বিজ্ঞাপন
৪৪তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২৭ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক সরকারের অধিযাচিত নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
৪৪তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২৭ জন প্রার্থীর ইন্সট্রাক্টর (বাংলা) ও ইন্সট্রাক্টর (ইংরেজি) পদে নন-ক্যাডার সুপারিশ বাতিলের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মাকসুদুর রহমান এবং মারুফ হাসান তমাল।
এর আগে ২৭ জন নন-ক্যাডার প্রার্থীর পক্ষে রিট দায়ের করা হয়। রিটে পিএসসির চেয়ারম্যান, সচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, আবেদনকারীরা ৪৪তম বিসিএসের সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ইন্সট্রাক্টর পদে নবম গ্রেডে পিএসসি কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
আরও পড়ুন
৪৪তম বিসিএস / সংশোধিত ফলাফলে বাদ পড়লেন কারা, নতুন ক্যাডার কতজন
তবে নিয়োগ বিধি অনুযায়ী বিএড ডিগ্রি না থাকায় পরবর্তীতে তাদের সুপারিশ বাতিল করে দেয় পিএসসি। আবেদনকারীরা যেহেতু সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ পাওয়ার যোগ্য, সেহেতু তাদের অন্য কোনো নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, পিএসসির নিজস্ব অনলাইন সিস্টেমে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ইন্সট্রাক্টর (বাংলা) ও ইন্সট্রাক্টর (ইংরেজি) পদকে উপযুক্ত পদ হিসেবে প্রদর্শন করা হয় এবং প্রার্থীরা তাদের পছন্দক্রমে ওই পদগুলো উল্লেখ করেন।
এর ভিত্তিতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তাদের অস্থায়ীভাবে সুপারিশ করা হয়। তবে পরবর্তীতে গত ২০ মে কোনো শোকজ নোটিশ বা শুনানির সুযোগ না দিয়েই পিএসসি ওই সুপারিশ বাতিল করে। সুপারিশ বাতিলের কারণ হিসেবে প্রার্থীদের বিএড ডিগ্রি না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
রিটে বলা হয়, একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) ও সহকারী শিক্ষক (গণিত) পদে অনুরূপ পরিস্থিতিতে থাকা কয়েকজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে পিএসসি সুপারিশ বাতিল না করে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্থগিত রেখেছে।
অথচ আবেদনকারী ২৭ জনের ক্ষেত্রে কোনো শোকজ বা শুনানির সুযোগ না দিয়ে সুপারিশ বাতিল করা হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক ও আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
গত ২৬ জুলাই প্রার্থীদের পক্ষে আইনজীবীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
রিটে আরও বলা হয়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া, সমতা ও বৈষম্যহীনতার নীতি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ তাকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ না দেওয়া এবং একই ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য কি না, তা আদালতের বিবেচনার বিষয়।
রিটে পিএসসির নিজস্ব অনলাইন ব্যবস্থায় প্রদর্শিত যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থীদের পছন্দক্রম, পরবর্তীতে অস্থায়ী সুপারিশ এবং কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা শুনানির সুযোগ ছাড়াই সেই সুপারিশ বাতিলের বিষয়গুলো আদালতের নজরে আনা হয়।
রিট আবেদনকারীদের দাবি, পিএসসির পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির দায় প্রার্থীদের ওপর চাপিয়ে তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চাকরির সুযোগ বাতিল করা ন্যায়সঙ্গত নয়। একই সঙ্গে একই ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
রিটে ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষায় ২০২১ সালে পিএসসি যে ৯ম থেকে ১১তম গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে চাহিদা দিয়েছিল, সেই পদগুলোর মধ্যে আবেদনকারীদের যোগ্যতা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী কেন তাদের সুপারিশ করতে নির্দেশ দেওয়া হবে না এ মর্মে রুল প্রার্থনা করা হয়েছে। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
এফএইচ/এমকেআর
বিজ্ঞাপন