ব্রেকিং নিউজ
নরসিংদী বিআরটিসি'র নতুন ম্যানেজারের যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন ও দুর্নীতি দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা পাংশায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান কিশোরগঞ্জে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিশাল জশনে জুলুস কারিনার সঙ্গে প্রেমের আগে সাইফকে যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন অক্ষয় বন্ধ ছয় চিনিকল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান যশোরে জবানবন্দি দিতে গিয়ে মাকে হত্যাকারি মামুন অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তী নালিতাবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ- ৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা গাছে বেঁধে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা দেশে সারের সংকট নেই, সমস্যা ডিস্ট্রিবিউশনে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩০ ঘণ্টা ধরে ৪০ কিলোমিটার যানজট
জাতীয়

বনের খাবার-পানি হারিয়ে বদলেছে হাতির আবাসস্থল

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
একসময় গারো পাহাড় ছিল বন্য হাতির নিরাপদ আশ্রয়। পাহাড়ের গভীরে ছিল ঘন সবুজ বন, প্রাকৃতিক ঝিরি-ঝরনা আর হাতির প্রিয় খাবারের নানা গাছ। আমলকী, হরীতকী, বহেড়া, বুনো কলা, বাঁশ, কী ছিল না সেখানে! পাহাড়ের ভেতরেই খাবার মিলত, তৃষ্ণা মেটাত ঝিরির স্বচ্ছ পানিতে। তাই লোকালয়ে হাতির হানা ছিল বিরল ঘটনা। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পুরো ভিন্ন। কখনো হাতির পায়ের নিচে পিষ্ট হচ্ছে কৃষকের সারা বছরের ফসল, কখনো ভেঙে যাচ্ছে ঘরবাড়ি। ফসল ও বসতবাড়ি রক্ষায় মানুষও বসাচ্ছে বৈদ্যুতিক ফাঁদ ও বিষটোপ। এতে মারা পড়ছে হাতি। আবার হাতির আক্রমণে প্রাণ যাচ্ছে মানুষেরও। অর্থাৎ মানুষের দখল, বন উজাড় ও জলবায়ুর অভিঘাতে যে বন হাতির খাবার-পানি দিতে পারছে না, সেই সংকটই ধীরে ধীরে মানুষ ও হাতিকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যে পাহাড় একসময় ছিল হাতির নিরাপদ আশ্রয়, খাবার-পানির সংকটে সেই পাহাড়ই এখন তাদের ঠেলে দিচ্ছে লোকালয়ের দিকে। ১২ বছরে প্রাণ গেছে ৪৯ মানুষের, মারা গেছে ৩৫ হাতি প্রাণীবিদ, বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর ও শেরপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে পরিবেশ বিপর্যয় ও মানুষ-হাতির সংঘাতের এমন উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে হাতির আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন মানুষ। বিপরীতে মানুষের পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদ, বিষটোপসহ বিভিন্ন কারণে মারা গেছে ৩৫টি বুনো হাতি। ‘পাহাড়ে পর্যাপ্ত খাবার ছিল। আগে কলাগাছ, আমলকী, হরিতকী, বহেড়াসহ বনের অনেক গাছ ছিল। তখন হাতি পাহাড়ের ভেতরেই থাকত। এখন ফসল লাগালেই হাতি আসে, আবার ফসল ঘরে তোলার সময়ও চলে আসে।’ চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে শেরপুরে। সেখানে হাতির আক্রমণে ৩০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছে ৩০টি হাতি। ময়মনসিংহে হাতির আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। নেত্রকোনায় মানুষ মারা গেছে ৫ জন ও হাতি মারা গেছে ২টি। আর জামালপুরে হাতির আক্রমণে ৪ জন মানুষ এবং বিভিন্ন কারণে ৩টি হাতি মারা গেছে। আরও পড়ুন বিশ্ব হাতি দিবস / হাতি সম্পর্কে যেসব তথ্য হয়তো আগে জানতেন না দিনে ৩০০ লিটার পানি লাগে হাতির একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির প্রতিদিন ১৪০ থেকে ২৭০ কেজি পর্যন্ত খাবারের প্রয়োজন হয়। আবহাওয়া ও পরিবেশভেদে দৈনিক ২০০ থেকে ৩০০ লিটার পর্যন্ত পানি পান করতে পারে একটি হাতি। ঘাস, পাতা, গাছের ছাল, শিকড়, কলাগাছ ও বাঁশের কচি কুঁড়ি তাদের অন্যতম প্রধান খাবার। এসব খাবার ও পানির বড় একটি অংশ একসময় পাহাড়ের বনেই পাওয়া যেত। কিন্তু সেই প্রাকৃতিক খাদ্যভান্ডার এখন সংকুচিত। গাছ কাটার পাশাপাশি পাহাড়ের বনভূমির বিভিন্ন অংশ দখল ও চাষাবাদের আওতায় আসায় হাতির খাবার কমে গেছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যাওয়ায় শুকিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক পানির উৎস। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে হাতি নিয়মিত লোকালয়ে আসছে। অথচ ২০ বছর আগেও এমন দৃশ্য ছিল বিরল। বনের ঝিরি শুকিয়ে নামছে সমতলে জামালপুর ও শেরপুর জেলার বালিজুরী রেঞ্জের পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশ এখন সংকটের মুখে। একসময় পাহাড়ের ভেতরে থাকা ঝিরি ও ঝরনাগুলো হাতির পানির অন্যতম প্রধান উৎস ছিল। এখন সেগুলোর অনেকগুলোই শুকিয়ে গেছে। ফলে খাবারের পাশাপাশি পানির খোঁজেও হাতিকে নেমে আসতে হচ্ছে সমতলে। লোকালয়ের পুকুর, ডোবা ও জলাশয় হয়ে উঠছে তাদের পানির উৎস। ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত না হলে পাহাড়ে গাছপালা হবে কী করে? পাহাড়ের নদীর প্রবাহ, ছড়াগুলোই বা থাকবে কী করে? হাতি যে পানি খাবে, সেই পানি কোথা থেকে পাবে? পানি না থাকলে পাহাড়ে গাছ জন্মাবে কীভাবে?’ আর এই পথেই তৈরি হচ্ছে নতুন বিপদ। কোথাও চোরাবালিতে আটকে যাচ্ছে হাতি, কোথাও মানুষের দেওয়া বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসছে। আবার কোথাও লোকালয়ে প্রবেশ ঠেকাতে পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে মারা যাচ্ছে বিশাল এই প্রাণী। হাতির প্রাচীন করিডোরও দখলে হাতির চলাচলের নিজস্ব ও প্রাচীন পথ রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এসব পথ ব্যবহার করে পাহাড়ের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত করে হাতির দল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এসব করিডোরের অনেক জায়গা দখল হয়ে গেছে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনায়। ফলে হাতির স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হাতির দল যখন পুরোনো পথ ধরে এগিয়ে গিয়ে মানুষের বসতি দেখতে পায়, তখনই তৈরি হচ্ছে সংঘাত। কখনো আতঙ্কে মানুষ হাতিকে তাড়া করছে, কখনো হাতি ক্ষিপ্ত হয়ে আক্রমণ করছে। প্রাণহানি ঘটছে উভয় পক্ষেরই। ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ ৭ হাতির মৃত্যু বন বিভাগের তথ্য বলছে, ২০১৫ সালে এই অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৭টি হাতির মৃত্যু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের তৈরি কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিশোধস্পৃহাই হাতির মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ। ফসলের খেত ও ঘরবাড়ি রক্ষায় সীমান্ত এলাকার অনেকে জমির চারপাশে জিআই তার টাঙিয়ে তাতে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিয়ে রাখেন। রাতে হাতির দল লোকালয়ে ঢোকার সময় এসব তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। অন্যদিকে হাতির আক্রমণে ফসল ও বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষ প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। বিষটোপসহ নানা কৌশলেও হাতি হত্যার ঘটনা ঘটছে। আরও পড়ুন টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত হাতিটি মারা গেছে এক রাতেই শেষ কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন হাতির লোকালয়ে নামার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে কৃষকদের ওপর। একটি হাতির দল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একরের পর একর ফসলের মাঠ নষ্ট করে দিতে পারে। শুধু ফসল খাওয়া নয়, ভারী শরীরের কারণে পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায় পুরো ক্ষেত। ধারদেনা করে চাষ করা কৃষকের কাছে এক রাতের হাতির হানা মানে সারা বছরের স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে যাওয়া। বালিজুরীসহ সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের কাছে তাই হাতি এখন একদিকে বন ও প্রকৃতির অংশ, অন্যদিকে তাদের জীবিকার জন্য বড় আতঙ্ক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু লোকালয়ে হাতি ঠেকানোর ব্যবস্থা করলেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রথমে হাতির আবাসস্থলকে আবার বসবাসযোগ্য করে তুলতে হবে। বনের ভেতরে হাতির প্রিয় খাবার বুনো কলা, বাঁশ, আমলকী, বহেড়া, হরীতকী, কাঁঠালসহ বিভিন্ন খাদ্যগাছের নিবিড় বনায়ন করতে হবে। একইসঙ্গে পাহাড়ের গভীরে বড় আকারের কৃত্রিম জলাধার বা লেক তৈরি করতে হবে। এর পাশাপাশি হাতির প্রাচীন করিডোরগুলো চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করতে হবে। হাতির চলাচলের পথ যত বেশি নিরাপদ ও স্বাভাবিক করা যাবে, লোকালয়ের সঙ্গে তাদের সংঘাতও তত কমবে। বৈদ্যুতিক ফাঁদের বদলে নিরাপদ বেষ্টনী লোকালয়ে হাতির প্রবেশ ঠেকাতে বর্তমানে ব্যবহৃত বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক তারের পরিবর্তে সরকারি উদ্যোগে সোলারচালিত বৈদ্যুতিক বেষ্টনী স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ধরনের বেষ্টনীতে হাতি স্পর্শ করলে প্রাণঘাতী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পরিবর্তে মৃদু বৈদ্যুতিক ধাক্কা পাবে এবং বনে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। এতে একইসঙ্গে মানুষের ফসল ও বসতবাড়ি রক্ষা এবং হাতির প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে। ৮ হাজার ৩৩০ একরে ১২০ হাতি বন বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বালিজুরী রেঞ্জের ৮ হাজার ৩৩০ একর বনভূমিতে বর্তমানে প্রায় ১২০টি হাতি রয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক হাতির জন্য বর্তমান বনভূমির খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব কমাতে এরই মধ্যে বনের পরিবেশ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বালিজুরী রেঞ্জের প্রায় ১১৫ হেক্টর বনভূমিতে হাতির খাদ্য উপযোগী বাগান তৈরির কাজ চলছে। এছাড়া হাতি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন বনভূমিতে প্রায় ৪০টি কৃত্রিম জলাধার বা লেক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুধু প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পাহাড়ের বনভূমি রক্ষা, হাতির করিডোর দখলমুক্ত করা এবং স্থানীয় মানুষের ক্ষতিপূরণ ও ফসল সুরক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ হাতি নিজে লোকালয়ে আসতে চায় না। বন যদি তাকে খাবার ও পানি দিতে পারে, তাহলে হয়তো লোকালয়ে আসার প্রয়োজনও পড়বে না। আর বনের সীমানায় যদি মানুষের বসতি ও ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে কমতে পারে দুই পক্ষেরই ভয় ও ক্ষয়ক্ষতি। পাহাড়ের বাসিন্দা জয়দাঙ্গো বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর ধরে এলাকায় হাতি আসে। এর আগে হাতি পাহাড়ের ভেতরেই থাকত। পাহাড়ে পর্যাপ্ত খাবার ছিল। আগে কলাগাছ, আমলকী, হরীতকী, বহেড়াসহ বনের অনেক গাছ ছিল। তখন হাতি পাহাড়ের ভেতরেই থাকত। এখন ফসল লাগালেই হাতি আসে, আবার ফসল ঘরে তোলার সময়ও চলে আসে।’ আরও পড়ুন টেকনাফে ফের লোকালয়ে বন্য হাতি, আতঙ্কে কাটছে রাত সীমান্তবর্তী বালিজুরী এলাকার কৃষক রমজান আলী বলেন, ‘হাতির কোনো দোষ নাই ভাই। বনের ভেতর ওদের খাবার আর তৃষ্ণার পানি নাই। ওরা জঙ্গল ছেড়ে সমতলে নামবে না তো কই যাবে? কিন্তু ওদের ঠেকাতে গিয়ে মানুষ বিদ্যুতের তারের ফাঁদ পাতে, মশাল নিয়ে তাড়া করে। তখন হাতি মারা যায়। আবার হাতি খেপে গেলে মানুষেরও প্রাণ যায়। আমরা এই হাতি-মানুষের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থেকে বাঁচতে চাই।’ প্রাণীবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকোনুজ্জামান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত না হলে পাহাড়ে গাছপালা হবে কী করে? পাহাড়ের নদীর প্রবাহ, ছড়াগুলোই বা থাকবে কী করে? হাতি যে পানি খাবে, সেই পানি কোথা থেকে পাবে? পানি না থাকলে পাহাড়ে গাছ জন্মাবে কীভাবে? এমন কিছু গাছ আছে, যেগুলো হাতি খায়। সেগুলো বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সঠিক সময়ে সঠিকভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। বিভিন্ন দিকে খরা হচ্ছে। পাহাড়েও একই ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে তারা ধীরে ধীরে ঢালের দিকে চলে আসে।’ ময়মনসিংহ বিভাগের বালিজুরী রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া বলেন, ‘হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব কমাতে বনের পরিবেশ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি হাতির খাদ্য ও পানির সংকট দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বালিজুরী রেঞ্জের ১৪৭ দশমিক ৫ হেক্টর বনভূমিতে হাতির খাদ্য উপযোগী বাগান তৈরি করা হয়েছে। এসব বাগানে হাতির প্রয়োজনীয় খাবারের জোগান বাড়ানো সম্ভব হলে হাতি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে কম আসবে। পাশাপাশি পাহাড়ের পানির সংকট দূর করতে হাতি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন বনভূমিতে প্রায় ৪০টি কৃত্রিম জলাধার বা লেক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হাতির খাদ্য ও পানির সংকট অনেকটাই কমবে এবং মানুষ-হাতির দ্বন্দ্বও নিয়ন্ত্রণে আসবে।’ এফএ/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>