জাতীয়

পদে পদে মৃত্যুফাঁদ অতিক্রম করে কি পাওয়া যাবে ‘যকের ধন’

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
6 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
উম্মে হাবিবা কনা ‘যকের ধন’ বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় রোমাঞ্চকর উপন্যাস। রচনা করেছেন হেমেন্দ্রকুমার রায়। এটি রহস্য ও অভিযানধর্মী কাহিনি। যা মূলত কিশোর পাঠকদের জন্য লেখা। তবে সব বয়সের পাঠকদের মধ্যে এটি সমান জনপ্রিয়। এর কাহিনি আবর্তিত হয়েছে গুপ্তধন সন্ধানকে কেন্দ্র করে। এতে বন্ধুত্ব, বুদ্ধিমত্তা, দুঃসাহসিকতা এবং রহস্যময় ঘটনার সমন্বয় ঘটেছে। গল্পের নামকরণ হয়েছে পৌরাণিক ‘যক’ চরিত্রের ধারণা থেকে। যেখানে যকের ধন বলতে গুপ্তধনকে বোঝানো হয়েছে। বিমল ও কুমার পুরোনো একটি মানচিত্র হাতে পায়, যা একটি গুপ্তধনের অবস্থান নির্দেশ করে। তারা দুজনে মিলে গুপ্তধনের সন্ধানে বের হয় এবং নানা বিপদ ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। গুপ্তধনের আশেপাশে ঘটে যাওয়া রহস্যময় ঘটনাগুলো তাদের অভিযানকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। শেষ পর্যন্ত তারা বুদ্ধি, সাহস এবং বন্ধুত্বের জোরে গুপ্তধনের রহস্য উদঘাটন করে। উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট ১৯০৫-১৯০৬ সালের। যা বাংলা রহস্য ও অভিযান সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। বইটি বিমল ও কুমারের অ্যাডভেঞ্চারের কাহিনি নিয়ে লেখা। কুমারের দাদা ঠাকুরের রেখে যাওয়া নোটবুক থেকে যকের ধন সম্পর্কে জানতে পারে। পরে প্রতিবেশী বিমলকে বিষয়টি জানালে তাদের তরুণ মনে অ্যাডভেঞ্চারের নেশা জেগে ওঠে। সর্তকতার সাথে যথাসম্ভব গোপন রেখে তারা বেরিয়ে পরে রহস্য উন্মোচনের জন্য। পথে অনেক প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন হতে হয়। নোটবুক, ব্যাগপ্যাক একাধিকবার চুরি হয়। লোভী বৃদ্ধ করালী তাদের পিছু নেয়, আক্রমণ করে। বারবার বাঁধা সৃষ্টি করে যাত্রাপথে। আরও পড়ুন বই আলোচনা / বিষণ্ণ সন্ধ্যা কিংবা বিভ্রম: সংকট-সম্ভাবনা মিলেমিশে একাকার কুকুর বাঘা, চাকর রামহরিকে নিয়ে বিমল-কুমারের গুপ্তধন উদ্ধারের যাত্রা ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। পদে পদে বিপদ, মৃত্যুফাঁদ অতিক্রম করে ওরা। দুর্গম অরণ্য পাড়ি দেওয়া, বন্যপ্রাণী থেকে বাঁচা, ভূত-প্রেত-পিশাচের ভয়, পাহাড়ের গুহায় রাতযাপন, প্রকৃতি-ঝরনা-গাছপালা-ফুলসহ বন্যপ্রাণীর নিখুঁত বর্ণনা করেছেন লেখক। বুদ্ধদেবের মূর্তি পর্যন্ত পৌঁছাতে বহু ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়। মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও অল্পের জন্য বেঁচে যায় বিমল। তার প্রখর বুদ্ধি, দুর্দান্ত মনের জোর, আত্মবিশ্বাস এবং পেশী শক্তির কাছে হেরে যায় শত্রুপক্ষ। নোটবুকের সাংকেতিক চিহ্নের সমাধান, গুপ্তধনের রাস্তা খুঁজে বের করা, বারবার গুপ্তহত্যার পরিকল্পনায় আহত হয়েও হার মানেনি অকুতোভয় বিমল। তার পাশে থেকেছে কুমারও। যদিও সে ভিতু ও দুর্বল চিত্তের। কিন্তু তারা একসাথে থেকে শক্তি হয়ে উঠেছে। তারা শেষ পর্যন্ত লড়ে গেছে। তবে তারা কি পেরেছিল সেই গুপ্তধন উদ্ধার করতে। তারপর সেগুলো নিয়ে কি ফিরতে পেরেছিল তাদের বাড়িতে। এসবের উত্তর পেতে হলে বইটি পড়তে হবে। উপন্যাসের চরিত্রগুলো অসাধারণ। বিমল বিশ বছরের টগবগে তরুণ। শরীরের জোর এবং বুদ্ধির জোর দুটোতেই সেরা। হার মানতে সে জানে না। এই অল্প বয়সে বহু দেশ ঘোরা শেষ। সে কুস্তিতেও সেরা। কুমার মাত্র সতেরো বছরের কিশোর। পড়াশোনায় আবদ্ধ থেকেছে সব সময়। ভারতবর্ষে জন্ম হলেও কলকাতার বাহিরে কখনো যায়নি। করালীবাবু কুমার ও বিমলের প্রতিবেশী লোভী-হিংস্র-খচ্চর লোক। বুড়ো বয়সেও সে বিমল-কুমারের সাথে পাল্লা দিয়ে গুপ্তধন উদ্ধার করতে যায়। ওদের বিপদে ফেলে। ক্ষতি করতে চায় বারবার। বাঘা কুমারের প্রিয় কুকুর। ওদের যাত্রাপথে পাশে থকে। বহুবার সহযোগিতা করে এবং প্রাণে বাঁচায় কুমারকে। আরও পড়ুন বই আলোচনা / আয়না: সমাজ ও রাজনীতির তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গচিত্র ‘যকের ধন’ বইটি পড়লাম একদম মনের মতো তৃপ্তি নিয়ে। এত দেরিতে পড়ার জন্য আফসোস হচ্ছে। অসম্ভব দারুণ একটি বই। প্রতিটি পাতায় চমৎকার বর্ণনা। কিশোর রহস্য বইটি কুমারের বর্ণনায় লেখা। গুপ্তধন উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে লেখা বই ‘যকের ধন’। তাই নামকরণ যথাযথ হয়েছে। পড়ার জন্য দ্বিমত করার সযোগ নেই। যারা রহস্য উদঘাটন সম্পর্কিত বই পছন্দ করেন; তারা এটা দিয়ে শুরু করতে পারেন। বই: যকের ধন লেখক: হেমেন্দ্রকুমার রায়প্রকাশক: দূরবীণপ্রচ্ছদ: আইয়ুব আল আমিনমূল্য: ২০০ টাকা। এসইউ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>