বিজ্ঞাপন
প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার একটা বাহ্ববা পেতেই পারেন! অনেকেই মনে করতেন, তানজিদ হাসান তামিম আক্রমণাত্মক-আগ্রাসী, তাই তিনি টেস্ট খেলতে পারবেন না। মারকুটে ক্রিকেট তো কেবলই সীমিত ওভারের জন্য।
তবে হাবিবুল বাশার ভেবেছেন অন্যভাবে। তিনি তানজিদ হাসান তামিমকে নিয়ে একটি ‘বাজি’ ধরেছেন। দলে নেওয়ার সময়ই বলেছিলেন, তামিমের মারকুটে ব্যাটিং টেস্টেও ফলপ্রসু হতে পারে, এই বিশ্বাস আছে তার।
তানজিদ তামিম বেশি সময় নিলেন না প্রধান নির্বাচকের আস্থার প্রতিদান দিতে। নিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হাঁকালেন এক ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি।
তানজিদ তামিমের টেস্ট অভিষেক চলতি বছরই। গত মে মাসে সিলেট টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাদা পোশাক গায়ে জড়ান মারকুটে এই ওপেনার।
প্রথম টেস্টে বলার মতো কিছু করতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে ২৬ আর দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হন মাত্র ৪ রান করেই।
ঘরের মাঠেই পারেননি। তানজিদ হাসান তামিমকে নিয়ে কি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাজি ধরা যায়? প্রস্তুতি ম্যাচে তাকে পরখ করতে গিয়েও ভরসা করার মতো কিছু পাওয়া গেলো না।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে এক ইনিংসে ০ আর এক ইনিংসে করলেন মাত্র ২২ রান। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দলে ছিল না কোনো ডাকাবুকো নামকরা বোলার। তাদের বিপক্ষেই তামিম পারলেন না; মূল ম্যাচে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউডদের বিপক্ষে কী করবেন!
টিম ম্যানেজমেন্ট তবু আস্থা হারালো না। টেস্ট শুরুর আগে আলোচনা হচ্ছিল, কোন দুইজন ওপেন করবেন। সাদমান ইসলামের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভালো। তাকে তাই অটোচয়েজ রেখেই দ্বিতীয় ওপেনার নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।
আলোচনায় ছিল অভিজ্ঞ সৌম্য সরকারের নাম। ১৬ টেস্ট খেলা সৌম্যর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংসটি ১৪৯ রানের, সেটি নিউজিল্যান্ডের প্রতিকূল কন্ডিশনে।
অভিজ্ঞতা আর ভিন্ন কন্ডিশনে বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য সৌম্য সরকারকে এগিয়ে রেখেছিল সাদমানের সঙ্গে ওপেনার হওয়ার দৌড়ে। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট আস্থা রাখলো এর আগে মাত্র একটি টেস্ট খেলা তানজিদ হাসান তামিমের ওপরই, প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পরও!
তামিম সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন ব্যাটে। দেখে বোঝাই গেলো না, কামিন্স-স্টার্ক-হ্যাজেলউডদের সামলাচ্ছেন! একদম সহজাত স্ট্রোক প্লে, মাঠের চারদিকে বাহারি সব শট খেললেন তামিম এবং বেশিরভাগ ছিল রিস্ক ফ্রি শট।
এতটাই পরিণত দেখা গেলো তামিমকে। কোনো তাড়াহুড়া নেই, নেই নিজেকে জাহির করার চেষ্টা। আগের দিন ছিলেন ৩২ রানে অপরাজিত। ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সকালের আবহাওয়ায় প্রথম ঘণ্টার ভয় মুমিনুল হককে নিয়ে অনায়াসে কাটিয়ে দিলেন অনভিজ্ঞ তামিম। ১৮৯ বলে ১০২ রানের বড় জুটি এলো তাদের দুজনের।
পরে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ১৫৭ বলে ৯৩ রানের আরেকটি বড় জুটি। এরই মধ্যে ঠান্ডা মাথায় তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তামিম।
তামিম নার্ভাস নাইন্টিজে ভোগেননি। নব্বইয়ের পর খেলেননি কোনো বড় শট। মারতে যাননি তেড়েফুরে, সিঙ্গেল-ডাবলসে পূর্ণ করেছেন সেঞ্চুরি। এতটা পরিণত তামিমকে এর আগে কখনও দেখা যায়নি।
মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা তামিম সেঞ্চুরি করার পথে অস্ট্রেলিয়ার যে পাঁচজন বোলারকে মোকাবেলা করেছেন, তাদের মোট টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা ৪৩৯টি! মিচেল স্টার্ক ১০৫, জশ হ্যাজেলউড ৭৬, প্যাট কামিন্স ৭২, ক্যামেরন গ্রিন ৩৭, নাথান লিয়ন ১৪১ আর বিউ ওয়েবস্টারের নামের পাশে ৮ টেস্ট।
সামনে বড় বড় বোলারের নাম তো ছিলই। সঙ্গে ছিল বেশ কয়েকটি রেকর্ডের হাতছানি। বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ইনিংস, দেশের হয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কোনো ব্যাটারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংসও এটি।
এত এত রেকর্ড গড়ার পথে ২৫ বছরের তামিম যে তার স্নায়ু ধরে রাখতে পেরেছেন, সেজন্য আলাদা প্রশংসা তো তার প্রাপ্যই!
এমএমআর
বিজ্ঞাপন