ব্রেকিং নিউজ
জাতীয়

স্মিথও ভেবেছিলেন, ‘বল ব্যাটেই লেগেছে’

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনটা স্টিভ স্মিথের ইনিংসের শুরুটা ছিল নাটকীয়। ব্যক্তিগত ২ রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে জীবন পেয়েছেন। পরে বাংলাদেশের রিভিউয়ের সময় আউট ভেবে ড্রেসিংরুমের পথেও হাঁটা শুরু করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির সিদ্ধান্তে বেঁচে গিয়ে সেই স্মিথই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের সর্বোচ্চ ৭১ রান করেছেন। দিন শেষে স্বীকারও করলেন, তার মনে হয়েছিল বল ব্যাটেই লেগেছিল! স্মিথের দ্বিতীয়বার জীবন পাওয়ার ঘটনাটি ঘটে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ২১তম ওভারে। ইবাদত হোসেনের করা চতুর্থ বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে স্মিথের ব্যাটের খুব কাছ দিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই ক্যাচের আবেদন করেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তবে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা তাতে সাড়া দেননি। বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দ্রুত রিভিউ নেন। আর রিভিউয়ের প্রক্রিয়া শুরু হতেই অবাক করা কাণ্ড করেন স্মিথ। তখন ৭ রানে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটার ক্রিজ ছেড়ে ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। মনে হচ্ছিল, তিনিও ধরে নিয়েছেন বলটি ব্যাটে লেগেছে। তবে আলট্রাএজে কোনো স্পাইক ধরা পড়েনি। ফলে মাঠের আম্পায়ারের নটআউট সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন টিভি আম্পায়ার। নতুন জীবন পেয়ে আবার ক্রিজে ফিরে আসেন স্মিথ। পরে তার এই আচরণ নিয়েই শুরু হয় আলোচনা। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম চ্যানেল সেভেনের ধারাভাষ্যকার ও সম্প্রচারক টিম লেন বলেন, ‘সাইড-অন ক্যামেরা থেকে দেখা যাচ্ছে, স্মিথ মিড উইকেটের দিকে প্রায় ২০ মিটার হেঁটে গেছেন। স্মিথ ড্রেসিংরুমের পথে ছিলেন। কিন্তু জীবন পাওয়ার সম্ভাবনা টের পেয়ে এখন আবার ক্রিজে ফিরে এসেছেন...মনে হচ্ছে স্মিথ ব্যাটে বল লেগেছে বুঝেও বেঁচে গেলেন। স্লিপে ক্যাচ মিসের পর এটি তাঁর দ্বিতীয়বার জীবন পাওয়া।’ স্মিথের প্রতিক্রিয়ায় বিস্মিত অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ম্যাথু হেইডেনও। প্রযুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত মতামত হলো, এটি খেলায় প্রচুর বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তবে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ও ধর্মসেনা, যারা নিজেরাও অসাধারণ খেলোয়াড় ছিলেন। প্রশংসা করতেই হবে যে ভুল সিদ্ধান্ত নেননি।’ স্মিথের আচরণ নিয়ে হেইডেন আরও বলেন, ‘স্মিথের প্রতিক্রিয়া ছিল বিস্ময়কর। (আউটের) ঝুঁকি থাকলেও সবাই তো নিজের (ক্রিজে) জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার কথাই ভাববে।’ অস্ট্রেলিয়ার আরেক সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের কাছেও পুরো ঘটনাটি অদ্ভুত লেগেছে। কায়ো স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘অদ্ভুত ব্যাপার। কারণ সে ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা শুরু করে দিয়েছিল।’ ওয়ার্নারের কথার পর নিজের পর্যবেক্ষণ জানান মার্ক ওয়াহ। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ঠিক বুঝতে পারছি না। মনে হয় না প্রথম স্লিপের ফিল্ডার (আবেদনে খুব একটা আগ্রহ দেখিয়েছে আর কিপারের আবেদনও দ্বিধান্বিত। আমি কোনো শব্দ শুনতে পাইনি।’ তবে এর আগেই ব্যক্তিগত ২ রানে তানজিদের হাতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বেঁচেছিলেন স্মিথ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত ৭১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাটেই মূলত অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে লড়াই করার মতো রান পায়। শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের পেসারদের দাপটের দিনেও স্মিথ ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা। একের পর এক সতীর্থ সাজঘরে ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত হাসান মাহমুদের বলে তার ইনিংস থামে। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেই বিতর্কিত বলটি নিয়ে স্মিথকে প্রশ্ন করা হয়। বলটি ব্যাটে লেগেছিল কি না জানতে চাইলে অস্ট্রেলিয়ার এই তারকার উত্তর, ‘আমার মনে হয় সেটাই (লেগেছিল)।’ এরপরও উইকেটে থাকতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন কিনা প্রশ্নী স্মিথ বলেন, ‘হ্যাঁ ভাগ্যবানই বটে। এমনিতে টেকনোলোজি ভালো কাজ করছে, এটাই আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছ হয়তো।’ এসকেডি/আইএন
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>