বিজ্ঞাপন
বড় একটি হীরার সন্ধান পেয়েছেন সাত দরিদ্র শ্রমিক। তাদের দাবি, হীরাটি বিক্রি হলে বদলে যেতে পারে তাদের জীবন।
দুই বছর আগে একটি জমি ইজারা নিয়ে হীরা খোঁজার কাজ শুরু করেছিলেন ওই সাত শ্রমিক। সম্প্রতি সেখানেই তারা ১৭ দশমিক ৯৬ ক্যারেটের একটি হীরা পান। ঘটনাটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের পান্নার সারোকা গ্রামের।
পান্নার হীরা কর্মকর্তা রবি প্যাটেল জানিয়েছেন, হীরাটি ‘জেম কোয়ালিটি’ বা রত্নমানের। এটি প্রাকৃতিক হীরার অন্যতম উন্নত মানের বলে জানান তিনি।
রবি প্যাটেল বলেন, হীরাটি মূল্যবান। আগামী অক্টোবরের প্রথমার্ধে সরকারি নিলামে এটি তোলা হবে। তার প্রাথমিক ধারণা, হীরাটির দাম অন্তত ৫০ লাখ রুপি হতে পারে।
হীরাটি পাওয়ার ঘটনা জানিয়েছেন শ্রমিকদের একজন অখিলেশ পাল। তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তারা ওই খনিতে হীরা খুঁজছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো হীরা না পাওয়ায় এক বছর আগে খনিটির কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এরপর পাশের আরেকটি জায়গায় নতুন করে খনন শুরু করেন তারা।
সম্প্রতি ভারী বৃষ্টির পর পুরোনো খনিটি দেখতে যান শ্রমিকেরা। তখনই হীরাটি চোখে পড়ে।
অখিলেশ বলেন, নতুন খনিটি দেখতে যাওয়ার সময় তারা পুরোনো খনির দিকেও নজর দেন। সেখানেই মাটির ওপর হীরাটি পড়ে থাকতে দেখেন।
তাদের জন্য এটি ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত ঘটনা। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পর হীরার দেখা পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত হয়ে ওঠেন তারা।
পান্নায় হীরা পাওয়া নতুন নয়
ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হীরা খনি এলাকা হিসেবে পরিচিত পান্না। মধ্যপ্রদেশের এই অঞ্চলেই ভারতের বেশির ভাগ হীরার মজুত রয়েছে।
তবে হীরা পাওয়া গেলেও পান্নার মানুষের জীবন খুব একটা বদলায়নি। অঞ্চলটি ভারতের অপেক্ষাকৃত অনুন্নত এলাকাগুলোর একটি। দারিদ্র্য, পানির সংকট ও বেকারত্ব এখানকার মানুষের বড় সমস্যা।
শহরে কাজের সুযোগও কম। ফলে অনেক মানুষ ভাগ্য বদলের আশায় হীরা খোঁজার কাজে নামেন।
ভাগ হবে সাত শ্রমিকের মধ্যে
অক্টোবরের সরকারি নিলামে হীরাটি বিক্রি করা হবে। ভারত ও বিদেশের ক্রেতারা সেখানে অংশ নিতে পারবেন।
হীরাটি বিক্রির পর সরকার ১২ শতাংশ রয়্যালটি বা রাজস্ব হিসেবে কেটে নেবে। এরপর বাকি অর্থ সাত শ্রমিকের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ হওয়ার কথা।
অর্থাৎ হীরাটি যদি প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত ৫০ লাখ রুপিতেই বিক্রি হয়, তাহলে সরকারি রয়্যালটি বাদ দেওয়ার পর প্রত্যেক শ্রমিকের ভাগে কয়েক লাখ রুপি করে আসতে পারে। তবে নিলামে চূড়ান্ত দাম কত উঠবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
বিয়ের স্বপ্নও পূরণ হতে পারে
এই হীরার সন্ধান সাত শ্রমিকের কাছে শুধু অর্থ পাওয়ার সুযোগ নয়, বরং নতুন জীবনের স্বপ্নও তৈরি করেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিন শ্রমিক জানিয়েছেন, আর্থিক সংকটের কারণে এতদিন তাদের বিয়ে করা সম্ভব হয়নি। হীরা বিক্রির অর্থ পেলে এবার তারা বিয়ের কথা ভাবতে পারবেন।
অর্থাৎ একটি হীরা শুধু তাদের হাতে অর্থই তুলে দিতে পারে না, বদলে দিতে পারে তাদের ব্যক্তিগত জীবনও।
পান্নার মতো দরিদ্র এলাকায় তাই হীরা শুধু মূল্যবান একটি পাথর নয়; অনেকের কাছে এটি ভাগ্য বদলের প্রতীক।
দুই বছর ধরে খনিতে পরিশ্রম করেও যখন কোনো সাফল্য আসেনি, তখন কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন ওই সাত শ্রমিক। কিন্তু পুরোনো সেই খনিতে ফিরে গিয়ে মাটির ওপর পড়ে থাকা ১৭ দশমিক ৯৬ ক্যারেটের হীরাটি যেন তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
এখন তাদের অপেক্ষা অক্টোবরের নিলামের। সেদিন হীরাটির আসল দাম জানা যাবে। আর সেই দামই ঠিক করবে, পান্নার এই সাত শ্রমিকের ভাগ্য কতটা বদলাবে।
সূত্র: বিবিসি
এমএসএম
বিজ্ঞাপন