জাতীয়

গোলান ঘিরে ঘূর্ণায়মান শঙ্কা, ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য কি তবে সিরিয়া?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
6 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সম্প্রতি সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান, তল্লাশি, গ্রেফতার এবং গোলাবর্ষণ চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত শুক্রবার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দারা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের বাড়িঘরের দিকে গুলি চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এই হামলার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। এর পাশাপাশি কুনেইত্রা প্রদেশে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন এবং বেসামরিক নাগরিক ও যানবাহনে তল্লাশি চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে দক্ষিণ কুনেইত্রা প্রদেশের আল-রাফিদ শহরে ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে।সিরিয়ার আল-ইখবারিয়া টিভি জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী আল-রাফিদে প্রবেশ করে কয়েকটি বাড়িতে অভিযান ও তল্লাশি চালায়। আরও পড়ুন সিরিয়ার গোলান মালভূমি / ইসরায়েলের ভূমি হিসেবে কলম্বিয়ার স্বীকৃতি, সৌদিসহ ৩ দেশের তীব্র নিন্দা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের সরকার পতনের পর ইসরায়েল ১৯৭৪ সালের চুক্তিকে অকার্যকর ঘোষণা করে। এরপর দখলকৃত সিরিয়ার গোলান মালভূমির সংলগ্ন জাতিসংঘ-নিয়ন্ত্রিত বাফার জোনে প্রবেশ করে এবং দক্ষিণ সিরিয়ার আরও ভেতরে সামরিক অবস্থান স্থাপন করে। এছাড়া গোলান মালভূমি ইসরায়েলের বলে সম্প্রতি স্বীকৃতি দিয়েছে কলম্বিয়া। আরও পড়ুন ফের আলোচনায় গোলান মালভূমি / ইসরায়েলকে রুখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চায় সিরিয়া বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক ফ্রন্টে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া ও ইরান। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্থানেও ইসরায়েল হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েলি নেতারা নিজেরাই বর্তমান সংঘাতকে ‘সাত ফ্রন্টের যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আরও পড়ুন সিরিয়ার ২ এলাকা দখল, অস্থায়ী চেকপয়েন্ট বসিয়েছে ইসরায়েল এমন অবস্থার মধ্যেই বিতর্কিত এক মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রবাস বিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি। তার মতে, নিকট ভবিষ্যতে সিরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে ইসরায়েল এবং গাজা উপত্যকার চেয়েও তা ভয়াবহ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। চিকলি বলেন, গাজার আরও তীব্র সংস্করণ হচ্ছে সিরিয়া এবং পরবর্তী যুদ্ধ সিরিয়াতেই হবে-এ বিষয়ে আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত। এটি এড়ানোর কোনো উপায় নেই। সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রকাশ্য হুমকি চিকলির জন্য নতুন নয়। এর আগেও চিকলি বলেছিলেন, শিগগির হোক বা দেরিতে আমরা সিরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করব কারণ সিরিয়া ও তুরস্ক ইরানের চেয়ে অনেক বেশি উদ্বেগের কারণ। তবে, সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব বারবার জানিয়েছে যে, তারা ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না। তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ইসরায়েলি বাহিনীকে আসাদের পতনের আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল দক্ষিণ সিরিয়ার একটি বড় অংশজুড়ে অসামরিকীকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে। ইসরায়েল বর্তমানে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের কিছু অংশে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর দক্ষিণ লেবাননের একটি বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে এবং গোলান মালভূমির বাইরেও সিরিয়ার অতিরিক্ত ভূখণ্ডে অবস্থান করছে। ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী হওয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং নিরাপত্তা সমীকরণ পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই চুক্তিতে মুসলিম বিশ্বের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি একত্র হয়েছে। তুরস্ক-ন্যাটোর সদস্য, পাকিস্তান-পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রসৌদি আরব-মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম আরব অর্থনীতি। এই যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ন্যাটোর আর্টিকেল ৫ অনুযায়ী, একজন সদস্যের ওপর হামলাকে পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এক্ষেত্রে তাই বিবেচনা করা হবে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর কেএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>