ব্রেকিং নিউজ
জাতীয়

স্পেকট্রাম নীতিতে নতুন ভাবনার আহ্বান

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
স্পেকট্রামকে শুধুমাত্র সরকারি রাজস্ব আহরণের উৎস হিসেবে দেখার পরিবর্তে জাতীয় ডিজিটাল অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ খাতের বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। তাদের মতে, সাশ্রয়ী মূল্যে অধিক স্পেকট্রাম বরাদ্দ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা গ্রহণ করা গেলে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। ‘স্পেকট্রাম ফর এ কানেক্টেড বাংলাদেশ: এনাবলিং ইন্টারনেট ফর অল’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিকম ও আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী। আরও পড়ুন ঢাকায় ১৯ দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তিনদিনের ‘স্পেকট্রাম সিম্পোজিয়াম’ টিআরএনবির সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নেন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) প্রেসিডেন্ট ও রবি আজিয়াটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জিয়াদ সাতারা, বাংলালিংক সিইও ইয়োহান বুসে, গ্রামীণফোন সিইও ইয়াসির আজমান, এমটব মহাসচিব লে. কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার, বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার তাইমুর রহমান, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ, রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম, এফআইসিসিআই এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টির (নির্বাহী পরিচালক) টিআইএম নূরুল কবীর। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এমডি মুনির হাসান ও স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইন। রেহান আসিফ আসাদ স্পেকট্রাম নবায়ন প্রসঙ্গে বলেন, এ বিষয়ে অযৌক্তিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। নেটওয়ার্কের মান, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক মডেল, সেবার সক্ষমতা এবং গ্রাহকের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের উদ্বিগ্ন না হয়ে বাস্তব পরিস্থিতি ও জনগণের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। টেলিযোগাযোগ খাতে স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারণে এককালীন রাজস্ব আয়ের বদলে গ্রাহকসেবা, অপারেটরদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ‘সুইট পয়েন্ট’ খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী। তিনি বলেছেন, টেলিকম নীতি ও স্পেকট্রামের দাম নির্ধারণে অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত নয়, গভীর বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হবে। এমদাদ উল বারী আরও বলেন, আগামী নভেম্বরের বড় পরিসরের স্পেকট্রাম নবায়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে না নিয়ে সংবেদনশীল ও জাতীয় পর্যায়ে অংশীদারিত্বমূলক প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করা উচিত। বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক কাঠামোর বৈষম্য ও স্পেকট্রাম ঘাটতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বমান অনুযায়ী প্রতি ১০ লাখ গ্রাহকের জন্য ২ থেকে ৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশে এ হার মাত্র ২ দশমিক ২৯ মেগাহার্টজ। ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ৪৬০ থেকে ৪৬২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ব্যবহৃত হচ্ছে এবং আগামী বছর আরও ৪০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। আরও পড়ুন ৭০০ ব্যান্ডে নিলাম: বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের জবাব দিলো সরকার এমটব প্রেসিডেন্ট জিয়াদ সাতারা বলেন, স্পেকট্রামের প্রকৃত মূল্য কেবল সরকারের রাজস্ব আয়ের ভিত্তিতে পরিমাপ করা উচিত নয়; বরং এর মাধ্যমে যে উন্নত সংযোগ, বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হয়, সেগুলোর ভিত্তিতেই এর মূল্যায়ন করা উচিত। স্পেকট্রামের অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ অপারেটরদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মূলধন নেটওয়ার্কে বিনিয়োগের পরিবর্তে স্পেকট্রাম ফি পরিশোধে ব্যয় করতে বাধ্য করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সেবার মান এবং গ্রাহকদের ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি আরও বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে স্পেকট্রাম নিশ্চিত করার বিষয়টি কেবল অপারেটরদের সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো উন্নততর সংযোগ নিশ্চিত করা, অধিক বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা। বাংলালিংকের সিইও ইয়োহান বুসে বলেন, গত দশ বছরে দেশে টেলিকম খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়েনি, যদিও এই খাতে খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সাশ্রয়ী স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেওয়া হলে সেবার মান বৃদ্ধি পাবে, দেশের উন্নয়ন হবে ও এই খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, স্পেকট্রাম নবায়নের বিষয়টিকে আমাদের আরও বিস্তৃত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে এবং সঠিক সমাধান ও করণীয় নির্ধারণে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের শিল্পখাতের কাঠামো ও বাস্তবতা মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি বলেন, ভয়েস কলের মিনিট ২৫ শতাংশ কমেছে, এআরপিইউ অপরিবর্তিত রয়েছে; অন্যদিকে, গত পাঁচ বছরে জাতীয় রাজস্ব কোষাগারে আমাদের অবদান বেড়েছে, কিন্তু বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্ত রিটার্ন কমেছে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের আরও বিবেচনা করতে হবে, স্পেকট্রাম নবায়নের অর্থনৈতিক কাঠামো অপারেটরদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিনিয়োগ এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত সক্ষমতা বজায় রাখার সুযোগ দেবে কি না। মূল প্রবন্ধে টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এমডি মুনির হাসান বলেন , ২০০৮ সালে স্পেকট্রাম বরাদ্দের সময় ১৮ বছরের জন্য স্পেকট্রাম দেওয়া হয়েছিল এবং তখন থেকে এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল স্পেকট্রাম থেকে রাজস্ব আহরণ করা। তবে গত ১৫-১৮ বছরের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, টেলিযোগাযোগ খাত দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছে—যেমন সীমিত স্পেকট্রাম হোল্ডিং, অপর্যাপ্ত ফাইবার অবকাঠামো, টাওয়ার সাইটে সীমিত প্রবেশাধিকার এবং স্পেকট্রামের উচ্চমূল্য। এসব সীমাবদ্ধতা শেষ পর্যন্ত সেবার মান খারাপ হওয়ার পাশাপাশি খাতটির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সক্ষমতাকেও সীমিত করেছে। ২০২৫ সালে মোবাইল নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্সের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে ৯৩তম অবস্থানে ছিল। তিনি বলেন, সমমানের অন্যান্য বাজারের বৈশ্বিক উদাহরণগুলো দেখায় যে, আরও প্রগতিশীল স্পেকট্রাম নীতি—বিশেষ করে সাশ্রয়ী মূল্যে বেশি পরিমাণ স্পেকট্রাম এবং দ্রুততর সময়সীমার মধ্যে বরাদ্দ—নেটওয়ার্কের মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনতে পারে। উন্নত কানেক্টিভিটি, এর মাধ্যমে, বৃহত্তর ডিজিটাল অর্থনীতিতে ডিজিটাল সেবা, উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার সুযোগ তৈরি করে। তাই এটি এমন একটি সুযোগ, যেখানে স্পেকট্রাম থেকে তাৎক্ষণিক রাজস্বের বাইরে তাকিয়ে জাতীয় ডিজিটাল প্রবৃদ্ধির জন্য একটি সামগ্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করা যায়। আরও পড়ুন টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব / সিম ট্যাক্সে ১২০০ কোটি টাকার ছাড়ের সুবিধা গ্রাহক নয়, পাবেন অপারেটররা এমডি মুনির হাসান বলেন, যে স্পেকট্রাম অব্যবহৃত বা কম ব্যবহৃত থাকে, তার অর্থনৈতিক মূল্য সীমিত। অন্যদিকে, স্পেকট্রামের মূল্য অতিরিক্ত বেশি নির্ধারণ করা হলে অপারেটরদের নেটওয়ার্ক অবকাঠামোতে বিনিয়োগের পরিবর্তে স্পেকট্রাম ফি পরিশোধে তাদের মূলধনের বড় অংশ ব্যয় করতে হতে পারে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বহিঃপ্রবাহও বাড়তে পারে, কারণ পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম না থাকায় অপারেটরদের ঘাটতি পূরণ করতে অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি কিনতে হয়। বক্তারা বলেন, পাকিস্তান, ভারত, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ সম্প্রতি ৯০০, ১৮০০ ও ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে স্পেকট্রাম বরাদ্দ ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ আবার অতিরিক্ত অর্থ আদায় ছাড়াই স্পেকট্রামের মেয়াদ বাড়িয়েছে। ফলে দেড় দশক আগের মূল্য নির্ধারণের যুক্তি বর্তমান বাস্তবতায় আর প্রযোজ্য নয়। তারা আরও বলেন, দেশের বিরাট অংশের মানুষ এখনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না। পাশাপাশি ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের হাতে এখনো স্মার্টফোন নেই। গড়ে একজন গ্রাহক মাসে আট গিগাবাইটের বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। এ অবস্থায় ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার ঘটাতে সাশ্রয়ী ব্যয়ে উন্নত নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। ইএইচটি/এমএমকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>