বিজ্ঞাপন
নারীর জীবন মানেই শুধু প্রতিকূলতার গল্প নয়। সংগ্রাম আছে, বাধা আছে। আছে নিজের মতো করে পথ তৈরি করার আকাঙ্ক্ষাও। সেই অদৃশ্য যাত্রা, আত্মশক্তি ও স্বাধীনতার গল্পই এবার উঠে আসছে শিল্পের নানা মাধ্যমে।
ঢাকার এজ গ্যালারিতে শুরু হয়েছে ‘লবঙ্গলতিকা’ শীর্ষক শিল্পপ্রদর্শনী। চিত্রকলা, স্কেচ, ট্যাপেস্ট্রি, ভাস্কর্য ও ইনস্টলেশনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরছেন ২৩ জন নারী শিল্পী। প্রদর্শনীটি শুরু হয়েছে গতকাল (১৪ আগস্ট) থেকে। চলবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
শুধু প্রতিকূলতার গল্প নয়নারীকে নিয়ে শিল্প ও সাহিত্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত বয়ান রয়েছে। সেখানে নারীর কষ্ট, বাধা ও সংগ্রামই অনেক সময় মুখ্য হয়ে ওঠে। ‘লবঙ্গলতিকা’ সেই চেনা বয়ান থেকে একটু সরে দাঁড়াতে চায়।
প্রদর্শনীর ভাবনায় নারীর কষ্টকে শুধু রোমান্টিক করে দেখানো হয়নি। বরং তুলে ধরা হয়েছে নিজের আলো খুঁজে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা। নিজের জায়গা তৈরি করার শক্তি। নিজের অর্জন ও সাফল্যকে নির্দ্বিধায় ধারণ করার আত্মবিশ্বাস। অর্থাৎ এখানে নারী শুধু প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করা একজন মানুষ নন। তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণের ক্ষমতাও রাখেন।
কোমলতার ভেতরেই দৃঢ়তা‘লবঙ্গলতিকা’ নামটির মধ্যে রয়েছে একটি প্রতীকী ভাবনা। প্রদর্শনীর নামকরণ করা হয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির নাম থেকে। সেই মিষ্টান্নের কোমল ও মিষ্টি ভাঁজের সঙ্গে লবঙ্গের তীক্ষ্ণ স্পর্শ থাকে। নারীর সত্তার মধ্যেও এমন একটি বৈপরীত্য রয়েছে— কোমল, অথচ অবিচল। সূক্ষ্ম, অথচ প্রবলভাবে দৃঢ়। প্রতিকূলতা সহ্য করার ক্ষমতার পাশাপাশি নিজের অস্তিত্ব ও শক্তিকে প্রকাশ করার সাহসও তার রয়েছে। এই দ্বৈততাকেই শিল্পের ভাষায় ধরার চেষ্টা করেছে প্রদর্শনীটি।
২৩ শিল্পীর নিজস্ব মানচিত্রপ্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া ২৩ জন শিল্পী ভিন্ন প্রজন্ম ও ভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল থেকে এসেছেন। তাদের শিল্পচর্চার মাধ্যমও এক নয়। কেউ চিত্রকলায়, কেউ স্কেচে, কেউ ট্যাপেস্ট্রিতে কাজ করেছেন। কেউ আবার ভাস্কর্য কিংবা স্থাপনাশিল্পের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করছেন।
ভিন্নতা থাকলেও তাদের কাজের মধ্যে একটি জায়গায় মিল রয়েছে। প্রত্যেকে নিজের স্বাধীনতার মানচিত্র তৈরি করছেন। তাদের শিল্পে উঠে আসছে আকাঙ্ক্ষা, আনন্দ, হাসি এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের তীব্র শক্তি।
এ কারণে ‘লবঙ্গলতিকা’কে শুধু একটি শিল্পপ্রদর্শনী হিসেবে দেখলে হয়তো পুরো ছবিটা পাওয়া যাবে না। এটি একই সঙ্গে নারীর নিজস্ব কণ্ঠ, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনাকে সামনে আনার একটি সাংস্কৃতিক পরিসর।
শিল্পের ভেতর দিয়ে আত্মশক্তির উদ্যাপনগতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলশানের এজ গ্যালারিতে প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করেন এশিয়া ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি মাহুয়া খান। বার্থার সাবসিডিয়ারিজের নির্বাহী পরিচালক রূপালী চৌধুরী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামিনা লুৎফা এ সময় বক্তব্য দেন।
যাদের শিল্পকর্ম দেখা যাবে‘লবঙ্গলতিকা’য় অংশ নেওয়া শিল্পীরা হলেন— কনক চাঁপা চাকমা, ফরিদা জামান, বিপাশা হায়াত, আইভি জামান, রোকেয়া সুলতানা, ইসরাত জাহান প্রমা, কুহু প্লামন্দন, লেখ নেসা খাতুন, মাকসুদা ইকবাল নীপা, মুক্তি ভৌমিক, নার্গিস পলি, নূর মুনজেরীন রিজভী, শাকিরুন নাহার কানন, শারমিন আক্তার লিনা, শেখ ফারহানা পারভিন টুম্পা, সিগমা হক অংকন, সীমা মল্ল, সুবর্ণা মোর্শেদা, সুরাইয়া রহমান, তানজিম জাহান লাজ, তামান্না হালিম, তুলসী রানী দাস ও ভিনিতা করিম।
সেপ্টেম্বরের ৪ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এটি।আরএমডি
বিজ্ঞাপন