সারাদেশ

মারা গেলেন চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

b
bd24live অনলাইন ডেস্ক
3 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি মারা গেছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) ৯৭ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। আধুনিক চীনের অর্থনৈতিক রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেতা স্পষ্টভাষী ও কঠোর অবস্থানের জন্যও পরিচিত ছিলেন। খবর রয়টার্সের ১৯৯১ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত উপপ্রধানমন্ত্রী এবং ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সালের শুরু পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঝু। তার সময়ের বক্তৃতার চার খণ্ডের সংকলন ২০১১ সালে প্রকাশিত হলে চীনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। বক্তৃতাগুলোতে তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা, দুর্বল অবকাঠামো এবং অদক্ষ ব্যাংকারদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন। তার বক্তব্যে চীনের অর্থনীতির বেশ কিছু দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কথাও উঠে এসেছিল। এর মধ্যে ছিল- স্থানীয় সরকারের ঋণ, ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ, মূল্যস্ফীতি, দ্রুত নগরায়ণ এবং দুর্নীতি। ঝু রংজি বেইজিংয়ের স্বনামধন্য সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেন। ১৯৪৯ সালে তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। সেই বছর মাও সে তুং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় তাকে গ্রামাঞ্চলে পাঠানো হয়েছিল। পরে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত হয়ে তিনি ধীরে ধীরে ক্ষমতার বিভিন্ন স্তরে উঠে আসেন। ১৯৮৭ সালে তাকে সাংহাইয়ের মেয়র করা হয়। তিনি মেয়র থাকাকালে সাংহাই আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি হয়। ১৯৯১ সালে বেইজিংয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব পাওয়ার পর চীনের অর্থনৈতিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ঝু। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে বিপর্যস্ত দেশ থেকে চীনকে এমন এক উদীয়মান পরাশক্তিতে রূপান্তরিত করেন তিনি, যার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার অন্যান্য সরকারের কাছে ঈর্ষণীয় ছিল। এ সময় তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা বেসরকারিকরণের উদ্যোগ নেন। এতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারান। তিনি স্থানীয় সরকারের হাত থেকে কর আদায়ের ক্ষমতার একটি বড় অংশ কেন্দ্রের হাতে ফিরিয়ে আনেন এবং আবাসন মালিকানার সংস্কার করেন। পরবর্তী সময়ে এই নীতিই চীনে দ্রুত আবাসন ও রিয়েল এস্টেট বাজারের বিকাশে ভূমিকা রাখে। তবে ঝু রংজির সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি ছিল চীনকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিওটিও) অন্তর্ভুক্ত করা। দীর্ঘ ও কঠিন আলোচনার পর ২০০২ সালে চীন সংস্থাটিতে যোগ দেয়। সে সময় অনেক চীনা কর্মকর্তা আশঙ্কা করেছিলেন, সদস্য হওয়ার জন্য অতিরিক্ত ছাড় দেয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে ঝুর পুরো মেয়াদকে সাফল্যের হিসেবে দেখেননি সবাই। তার সময়ের শস্যনীতি, কর বণ্টন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বন্ধের কিছু সিদ্ধান্ত পরবর্তী সরকারকে সামলাতে হয়েছে। তবুও চীনের বাজারভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশে ঝু রংজির ভূমিকা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। তার সময়ের সংস্কারগুলোই চীনের অর্থনীতিকে দ্রুত সম্প্রসারণের পথে এগিয়ে নেয়ার অন্যতম ভিত্তি তৈরি করে।
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>