বিজ্ঞাপন
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টে দুর্দান্ত এই জয়ের পর দলের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ মেহেদী হাসান মিরাজ। তার মতে, শুরু থেকেই নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস ছিল বলেই বিশ্বমানের অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সম্ভব হয়েছে।
ম্যাচ শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিরাজ বলেন, ‘আমরা দারুণ ক্রিকেট খেলেছি। অনেক দিন পর এখানে এসেছি। পুরো দল অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে এবং নিজেদের চরিত্র দেখিয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে নিজেদের মধ্যে একটি বিষয়ই বারবার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা- বিশ্বাস রাখতে হবে। মিরাজের মতে, সেই বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্সে রূপ নিয়েছে।
‘আমাদের বিশ্বাস ছিল। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বমানের দল, তাদের অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। আমরা জানতাম, যদি তাদের হারাতে পারি, তাহলে সেটা আমাদের দেশের জন্য অনেক বড় কিছু হবে। আমাদের একটাই বার্তা ছিল- বিশ্বাস রাখতে হবে। বিশ্বাস না করলে এটা সম্ভব নয়,’ বলেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন মিরাজ। সেই ইনিংস আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ভূমিকা রেখেছিল কি না- এমন প্রশ্নে তিনি জানিয়েছেন, দলের বিশ্বাসটাই ছিল মূল শক্তি।
তবে এই জয়ের পরও বাংলাদেশকে সামনে তাকাতে হচ্ছে। সিরিজের পরবর্তী টেস্ট ম্যাকেতে। সেখানে ভিন্ন কন্ডিশনে নিজেদের মানিয়ে নেওয়াই হবে বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।
মিরাজ বলেন, ‘ম্যাকেতে আমাদের ভাবতে হবে, এই কন্ডিশনে কিভাবে পারফর্ম করা যায়। আমরা ব্যাটিং ভালো করেছি, সঠিক সময়ে ভালো বোলিং করেছি। পরের ম্যাচেও কন্ডিশন অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে।’
ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করতে গিয়ে বিশেষভাবে তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের কথা উল্লেখ করেছেন মিরাজ। পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের অবদানকেও তিনি আলাদা করে দেখেছেন।
‘প্রথম ইনিংসে তানজিদ তামিম যেভাবে ব্যাটিং করেছে, শান্ত ও মুমিনুলও খুব ভালো করেছে। এরপর নিচের সারির ব্যাটারদের সঙ্গে আমার দারুণ জুটি হয়েছে। তারা যদি আউট হয়ে যেত, তাহলে আমি আমার রান করতে পারতাম না। তারা উইকেটে ছিল বলেই আমি রান করতে পেরেছি।’
নিজের ৬৫ রানের ইনিংসটি নিয়ে মিরাজের কথাতেও উঠে এসেছে সতীর্থদের অবদানের বিষয়টি। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের তিনি শুধু টিকে থাকার পরামর্শই দেননি, প্রতিপক্ষের বোলারদের নিয়ে বেশি চিন্তা না করার কথাও বলেছেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, কে বোলিং করছে সেটা নিয়ে চিন্তা করো না।’
বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেছেন মিরাজ। তার মতে, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শান্ত দারুণ কাজ করেছেন, ‘শান্ত খুব ভালো অধিনায়ক। সঠিক সময়ে ভালো সিদ্ধান্ত নেয়। এই ম্যাচেও সে খুব ভালো নেতৃত্ব দিয়েছে।’
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের প্রশংসা করতে গিয়ে মিরাজ উল্লেখ করেছেন হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কথাও। প্রথম ইনিংসে হাসান একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। আর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের স্পিনাররা নিয়েছেন ৬ উইকেট।
‘হাসান প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনাররা ছয় উইকেট নিয়েছে। উইকেটে তৈরি হওয়া ফুটমার্কও আমাদের সাহায্য করেছে,’- বলেন মিরাজ।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এমন জয় দেশের ক্রিকেটে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে বলেও মনে করছেন মিরাজ। দেশের মানুষের প্রতিক্রিয়ার কথা বলতে গিয়ে তার কণ্ঠে ছিল আবেগ, ‘আমি মনে করি, সবাই খুব খুশি। তারা খুব গর্বিত। এটা গর্ব করার মতো একটি মুহূর্ত।’
ডারউইনে বাংলাদেশের সমর্থকদের উপস্থিতির কথাও ভুলে যাননি মিরাজ। মাঠে এসে দলকে সমর্থন করার জন্য দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
‘অনেক দর্শক এসেছেন। আমাদের সমর্থন করার জন্য ভক্তদের ধন্যবাদ। তারা বিশ্বাস করেছিলেন যে আমরা ম্যাচটি জিততে পারি। আর সেই বিশ্বাস থেকেই আমরা জিতেছি।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই জয় বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর নিজেদের সামর্থ্যের বড় প্রমাণ। মিরাজের কথায়ও স্পষ্ট- এই জয় এসেছে আগে নিজেদের ওপর বিশ্বাস থেকে, এরপর মাঠে সেই বিশ্বাসকে পারফরম্যান্সে পরিণত করার মাধ্যমে।
এখন সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই ম্যাকেতে দ্বিতীয় টেস্টে নামবে বাংলাদেশ। ডারউইনে ইতিহাস লেখা হয়ে গেছে, এবার মিরাজ-শান্তদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ- সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।
আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন