বিজ্ঞাপন
জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য ও চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো একক দল বা ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়, তেমনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানও কারও একক কৃতিত্ব নয়। এটি সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও ত্যাগের ফল।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ইউজিসি অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মাছুমা হাবিব বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশে ও বিদেশে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে ইউজিসি কাজ করছে।
আরও পড়ুন
গবেষণা বাজেট নিয়ে জটিলতা / ৪৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে আশ্বস্ত করলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান
তিনি বলেন, ৩৬ দিনের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশ একটি নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। এর আগে দীর্ঘ সময়ে গুম, খুন ও নির্যাতনের মতো নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে মানুষকে যেতে হয়েছে। তৎকালীন সরকারের সময়ে শিক্ষক সমাজ নির্যাতন, নিপীড়ন ও পদোন্নতি বঞ্চনার শিকার হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল।
ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে বৈষম্য দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করছে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তরুণদের দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন নীতিগত ও আর্থিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈষম্য কমাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমামদের আর্থিক সহায়তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহায়তার মতো কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সরকারকে সময় দেওয়া প্রয়োজন।
ফ্যাসিস্ট সরকারের ‘রিকনসিলিয়েশন’, ক্ষমা চাওয়া ও স্বচ্ছ বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক মামুন বলেন, তিনি ২০টি দেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের ফিরে আসার প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেছেন। এসব দেশে দেখা গেছে, ফ্যাসিস্টরা যত দেরিতে ক্ষমা চেয়েছে এবং বিচারের মুখোমুখি হয়নি, তাদের ফিরে আসার প্রক্রিয়াও তত দীর্ঘ হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের পক্ষে রাজনীতিতে ফিরে আসা সম্ভবও হয়নি।
আরও পড়ুন
‘জুলাই অভ্যুত্থান ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিক ফল’
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুশোচনা প্রকাশের পরিবর্তে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সামনে এনেছেন। তাদের নিজেদের ভুল স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করতে হবে এবং স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। তা না হলে রাজনীতিতে ফিরে আসার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ফিরে আসার সুযোগও নাও থাকতে পারে।
ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন বলেন, জুলাই ন্যায়বিচার ও অধিকারের প্রতীক। এটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিভাজন না করে এর চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।
ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের জন্য এখনো অনেক কিছু করার আছে। তাদের পরিবারের দুজন সদস্যের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম। কমিশনের বিভাগীয় প্রধানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক ও অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. মহিবুল আহসান।
এএএইচ/এমএমকে
বিজ্ঞাপন