জাতীয়

পাম্পেই পার কয়েক ঘণ্টা, গ্যাস সংকটে আয় কমেছে সিএনজি অটোরিকশাচালকদের

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
দেশে আবারও তীব্র হয়েছে গ্যাসের সংকট। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও গাড়ির চালকরা। অনেক চালক গ্যাস নেওয়ার জন্য এক পাম্প থকে আরেক পাম্পে ঘুরছেন। কোথাও গ্যাস পাওয়া গেলেও দীর্ঘ সিরিয়ালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কমে গেছে দৈনিক আয়। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে ভোর বা সকালে গাড়ি নিয়ে বের হলেও গ্যাস নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। কেউ কেউ কয়েকটি পাম্প ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে খালি গাড়ি নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। চালকদের অভিযোগ, আগে যেখানে অল্প সময়ের মধ্যে গাড়িতে গ্যাস নেওয়া যেত, এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে যাত্রী পরিবহনের সময় কমে যাচ্ছে। ফলে কমেছে ট্রিপ সংখ্যা। এতে জ্বালানি খরচ, গাড়ির মালিকের জমা ও অন্যান্য ব্যয় মেটানোর পর খুব বেশি টাকা আর হাতে থাকছে না। আরও পড়ুন গ্যাসের সংকটে স্থবির চট্টগ্রাম, বাড়ছে জনভোগান্তি শাহবাগে কথা হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমনের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, গ্যাসের জন্য এক পাম্পে গিয়ে দেখি চাপ নেই। পরে আরেক পাম্পে গেলে সেখানেও দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস নিতে পারছি না। সারাদিন গাড়ি চালিয়েও আগের মতো আয় হচ্ছে না। আরেক চালক মনির বলেন, সকালে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর যদি দুই-তিন ঘণ্টা গ্যাসের লাইনে থাকতে হয়, তাহলে যাত্রী পরিবহনের সময় থকে না। গ্যাসের সংকটের কারণে আমাদের দৈনিক আয় অনেক কমে গেছে।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহে তার প্রভাব পড়ে। গ্যাসের চাপ কমে গেলে নির্ধারিত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। এতে একদিকে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়, অন্যদিকে পরিবহন খাতেও এর প্রভাব পড়ে। তবে আশার কথা হলো, জাতীয় গ্রিডে আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে সামিট এলএনজি টার্মিনাল। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। আরও পড়ুন গ্যাস সংকট / স্থবির হবিগঞ্জ শিল্পাঞ্চল, ছাঁটাই আতঙ্কে দেড়লাখ শ্রমিক জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। ধীরে ধীরে সরবরাহের পরিমাণ বাড়বে। শনিবার দিনগত রাত ২টার মধ্যে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পূর্ণ সক্ষমতায় উন্নীত করার আশা করা হচ্ছে। এই টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।   এর আগে, সাগর উত্তাল থাকায় সামিটের এলএনজি টার্মিনালে থাকা কার্গো থেকে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতির কারণে কার্গোটি সরিয়ে নেওয়া হয় এবং সামিট টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশে চলমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সামিটের সরবরাহ বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতি বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে। পাশাপাশি রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্রাহকরাও কম গ্যাসের চাপের কারণে রান্নাবান্নায় ভোগান্তিতে পড়েন। এনএস/কেএসআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>