বিজ্ঞাপন
সিলেবাসে শিক্ষাকে আটকানো যায় না। সিলেবাসের বই পড়লে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা যাবে। কিন্তু সিলেবাসের বাইরের বই পড়লে বিকশিত মেধার মাধ্যমে সমাজে ভূমিকা রাখা যাবে। ভালো মানুষ হওয়া যাবে। ফলে জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়তে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা ও গ্রন্থাগার সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ময়মনসিংহে বিভাগীয় পাঠক সমাবেশে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় এদিন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে এ পাঠক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।
আরও পড়ুন
দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়তে বইপড়ার বিকল্প নেই: খুলনায় পাঠক সমাবেশে বক্তারা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, জ্ঞানের ক্ষুধা নিবারণের জন্য বই পড়া প্রয়োজন। অভিভাবকদের উচিত সন্তানের হাতে স্মার্ট ডিভাইসের পরিবর্তে বই তুলে দেওয়া।
তিনি পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণ এবং গ্রন্থাগার সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, মানুষের যে কোনো কর্মে অবদান রাখতে বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জ্ঞান আহরণের জন্য বইয়ের কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) ও প্রকল্প পরিচালক মু. বিল্লাল হোসেন খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকার সাংস্কৃতিক চর্চা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। যেহেতু সরকার এই বছরকে (২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত) ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন ফলে সবার উচিত নজরুলের রচনাসমগ্র গুরুত্ব দিয়ে পড়া।
পাঠক সমাবেশে বক্তারা বলেন, লাইব্রেরিকে চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ না রেখে মানুষের ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দিচ্ছে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি। পাঠক সমাবেশ আয়োজনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সবার মাঝে বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা। একই সঙ্গে পাঠকসেবা সম্প্রসারণ, নতুন পাঠক সৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানো।
আরও পড়ুন
মেধা-মননের বিকাশ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে রাজশাহী-রংপুরে পাঠক সমাবেশ
পাঠক সমাবেশে উপলক্ষে ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি জেলা থেকে প্রকল্পের চারটি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি-গাড়ি ও সেসব লাইব্রেরির গাড়িগুলোর পাঁচশোর বেশি পাঠক-সদস্যের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র্যালি, ভ্রাম্যমাণ বইমেলা, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও জিআই পণ্যভিত্তিক স্টল প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের প্রিন্সিপাল লাইব্রেরিয়ান (উপপরিচালক) মোহাম্মদ হামিদুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল লাইব্রেরিয়ান (উপপরিচালক) দেবাশীষ ভদ্র প্রমুখ।
এ প্রকল্পের আওতায় গত ২৪ জুলাই রাজশাহী, ২৫ জুলাই রংপুর, ৩১ জুলাই খুলনা ও ৬ আগস্ট বরিশালে বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬টি বিভাগের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এবার সিলেট বিভাগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এমকেআর
বিজ্ঞাপন