বিজ্ঞাপন
ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের জন্য টাকা জমা দেওয়ার পরও মাসের পর মাস লাইসেন্স না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
তিনি বলেছেন, যেদিন আবেদন ও টাকা জমা হবে, সেদিনই ট্রেড লাইসেন্স দিতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো কর্মকর্তা বা বিভাগ ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) মতিঝিল কার্যালয়ে ‘স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, আইনশৃঙ্খলা, যানজট পরিস্থিতির উন্নয়ন ও ট্রেড লাইসেন্স সেবা’ শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিসিসিআই ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে লাইসেন্স নবায়ন সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন ও নবায়নকৃত ট্রেড লাইসেন্স বিতরণ করা হয়।
সভায় মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী ভুট্টো অভিযোগ করেন, কয়েক মাস ধরে টাকা জমা দেওয়ার পরও ট্রেড লাইসেন্স পাচ্ছেন না তারা। এমন অভিযোগ ওঠায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে ছাড় না দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
এসময় আব্দুস সালাম বলেন, ‘দিনের লাইসেন্স দিনে দিতে হবে। যদি এই ব্যাপারে কোনো ব্যর্থতা ঘটে, যে অফিসার করছে, যে সেকশন করছে, আপনারা আমার কাছে রিপোর্ট করবেন। সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ এ ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই।’
তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রেড লাইসেন্সের ফি বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছিল। একইভাবে সাইনবোর্ডের ফি বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি এসব প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘ট্যাক্স বাড়ানোর প্রস্তাব আসছিল, ট্রেড লাইসেন্সের ফি বাড়ানোর প্রস্তাব আসছে, সাইনবোর্ডের ফি বাড়ানোর প্রস্তাব আসছে। কিন্তু আমি সবগুলোই নাকচ করে দিয়েছি। কোনোটা কার্যকর করতে দিইনি। তারপরও এখানে এসে কেন আমাকে শুনতে হবে—গতবার এত টাকা দিয়েছি, এবার বেশি দিতে হচ্ছে কেন?’
এসময় তিনি ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান বলেন, দিনের লাইসেন্স দিনে দেওয়ার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। প্রতিদিনের লাইসেন্স প্রতিদিনই দেওয়া হচ্ছে এবং কোনো লাইসেন্স পেন্ডিং নেই বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার / অটো নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা চলছে
তিনি বলেন, ‘যিনি আজ নবায়নের জন্য আসবেন, টাকা জমা দেবেন, আজই সেটা ইস্যু হবে। এজন্য রাত ১০টা, ১২টা এমনকি ১টাও বাজে—আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
খয়বর রহমান বলেন, কোনো ব্যবসায়ীকে হয়রানি বা কষ্ট দেওয়ার সুযোগ নেই। এরপরও কোনো ব্যবসায়ী তিন মাস ধরে লাইসেন্স না পাওয়ার অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
পরে অনুষ্ঠান শেষে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী ভুট্টো জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০২৪, ২০২৫ সালে যারা লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেনি, তাদের লাইসেন্স নবায়ন করতে আমাদের সমিতির অফিস থেকে কাগজ নিয়ে গেছেন এক কর্মকর্তা। পুরোনো ফি মাফ করে দিয়ে সিটি করপোরেশন থেকে দ্রুত লাইসেন্স করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিন মাসেও আমাদের ওই সদস্যরা নবায়নকৃত লাইসেন্স এখনো হাতে পায়নি।
লাইট জ্বলতে হবে
শহরের সড়কবাতি নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের যেসব লাইট পোস্টে বিদ্যুতের সংযোগ ও বাতি রয়েছে, সেসব বাতি অবশ্যই জ্বলতে হবে।
তিনি বলেন, ‘লাইট পোস্টে যদি বিদ্যুতের লাইন থাকে, লাইট থাকে, তাহলে সে লাইট জ্বলতে হবে। এ ব্যাপারেও কোনো ছাড় নেই।’ এ ধরনের সমস্যা থাকলে এলাকাভিত্তিক গণশুনানি ও হিয়ারিংয়ের মাধ্যমে অভিযোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। বিষয়গুলো দেখতে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেন।
এনবিআরের ফি কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের করতে হবে
ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সময় ব্যবসায়ীদের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করতে হয় উল্লেখ করে আব্দুস সালাম বলেন, এ অর্থ সিটি করপোরেশন পায় না। ব্যবসায়ীদের উচিৎ সরকারের কাছে এ ফি কমানোর দাবি জানানো।
তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে আমাদের এনবিআরকে তিন হাজার টাকা দিতে হয়। এনবিআরকে দিতে হয়, এটা কিন্তু সিটি করপোরেশন পায় না। আপনারা সরকারের কাছে দাবি করতে পারেন, তারা যেন এটা কমায়। তাহলে আপনাদের অনেক টাকা কমে আসবে।’
ব্যবসা-বান্ধব নগর গড়ার আহ্বান
পুরান ঢাকাকে ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে ধরে রাখতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
তিনি বলেন, একসময় মতিঝিল ছিল ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র। পরে ব্যবসা কারওয়ান বাজার, গুলশান, বনানী হয়ে এখন উত্তরা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। ব্যবসায়ীরা পুরান ঢাকা ছেড়ে চলে গেলে এ এলাকার অবস্থার কী হবে—এ প্রশ্নও রাখেন তিনি।
‘ব্যবসায়ীরা আজ দেশের প্রাণ। ব্যবসায়ী না থাকলে দেশ সামনের দিকে যাবে না। ব্যবসা না হলে সরকার টাকা পাবে কোথা থেকে, দেশ চলবে কীভাবে?’—বলেন আব্দুস সালাম।
তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স এখনো ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তুলনায় কম। দায়িত্ব নেওয়ার পর হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর প্রস্তাব এলেও তিনি তা কার্যকর করেননি।
তবে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের ব্যয় অনেক বেশি। প্রতি মাসে প্রায় ২৫ কোটি টাকা শুধু বেতন বাবদ ব্যয় হয়। সেই তুলনায় রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব হয়নি।
সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ করিমও বক্তব্য দেন। তিনি রাজধানীতে যন্ত্রচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানান। একইসঙ্গে যানজট নিরসনে ট্রাফিক ক্যামেরা সচল করার উদ্যোগ এবং চাঁদাবাজি কঠোরভাবে দমনের কথা বলেন।
ইএইচটি/এমআইএইচএস
বিজ্ঞাপন