জাতীয়

ঐশ্বরিয়ার ভাবমূর্তি ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন যিনি

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
6 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
বলিউডে সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জয়ের পর অভিনয়ে এসে নিজের প্রতিভায় বলিউডেও শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। তবে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তার সেই সৌন্দর্যকেন্দ্রিক ভাবমূর্তিই এক পরিচালক ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন। তিনি আর কেউ নন, ‘তাল’খ্যাত নির্মাতা সুভাষ ঘাই। সম্প্রতি সুভাষ ঘাই জানিয়েছেন, ‘তাল’ সিনেমায় ঐশ্বরিয়াকে নেওয়ার সময় তিনি ইচ্ছা করেই অভিনেত্রীর প্রচলিত গ্ল্যামারাস ভাবমূর্তি থেকে বের করে আনতে চেয়েছিলেন। ছবিটি মুক্তির ২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিনেমাটির নানা স্মৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঐশ্বরিয়াকে মানসী চরিত্রে নেওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন পরিচালক। ‘তাল’-এ মানসী এমন এক তরুণীর চরিত্র, যে ছোট শহর থেকে উঠে আসে। নাচ ও সংগীতের প্রতি তার গভীর টান। নিজের প্রতিভা ও পরিচয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়েই এগিয়ে যায় সে। চরিত্রটির মধ্যে ছিল সারল্য, আবেগ ও সংগ্রামের মিশেল। অন্যদিকে, ঐশ্বরিয়া তখন বলিউডে মূলত সৌন্দর্য ও গ্ল্যামারের প্রতীক হিসেবেই পরিচিত। বিশ্বসুন্দরীর খেতাব জয়ের পর তার চেহারা ও ব্যক্তিত্ব ঘিরে দর্শকের প্রত্যাশাও ছিল আলাদা। তাই মানসীর চরিত্রে তাকে নেওয়া সুভাষ ঘাইয়ের জন্যও ছিল এক ধরনের ঝুঁকি। পরিচালক চেয়েছিলেন, পর্দায় ঐশ্বরিয়াকে যেন বিশ্বসুন্দরী হিসেবে মনে না হয়। বরং চরিত্রের সারল্য ও স্বাভাবিকতাই হয়ে উঠুক তার প্রধান পরিচয়। এ কারণেই ঐশ্বরিয়াকে প্রস্তাব দেওয়ার সময় নিজের পরিকল্পনার কথা সরাসরি জানিয়েছিলেন সুভাষ। তার ভাষায়, ‘আমি ওকে বলেছিলাম, তোমার ভাবমূর্তিটা আমাকে ধ্বংস করতে হবে। কিন্তু প্রথম এক ঘণ্টায় তুমি কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করবে না।’ পরিচালকের এমন শর্তে আপত্তি করেননি ঐশ্বরিয়া। বরং চরিত্রের প্রয়োজনে নিজের পরিচিত ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে আসতে সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে যান তিনি। সুভাষের কথায়, ঐশ্বরিয়া তাকে বলেছিলেন-তিনি যা বলবেন, সেটাই করবেন। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই ‘তাল’র মানসী চরিত্রকে আলাদা মাত্রা দেয়। ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে অনিল কাপুর ও অক্ষয় খান্নার সঙ্গে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। সিনেমার গল্প, সংগীত এবং অভিনয় দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিশেষ করে ঐশ্বরিয়া অভিনয় প্রশংসিত হয়। ‘তাল’ শুধু ঐশ্বরিয়া ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সিনেমা নয়, তার অভিনয়জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকও। সৌন্দর্যের পাশাপাশি একজন অভিনেত্রী হিসেবে তার সক্ষমতাকেও সামনে নিয়ে আসে সিনেমাটি। সুভাষ ঘাইয়ের সেই ঝুঁকিই যেন পর্দায় সফল হয়ে ওঠে। আরও পড়ুন দিনে ৪৭ টাকা আয় করতেন, এখন ২০ কোটির বাড়ির মালিক এই অভিনেতা এদিকে ২৭ বছর পর আবারও ‘তাল’ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন সুভাষ ঘাই। পরিচালক জানিয়েছেন, ‘তাল ২’-এর চিত্রনাট্যের কাজ প্রায় শেষ। তবে সিকুয়েল নির্মাণের ক্ষেত্রেও তিনি প্রথম সিনেমার নীতিতেই থাকতে চান। তার মতে, ‘তাল’ কখনোই শুধু তারকানির্ভর সিনেমা ছিল না। প্রথম ছবিতে অভিনয়শিল্পীদের তারকা পরিচয়ের চেয়ে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। চরিত্রের মধ্য দিয়েই অভিনেতাদের আরও বড় করে তোলার চেষ্টা ছিল। ‘তাল ২’-এর ক্ষেত্রেও সেই ধারাই বজায় রাখতে চান সুভাষ ঘাই। আরও পড়ুন দুর্ঘটনার পর মুখ খুললেন এ আর রহমানের ছেলে ফলে ‘তাল’-এর ২৭ বছর পূর্তিতে সিনেমাটির পুরোনো স্মৃতির পাশাপাশি নতুন করে সামনে এসেছে ঐশ্বরিয়ার সেই সময়ের গল্প-যখন এক পরিচালক তার সবচেয়ে বড় পরিচিতি, অর্থাৎ সৌন্দর্য ও গ্ল্যামারের ভাবমূর্তিই ভেঙে দিয়ে তাকে নতুনভাবে পর্দায় তুলে ধরার সাহস করেছিলেন। এমএমএফ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>