওয়া। আর সেখান থেকেই শুরু হয় সাঙ্গাকারা-পাঠানের কথার লড়াই। ‘আমি মুরালিধরনকে দুটি ছক্কা মারলাম। সে যদি নতুন বলে ছক্কা খায়, তার মানে আপনি প্রতিপক্ষের পরিকল্পনাকে কিছুটা হলেও ভেস্তে দিয়েছেন। হঠাৎ সাঙ্গাকারা বলতে শুরু করল, তোমরা চিট করো, তোমাদের বাবা-মা তোমাদের এসব শেখায়- এ রকম আরও অনেক কথা। সে ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে গিয়েছিল, আমিও জবাব দিয়েছিলাম। তবে শুরুটা সে-ই করেছিল,’ বলেন পাঠান। মাঠের উত্তাপের সময় এমন ঘটনা ক্রিকেটে নতুন কিছু নয়। প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে স্লেজিং, কথার লড়াই কিংবা মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির চেষ্টা ক্রিকেটের পুরোনো সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু পাঠানের বর্ণনায় এই ঘটনাটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ দুই ক্রিকেটারের সম্পর্ক পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। তিন বছর পরই বদলে যায় পুরো গল্প। ২০০৮ সালে শুরু হয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রথম আসর। নিলামে পাঠান ও সাঙ্গাকারা দুজনই জায়গা পান কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবে। একসময় যারা মাঠে একে অন্যের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়েছিলেন, এবার তাদেরই একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নিতে হচ্ছিল। পরিস্থিতিটা পাঠানের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকরও ছিল। কারণ মাঠের সেই উত্তপ্ত স্মৃতি তখনো তার মনে ছিল। কিন্তু নতুন দল, নতুন পরিবেশ এবং সতীর্থ হিসেবে সাঙ্গাকারাকে পাওয়ার পর পুরোনো ঘটনার বোঝা বয়ে নিয়ে চলতে চাননি তিনি। বরং নিজেই এগিয়ে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন পাঠান। ‘নিলামের পর দেখলাম, পাঞ্জাবে আমাকে সাঙ্গাকারার সঙ্গে খেলতে হবে। এখন আমি তার পরিবারের সঙ্গে খাচ্ছি, আর আমি জানি না কী করব। আমি গিয়ে তাকে বললাম, “সরি”। সেও আমার কাছে ক্ষমা চাইল। এরপর আমরা ভালো বন্ধু হয়ে গেলাম,’ স্মৃতিচারণ করে বলেন পাঠান। ক্রিকেট মাঠের আবেগ যে অনেক সময় খেলোয়াড়দের এমন কিছু কথা বলিয়ে দেয়, যা মাঠের বাইরে তারা কখনোই বলতেন না- সেটিই যেন এই গল্পের সবচেয়ে বড় শিক্ষা। পাঠান নিজেও সেটিই মনে করেন। তার ভাষায়, ‘আবেগ অনেক বেশি থাকে এবং আপনি সব সময় ভুল করেন। গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনি সেই বিষয়টাকে কতটা পরিণতভাবে সামলাচ্ছেন।’ একসময় মুরালিধরনকে ছক্কা মারার পর যে কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন পাঠান ও সাঙ্গাকারা, কয়েক বছর পর সেই দুজনই হয়ে উঠেছিলেন সতীর্থ ও বন্ধু। মাঠের উত্তাপ পেরিয়ে সম্পর্ককে নতুনভাবে শুরু করার সেই গল্পই এখন সামনে আনলেন ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার। আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>