ব্রেকিং নিউজ
Javagal Srinath: বেঙ্গালুরু মেট্রোতে ট্রলি হাতে দাঁড়িয়ে শ্রীনাথ, হঠাৎ দেখা..এরপর? Women's Asia Cup: সাম্প্রতিক ধারা ভেঙে এশিয়া কাপে কি পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করবেন হরমনপ্রীত কৌররা? নদীর জলে ভাসে যাদের জীবন গাজীপুরে থানা প্রাঙ্গণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার পাঁচ স্বজনকে গ্রেপ্তার নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে কাল চর ও দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের জন্য দূরত্বভিত্তিক ভাতা চালু হবে: ববি হাজ্জাজ প্রথমবার যেখানে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন জায়েদ খান কখন লোডশেডিং হবে, জানানোর দাবি শিল্প উদ্যোক্তাদের বাজার নামকরণের বিরোধে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ৩০ আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে দিল্লির সেমিনার পুলিশি বাধায় বাতিল, কী জানা যাচ্ছে?
জাতীয়

শিকাগো নদীর বুকে বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে ভ্রমণ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
শিকাগো ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্তই ছিল নতুন বিস্ময়ে ভরা। তবে সেই দিনটির জন্য মনে বিশেষ আগ্রহ ছিল, কারণ আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় স্থাপত্যভিত্তিক নৌভ্রমণ, শিকাগো আর্কিটেকচারাল রিভার ট্যুর। বহুদিন ধরেই এই ভ্রমণের কথা পড়েছি, অসংখ্য ছবিতে দেখেছি শিকাগো নদীর দুই তীরে দাঁড়িয়ে থাকা আকাশচুম্বী অট্টালিকার মনোমুগ্ধকর সারি। সেদিন সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিলো। শিকাগো নদীর তীরে অবস্থিত প্রাণচঞ্চল রিভারওয়াক এলাকায় পৌঁছে মনে হলো, যেন পুরো পৃথিবীর পর্যটকেরা এখানে এসে মিলিত হয়েছেন। নদীর ধারে সারি সারি সুসজ্জিত টিকিট কাউন্টার, অপেক্ষমান মানুষের দীর্ঘ সারি, ক্যামেরা হাতে উৎসুক ভ্রমণপিপাসুদের মুখে আনন্দের ঝিলিক এবং নদীর বুকে অবিরাম চলাচল করা নৌযান পুরো পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তুলেছিল। আমরা জনপ্রতি আটচল্লিশ ডলারের টিকিট সংগ্রহ করলাম। নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই বোর্ডিং শুরু হলো। কর্মীদের আন্তরিক ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ এবং পর্যটকদের প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ শুরু থেকেই মুগ্ধ করল। পৃথিবীর নানা দেশের মানুষের সঙ্গে একই নৌযাত্রায় অংশ নেওয়ার অনুভূতিও ছিল ভিন্ন রকম আনন্দের। পৃথিবীর অন্যতম সেরা এই আর্কিটেকচারাল রিভার ট্যুর অনুষ্ঠিত হয় শিকাগো নদীর বুকে। শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রিভারওয়াক থেকে যাত্রা শুরু করে নৌযানটি নদীর মূল শাখা ধরে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়। পরে উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উল্লেখযোগ্য অংশ প্রদক্ষিণ করে আবার যাত্রাস্থলেই ফিরে আসে। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই ভ্রমণে শিকাগোর শতাধিক ঐতিহাসিক ও আধুনিক স্থাপত্য একের পর এক চোখের সামনে উন্মোচিত হয়। আমরা উঠেছিলাম সাদা রঙের বিশাল দোতলা একটি আধুনিক নৌযানে। নিচতলায় ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আরামদায়ক আসন, প্রশস্ত কাচের জানালা এবং পানীয় ও হালকা খাবারের ব্যবস্থা। ওপরের খোলা ডেকটি ছিল পর্যটকদের সবচেয়ে প্রিয় স্থান। সেখান থেকে চারদিকে বাধাহীনভাবে শহরের অপরূপ দৃশ্য দেখা যায়। নৌযানটিতে প্রায় তিন শতাধিক যাত্রী ছিলেন। কেউ ইউরোপ থেকে, কেউ এশিয়া থেকে, কেউবা আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছেন। ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয়তার ভিন্নতা থাকলেও সবার চোখে ছিল একই রকম বিস্ময়। ধীরে ধীরে নৌযানটি যখন নদীর বুকে ভেসে চলতে শুরু করল, তখন মনে হচ্ছিল আমরা যেন শুধু একটি শহর দেখছি না, বরং আধুনিক স্থাপত্যের ইতিহাসের ভেতর দিয়ে এক অনন্য অভিযাত্রায় পা রেখেছি। আরও পড়ুন শিকাগোর আকাশে বাংলাদেশের গর্ব উইলিস টাওয়ারের চূড়ায় বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হওয়া এই ভ্রমণের প্রাণ ছিলেন আমাদের গাইড মি. স্যারন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা তিনি একটানা এমন প্রাণবন্ত ভঙ্গিতে প্রতিটি ভবনের ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী, নির্মাণকাল, প্রকৌশল কৌশল এবং নগর বিকাশের গল্প বলে গেলেন যে, মুহূর্তের জন্যও একঘেয়েমি অনুভূত হয়নি। তার বর্ণনায় জীবন্ত হয়ে উঠল আঠারোশ একাত্তরের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, যখন কয়েক দিনের আগুনে শিকাগোর অধিকাংশ কাঠের স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই বিপর্যয়ই পরবর্তীকালে শহরটিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রেরণা দেয়। অগ্নিকাণ্ডের পর উন্নত নগর পরিকল্পনা, অগ্নিনিরাপদ নির্মাণসামগ্রী এবং সাহসী স্থাপত্য ভাবনার মাধ্যমে শিকাগো ধীরে ধীরে বিশ্বের আধুনিক স্থাপত্যের পরীক্ষাগারে পরিণত হয়। গাইডের প্রতিটি বর্ণনায় ইতিহাস যেন নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে আমাদের সামনে এসে দাঁড়াচ্ছিল। তার দ্রুত ইংরেজি উচ্চারণের কারণে কিছু তথ্য পুরোপুরি বোঝা না গেলেও স্থাপত্যের অনুপম সৌন্দর্য সেই অপূর্ণতাকে মুহূর্তেই ভুলিয়ে দিচ্ছিল। নৌযানটি যখন শহরের প্রাণকেন্দ্র অতিক্রম করছিল, তখন নদীর দুই তীর যেন এক বিশাল উন্মুক্ত স্থাপত্য জাদুঘরে পরিণত হলো। কাচে মোড়া ঝলমলে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড টাওয়ার সূর্যের আলোয় রুপালি দীপ্তি ছড়াচ্ছিল। কিছু দূরেই গথিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ট্রিবিউন টাওয়ার ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কোথাও আধুনিক কাচের সুউচ্চ অট্টালিকা, কোথাও শতবর্ষী পাথরের ভবন, কোথাও নদীর তীরে সবুজ উদ্যান, ক্যাফে, শিল্পকর্ম, নান্দনিক সেতু এবং মানুষের প্রাণবন্ত পদচারণা। নদীর শান্ত জলে এসব ভবনের প্রতিবিম্ব যেন আরেকটি শহর সৃষ্টি করেছিল। প্রতিটি সেতু অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গে মনে হচ্ছিল আমরা এক একটি সময়ের অধ্যায় পার হয়ে এগিয়ে চলেছি। এই দৃশ্যের মধ্যেই বারবার মনে পড়ছিল বাংলাদেশের কৃতী প্রকৌশলী স্যার ফজলুর রহমান খানের কথা। আধুনিক টিউব কাঠামো প্রযুক্তির উদ্ভাবনের মাধ্যমে তিনি আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছিলেন, তার সুস্পষ্ট ছাপ আজও শিকাগোর আকাশরেখায় অমলিন। নদীর বুকে ভেসে এই শহরের দিকে তাকিয়ে একজন বাংলাদেশি হিসেবে হৃদয় গভীর গর্বে ভরে উঠছিল। মনে হচ্ছিল, কাচ, ইস্পাত ও কংক্রিটের এই অনিন্দ্য সুন্দর নগরচিত্রের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে আমাদেরই এক মহান সন্তানের মেধা, স্বপ্ন এবং সৃষ্টিশীলতার অমর স্বাক্ষর। নদীপথের এই ভ্রমণ কেবল চোখের সৌন্দর্য উপভোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি শিকাগোর অর্থনীতি, পর্যটন শিল্প এবং নগর পরিকল্পনার এক অনন্য দলিলও বটে। শিকাগো নদীর দুই তীর যেন আধুনিক নগর সভ্যতার এক জীবন্ত প্রদর্শনী। সুউচ্চ অফিস ভবন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর, বিলাসবহুল আবাসন, পাঁচতারকা হোটেল, শিল্পগ্যালারি, ক্যাফে, রেস্তোরাঁ এবং উন্মুক্ত জনপরিসর একে অপরের পরিপূরক হয়ে গড়ে তুলেছে এক প্রাণবন্ত নগরজীবন। নদীর তীর ঘেঁষে নির্মিত রিভারওয়াক শুধু হাঁটার পথ নয়, এটি শিকাগোর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। কেউ সকালের ব্যায়ামে ব্যস্ত, কেউ নদীর ধারে বসে কফির কাপে চুমুক দিচ্ছেন, কেউ আবার বই পড়ছেন কিংবা শিল্পীর আঁকা ছবি উপভোগ করছেন। আরও পড়ুন শ্রমিক দিবসের সূতিকাগার শিকাগোর হে মার্কেট ঘুরে দেখা ছোট ছোট বিনোদন নৌযান, ব্যক্তিগত ইয়ট, কায়াক এবং পর্যটকবাহী ক্রুজ একের পর এক নদী অতিক্রম করছে। কোথাও সেতুর নিচে সুর ভেসে আসছে পথশিল্পীর বাদ্যযন্ত্র থেকে, কোথাও আবার খোলা আকাশের নিচে বসে পর্যটকেরা দুপুরের খাবার উপভোগ করছেন। নদীর জলে ভবনগুলোর প্রতিবিম্ব এবং তাদের ফাঁক দিয়ে নীল আকাশের উঁকি মিলিয়ে এমন এক মোহনীয় দৃশ্য সৃষ্টি করছিল, যা বারবার চোখে ধারণ করতে ইচ্ছা হচ্ছিল। তখন উপলব্ধি করলাম, একটি নদীকে কেন্দ্র করে সুপরিকল্পিত নগর উন্নয়ন কীভাবে একটি শহরের অর্থনীতি, পর্যটন এবং মানুষের জীবনমানকে সমৃদ্ধ করতে পারে। এই নদী শুধু পানিপ্রবাহ নয়, এটি শিকাগোর প্রাণস্পন্দন, যার বুকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের পদচারণায় শহরের অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল হয়ে ওঠে। নৌভ্রমণ শেষ হলেও আমাদের মুগ্ধতা শেষ হলো না। আমরা ধীর পায়ে রিভারওয়াক ধরে হাঁটতে শুরু করলাম। নদীর তীরের প্রশস্ত পথজুড়ে রঙিন ফুলের টব, শিল্পসম্মত বসার স্থান, ছায়াঘেরা বৃক্ষ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সুপরিকল্পিত আলোকসজ্জা পুরো এলাকাটিকে এক অপূর্ব নান্দনিকতায় ভরিয়ে তুলেছে। দুই পাশে সারি সারি আকাশছোঁয়া ভবনের কাচে তখন বিকেলের সোনালি আলো পড়ে ঝিলমিল করছে। অভিজাত বিপণিবিতানের ঝকঝকে প্রদর্শনী, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের আকর্ষণীয় শোরুম এবং ব্যস্ত মানুষের অবিরাম চলাচল শহরের প্রাণচাঞ্চল্যকে আরও উজ্জ্বল করে তুলছিল। আমরা কখনো ভবনের দিকে তাকাচ্ছি, কখনো নদীর দিকে, আবার কখনো ব্যস্ত হয়ে পড়ছি মোবাইল ফোনে একের পর এক ছবি ধারণ করতে। সত্যি বলতে কী, স্যারনের অসাধারণ বর্ণনার প্রতিটি তথ্য ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে পুরোপুরি মনে রাখা সম্ভব হয়নি। কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে আধুনিক স্থাপত্যের এই অসাধারণ মিলন, নদীর বুকজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আলোর খেলা এবং মানুষের প্রাণবন্ত উপস্থিতি স্মৃতির পাতায় এমন গভীর ছাপ রেখে গেল, যা কোনো ভাষার ব্যাখ্যার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। মনে হচ্ছিল, শিকাগো কেবল ইস্পাত, কংক্রিট আর কাচের শহর নয়, এটি মানুষের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস এবং দূরদর্শী পরিকল্পনার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। সন্ধ্যা নেমে আসছিল ধীরে ধীরে। হাঁটতে হাঁটতে আমরা পৌঁছে গেলাম বহুল পরিচিত ফ্রাইডে রেস্টুরেন্টে। ঠিক তখনই আকাশে জমে থাকা মেঘ হঠাৎ বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ল। কাচের জানালার গায়ে বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ আর বাইরে ঝলমলে শহরের আলোর প্রতিফলন মিলিয়ে সৃষ্টি করল এক স্বপ্নময় পরিবেশ। রাত ঘনিয়ে এলে আমরা লাফায়েতের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলাম। গাড়ি ধীরে ধীরে শহর ছেড়ে এগিয়ে চলল, আর দূরে শিকাগোর আলোকোজ্জ্বল আকাশরেখা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে মিলিয়ে যেতে লাগল। আরও পড়ুন যুক্তরাষ্ট্রের কুপার্স রকের চূড়ায় প্রিয়জনদের সঙ্গে স্মরণীয় এক বিকেল এসইউ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>