বিজ্ঞাপন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর সৃজনশীল কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে শুরু হয়েছে ‘প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’। এ আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর বাড্ডায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্পাইকস্টোরি লিমিটেডের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে তরুণদের সৃজনশীল চিন্তা, নতুন ধরনের গল্প বলার দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা। একই সঙ্গে দেশের সম্ভাবনাময় এআই ক্রিয়েটরদের জাতীয় পর্যায়ে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হবে। অংশগ্রহণকারীরা চারটি বিভাগে তাদের সৃজনশীল কাজ জমা দিতে পারবেন। বিভাগগুলো হলো—এআই বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র, মিউজিক ভিডিও ও ফ্যাশন।
প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মশালার আয়োজন করা হবে। এসব কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং (এআইকে কার্যকর নির্দেশ দেওয়ার কৌশল), গল্প বলাসহ এআইভিত্তিক সৃজনশীল কনটেন্ট নির্মাণের বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন
বন্ধ দুই পাটকল ইজারা পেলো প্রাণ-আরএফএল
প্রাথমিক বাছাই শেষে প্রতিটি বিভাগ থেকে ১২ জন করে ফাইনালিস্ট নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত ফাইনালিস্টদের জন্য আয়োজন করা হবে দুই দিনের বিশেষ ‘প্রিজম এআই বুটক্যাম্প’। সেখানে এআই সরঞ্জাম, সৃজনশীল কৌশল, গল্প বলা ও প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন তারা।
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের পাশাপাশি অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হবে ‘প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ সামিট’ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এর মাধ্যমে এআই, সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি ও শিল্পখাতের বিভিন্ন অংশীজনকে একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিভাগে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীসহ অন্যান্য বিজয়ীদের জন্য সর্বমোট ১০ লাখ টাকা নগদ অর্থ পুরস্কারসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রতিযোগিতার সহযোগিতায় রয়েছে দ্য ডেইলি স্টার, সিবস সল্যুশন, আস্থা আইটি, টেন মিনিট স্কুল, মেরুন ইন-কর্পোরেশন, আলেফ গ্রুপ, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক, এআই ভার্সিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিই সেন্টার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ সব সময় ভালো উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। ব্যবসার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি সচল রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি কমিউনিটি উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ—এই চারটি ক্ষেত্রে কাজ করে আসছে। এর সঙ্গে এখন নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রযুক্তিকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন থেকে আমাদের উদ্যোগের সঙ্গে আরও একটি প্ল্যাটফর্ম বা স্তম্ভ হিসেবে প্রযুক্তিকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই আমরা এই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছি।’
আরও পড়ুন
ইজারা পাওয়া দুই পাটকলে ৭৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে প্রাণ-আরএফএল
তিনি আরও বলেন, স্পাইকস্টোরির ফারাবি এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক আয়োজনের ধারণাটি সামনে আনেন। প্রাণ-আরএফএল বিষয়টিকে ছোট পরিসরের একটি উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কীভাবে আরও বড় পরিসরে নেওয়া যায় এবং এর সঙ্গে দেশের আরও বেশি মানুষকে সম্পৃক্ত করা যায়, সে চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
কামরুজ্জামান কামাল বলেন, কনটেন্ট তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে কেন্দ্র করে এই পুরস্কার আয়োজন হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিধি অনেক বিস্তৃত। গত এক-দুই বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু ভিডিও বা কনটেন্ট তৈরির প্রযুক্তি হিসেবে দেখলে এর ব্যাপকতাকে বোঝা যাবে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, কারখানার উৎপাদন, যোগাযোগসহ জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জানতে হবে, কীভাবে আমরা আমাদের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করতে পারি। আগামী দিনগুলোতে সবার সহযোগিতা ও সমর্থন নিয়ে আমরা আরও নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে আসব।’
পুরস্কার আয়োজনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিজয়ীদের পুরস্কার ও স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণ-আরএফএল তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও বিবেচনা করছে। ‘তারা যদি চান, আমরা তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগও দিতে চাই। এর মাধ্যমে দেশের মেধাবী ও দক্ষ তরুণদের আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।’
স্পাইকস্টোরি লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হোসেন আল ফারাবি বলেন, এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এআই ব্যবহার করে নতুন ও সৃজনশীল কিছু তৈরি করতে সক্ষম তরুণদের খুঁজে বের করা হবে। এর মাধ্যমে তরুণ ক্রিয়েটর, পেশাজীবী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী এআই ক্রিয়েটর কমিউনিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
আরও পড়ুন
এআই আইডিয়ার বাস্তব ব্যবহার সহজ করতে শুরু হচ্ছে ইনফিনিটি বিল্ডফেস্ট
স্পাইকস্টোরি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইমুম হোসেন বলেন, এ আয়োজনের লক্ষ্য শুধু একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন নয়, বরং বাংলাদেশে একটি জাতীয় এআই ক্রিয়েটিভ ইকোসিস্টেম ও কমিউনিটি গড়ে তোলা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে এআইকে সৃজনশীলতার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সৃজনশীল মানুষদের জন্য একটি শক্তিশালী সহায়ক ও সক্ষমতাবর্ধক হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই আমরা।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জীবনকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করতে যাচ্ছে। এর প্রভাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে সৃজনশীলতা। এআই সৃজনশীলতার ক্ষেত্রকে প্রতিস্থাপন করে দেবে—এমন একটি ভয় অনেকের মধ্যে রয়েছে। তবে স্পাইকস্টোরি মনে করে, এই ভয় অনেকাংশেই এআই সম্পর্কে সচেতনতা ও দক্ষতার ঘাটতি থেকে তৈরি হচ্ছে। বাস্তবে এআই সৃজনশীলতাকে প্রতিস্থাপন করবে না, বরং সৃজনশীলতাকে আরও সহজলভ্য ও শক্তিশালী করবে।
তিনি আরও বলেন, এআই একজন স্বাধীন কনটেন্ট নির্মাতা থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র নির্মাতা, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন নির্মাতা, সংগীত ও মিউজিক ভিডিও নির্মাতা কিংবা ফ্যাশন ডিজাইনার—সব ধরনের সৃজনশীল পেশাজীবীর জন্য একটি সহায়ক ও সক্ষমতাবর্ধক প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। এই ধারণা থেকেই আমরা ভাবছি, কীভাবে এআই ব্যবহার করে বাংলাদেশের সৃজনশীলতাকে আরও এগিয়ে নেওয়া যায় এবং দেশের কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর হাতে শক্তিশালী প্রযুক্তির সুযোগ পৌঁছে দেওয়া যায়। তারা যেন এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের দক্ষতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে এবং সৃজনশীল কাজকে অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও মূল্য সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করতে পারে।
আরও পড়ুন
বাজেটে এআই প্রযুক্তিতে গুরুত্ব, স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটির তহবিল
সাইমুম বলেন, ‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দক্ষ গল্পকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, বিজ্ঞাপন নির্মাতা, ফ্যাশন ডিজাইনার, মিউজিক ভিডিও নির্মাতা ও সংগীতস্রষ্টাসহ বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট নির্মাতাকে প্রশিক্ষণ দিতে চাই। তাদের একটি প্ল্যাটফর্ম দিতে চাই এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে দিতে চাই স্বীকৃতি। আমরা চাই, এই তরুণরা যখন সৃজনশীলতার পথে এগিয়ে যাবে, তখন তারা যেন নিজেদের একা মনে না করে। স্পাইকস্টোরির মতো প্ল্যাটফর্ম, প্রাণ-আরএফএলের মতো দেশের বৃহৎ স্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের অংশীদাররা তাদের পাশে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রিজম এআই অ্যাওয়ার্ডস’ তাই শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি একটি জাতীয় এআই ক্রিয়েটিভ ইকোসিস্টেম ও কমিউনিটি গড়ে তোলার উদ্যোগ। এর আওতায় এআইভিত্তিক সৃজনশীল প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা হবে। প্রায় ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ক্যাম্পাসে রোডশো আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া আয়োজন করা হবে ক্রিয়েটিভ বুটক্যাম্প। এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়া তরুণদের প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং ও গ্রুমিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বমানের সৃজনশীল পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে।’
এমএএস/এসএইচএস
বিজ্ঞাপন