বিজ্ঞাপন
আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের স্বৈরাচারী কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা সাহস নিয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা।
তিনি বলেন, সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভর করেই একটা নতুন সময় উপহার পেয়েছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মিছিলে নতুন মুখ’ শীর্ষক নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। শুরুতে জুলাই শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য, নাটক, কবিতা আবৃত্তি এবং বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন
‘মিছিলে নতুন মুখ’ শীর্ষক নবীনবরণ আয়োজন জবি ছাত্র ফ্রন্টের
এতে নবীন শিক্ষার্থীরা সংগীত, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন। এছাড়া স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের অনুভূতি ও প্রত্যাশার কথাও শোনা হয়। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহণকারী নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
আলোচনা পর্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিও উত্থাপন করেন বক্তারা।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, “ক্যাম্পাসের দখল কার হাতে থাকবে, শিবিরের হাতে না ছাত্রদলের হাতে থাকবে, তা নিয়ে মারামারি ও শোডাউন হচ্ছে। অথচ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস চালুর দাবিতে বা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে যদি একইভাবে শিক্ষার্থীরা মিছিল করত, সেটিই হতো প্রকৃত ছাত্ররাজনীতি।”
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জবি শাখার সভাপতি ইভান তাহসীব বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের এই উদ্যোগ কোনো অনুষ্ঠান সর্বস্ব না, আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট, এর উত্তরণের উপায় এবং লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছি। নবীন শিক্ষার্থীদের আমরা অসাম্প্রদায়িকতা, নারী স্বাধীনতা সর্বোপরি মানুষের বাকস্বাধীনতার লড়াইয়ে আমরা যেন সচেষ্ট হই সেই বার্তাটা দিয়েছি।
নবীন বরণ অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দীন আহমেদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীব।
এছাড়া সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক নবীন শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
টিএইচকিউ/এমআরএম
বিজ্ঞাপন