বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবাসিক হলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতির ওয়াই-ফাই ও দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। সংযোগ পাওয়া গেলেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত গতি মিলছে না। আবার কখনো হঠাৎ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ওয়াই-ফাই সচল না থাকার কথাও জানান শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এতে অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য একাডেমিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেও অনেক সময় ওয়াই-ফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ‘নো ইন্টারনেট’ দেখায়। বিষয়টি বিভিন্ন হলের প্রভোস্টদের জানানো হলেও দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে দাবি তাদের।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ওয়াই-ফাই সুবিধা থাকলেও এর গতি এতটাই কম যে স্বাভাবিক অনলাইন কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটে প্রবেশ, ফাইল আদান-প্রদান কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ বার্তা পাঠাতেও কখনো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
আরও পড়ুন
শিক্ষাছুটি শেষে ফেরেননি বাকৃবির ১২ শিক্ষক, পাওনা ৪ কোটি টাকা
তাদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ চলে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পরও অনেক সময় কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত ওয়াই-ফাই সংযোগ ফিরে আসে না। এতে জরুরি অনলাইন কাজও আটকে যায়।
শুধু ওয়াই-ফাই নয়, আবাসিক হলগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণফোন ও এয়ারটেলের নেটওয়ার্ক অনেক জায়গায় দুর্বল বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে ওয়াই-ফাই ও মোবাইল ডেটা দুই মাধ্যমেই ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ঘুরে জানা যায়, ছেলেদের নয়টি এবং মেয়েদের ছয়টি হলে ওয়াই-ফাই সুবিধা রয়েছে। হলগুলোতে রাউটার স্থাপন করা হলেও অনেক জায়গায় ইন্টারনেটের গতি সন্তোষজনক নয়। শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল থেকেই পড়াশোনা, গবেষণা, যোগাযোগসহ নানা অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ফলে ধীরগতির ইন্টারনেট তাদের দৈনন্দিন কাজকে ব্যাহত করছে।
ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী মো. আশিকুজ্জামান বলেন, হলের ব্লকগুলোর ওয়াই-ফাই কখনো ভালো থাকে, আবার হঠাৎ গতি কমে যায়। কখনো পুরোপুরি সংযোগও থাকে না। অনলাইনে পরীক্ষা বা জরুরি কোনো কাজে প্রবেশের সময় হঠাৎ সংযোগে সমস্যা হলে পুরো প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ওয়াই-ফাই না থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
আরও পড়ুন
বাকৃবিতে যাত্রা শুরু করলো ‘উদ্ভিদ পুষ্টি গবেষণাগার’
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকেরাও দুর্বল ইন্টারনেটের কারণে সমস্যায় পড়ছেন। নিয়মিত অনলাইন সভা ও একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে পর্যাপ্ত গতি ও স্থিতিশীল সংযোগ না পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেটের গতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। অনলাইনে সভা করতেও অনেক সময় সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্কও দুর্বল, বিশেষ করে গ্রামীণফোনের সেবা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই ও মোবাইল নেটওয়ার্ক দুই ক্ষেত্রেই উন্নতি প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী বলেন, বাকৃবি বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্কের (BdREN) মাধ্যমে ইউজিসি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ রয়েছে, যা দেশের অল্প কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম।
তিনি আরও বলেন, ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার কারণে কিছু এলাকায় ওয়াই-ফাই সিগন্যাল দুর্বল হওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত অনেক রাউটার কম কনফিগারেশনের হওয়ায় একটি কক্ষ থেকে কয়েকটি কক্ষ দূরে গেলে সিগন্যাল পাওয়া যায় না।
সার্ভার রুমের সমস্যা সম্পর্কে আইসিটি সেলের পরিচালক বলেন, সম্প্রতি ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে সার্ভার রুমের একটি ডিভাইসে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ডিভাইসটি সব সময় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাকআপ দিতে পারছে না। মধ্যরাতে লোডশেডিং হলে সমস্যা আরও প্রকট হয়। রাত ১২টা বা ১টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক সময় দ্রুত ইন্টারনেট পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয় না, কখনো কখনো সকাল পর্যন্ত সেবাও ব্যাহত থাকে।
তিনি আরও জানান, সমস্যা সমাধানে ঢাকার সংশ্লিষ্ট কারিগরি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দলটি এসে ডিভাইসটি পরীক্ষা করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এর ব্যাকআপ ব্যবস্থা উন্নত করা অথবা ডিভাইস পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এসজেডএইচ/জেআইএম
বিজ্ঞাপন