জাতীয়

ভারত সঠিক পথে না এলে পাকিস্তান সরাসরি জবাব দেবে: শাহবাজ শরিফ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
6 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
পানির প্রতিটি ফোঁটাকে ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা হিসেবে উল্লেখ করে ভারতকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেছেন, ভারত সঠিক পথে ফিরে না এলে পাকিস্তান সরাসরি জবাব দেবে। ইসলামাবাদে ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ বা বিজয় স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। শাহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তান শান্তি চায়। তবে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ভারতকে সঠিক পথে ফিরতে হবে। তা না হলে তাকে সরাসরি জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য পাকিস্তানের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা দিবসে পুরো জাতি বিজয় স্মৃতিস্তম্ভের ছায়ায় দাঁড়িয়ে উদ্‌যাপন করছে। ‘মারকা-ই-হক’-এ সাফল্যের জন্য তিনি পাকিস্তানের জনগণকে শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, স্মৃতিস্তম্ভটি পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে পুরো জাতির মধ্যে আবেগের ‘সাগর’ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে শাহবাজ বলেন, তাদের সাফল্যে পাকিস্তানের জনগণের মাথা উঁচু হয়েছে এবং প্রতিপক্ষকে ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ বরণ করতে হয়েছে। বিজয় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে ফিল্ড মার্শাল মুনির ও তার দলকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনন্য নকশার এই স্মৃতিস্তম্ভ মাত্র আট মাসে নির্মাণ করা হয়েছে। সংঘাত নয়, শান্তি চায় পাকিস্তান শাহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। বিশ্বকে নতুন সংঘাত থেকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ভূমিকা পালন করেছে। পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন শাহবাজ। ভবিষ্যতে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তুরস্কও এই চুক্তির অংশ হয়েছে। তার মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির প্রতীক। ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে কাশ্মীর ইস্যুতে ইসলামাবাদের অবস্থান স্পষ্ট বলে উল্লেখ করে বলেন, কাশ্মীরিদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। আফগানিস্তানের ভূখণ্ড যেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে আফগান সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ জাতিকে কোনো শক্তিই পরাজিত করতে পারে না। কেউ যেন পাকিস্তানের দিকে শত্রুতাপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকানোর সাহস না করে। শাহবাজ বলেন, আমরা সবাই পাকিস্তানের উত্তরাধিকারী। আমাদের মতপার্থক্য যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়। উদ্বোধন হলো ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনার আবহে ইসলামাবাদে ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির যৌথভাবে স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনী এবং পাঞ্জাব, সিন্ধু, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর এবং গিলগিট-বালতিস্তানের পুলিশ সদস্যরাও অনুষ্ঠানে ছিলেন। সামরিক বাহিনীর প্রধানরা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা, বিদেশি কূটনীতিকরা, সিনেট চেয়ারম্যান, জাতীয় পরিষদের স্পিকার এবং শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীও সেখানে ছিলেন। ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের স্মারক পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘাতে তাদের বিজয়ের স্মারক হিসেবে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। পাকিস্তানের সরকারি বর্ণনা অনুযায়ী, ওই বছরের ৬ ও ৭ মে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরে একটি হামলার জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ইসলামাবাদে হামলা চালায়। পাকিস্তান এর জবাবে পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। ৮০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা ওই সংঘাত ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পর থামে বলে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, ওই সংঘাতে তারা ভারতের কয়েকটি যুদ্ধবিমান ও বহু ড্রোন ভূপাতিত করে। এর মধ্যে ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমানও ছিল বলে ইসলামাবাদ দাবি করে। তবে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত ও উভয় পক্ষের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। সূত্র: জিও নিউজ এমএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>