বিজ্ঞাপন
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আগেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। সেই পারফরম্যান্সই গত মে মাসে খুলে দেয় টেস্টের দরজা। পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে অবশ্য প্রত্যাশা অনুযায়ী করতে পারেননি। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের দ্বিতীয় টেস্টেই যেন সব সংশয়ের জবাব দিলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। স্টার্ক, কামিন্স, হ্যাজেলউডদের নিয়ে গড়া অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।
ডারউইনে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতে হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে পেসারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়েছেন তানজিদ তামিম, মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত। বিশেষ করে তামিমের ব্যাটিং নজর কেড়েছে অস্ট্রেলিয়ার ধারাভাষ্যকারদের।
সেঞ্চুরি করার আগেই তানজিদের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেন চ্যানেল সেভেনের ধারাভাষ্যকার ট্রেন্ট কোপল্যান্ড। তার চোখে, তিন সংস্করণেই বড় তারকা হওয়ার পথে এগোচ্ছেন এই বাংলাদেশি ব্যাটার।
কোপল্যান্ড বলেন, ‘আমার মনে হয়, সত্যিকারভাবেই তানজিদ তিন ফরম্যাটের তারকা হয়ে উঠছে। যেমন দ্রুতগতির বোলারদের বিপক্ষে খেলার গতি বা ছন্দ পরিবর্তন করা কিংবা খুব সহজেই মিড-অফের ওপর দিয়ে বল পাঠানো, তা দেখে মনে হয় তার খেলায় বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো বৈচিত্র্য আছে। সাদা বলের ক্রিকেটে সে নিজেকে বেশ ভালোভাবে গড়ে তুলেছে।’
টেস্টে আসার আগে তানজিদের মূল পরিচয় ছিল সাদা বলের ক্রিকেটার হিসেবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে করেছিলেন ৩০ রান। ফলে দীর্ঘ সংস্করণে লম্বা সময় ব্যাটিং করার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্নও ছিল। ডারউইনে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট ইনিংসেই সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি।
১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৮টি চার ও একটি ছক্কায়। রক্ষণে যেমন দৃঢ় ছিলেন, প্রয়োজনের সময় আক্রমণেও গেছেন সমান আত্মবিশ্বাসে।
বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে অস্ট্রেলিয়া সহজেই চাপে ফেলবে-এমন ধারণা ছিল অজি ধারাভাষ্যকারদেরও। কিন্তু তানজিদ-শান্তদের ব্যাটিং সেই হিসাব পাল্টে দিয়েছে বলে মনে করেন চ্যানেল সেভেনের আরেক ধারাভাষ্যকার গ্রেগ ব্লুয়েট।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের টপ-অর্ডারকে সহজেই ধসিয়ে দেবে, কিন্তু তারা অস্ট্রেলিয়াকে বেশ ভালোই বেগ দিয়েছে। মনে হচ্ছিল বা বাইরে থেকে দেখে এমনটাই মনে হয়েছে যে, শুরুর দিকেই অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য বলটা বেশ নরম হয়ে গিয়েছিল। গতকাল দিনের শুরুতে বলের যে মুভমেন্ট বা নড়চড় দেখা গিয়েছিল, তা আর ছিল না।’
তামিম ও শান্তর ব্যাটিংয়ের ভারসাম্যও মুগ্ধ করেছে ব্লুয়েটকে। একদিকে উইকেটের মূল্য বুঝে রক্ষণ সামলেছেন দুজন, অন্যদিকে সুযোগ পেলেই অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছেন।
ব্লুয়েট আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের যে বিষয়টি আমার ভালো লেগেছে এবং এই জুটিটি (তানজিদ-শান্ত) যা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, তা হলো তাদের খেলার চমৎকার ভারসাম্য। একদিকে যেমন তারা অত্যন্ত দৃঢ় রক্ষণাত্মক খেলা উপহার দিচ্ছে, তেমনি মাঝেমধ্যে আক্রমণাত্মক মনোভাবও দেখাচ্ছে, যা অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য বেশ হতাশাজনক।’
এসকেডি/এমএমআর
বিজ্ঞাপন