জাতীয়

তেহরান থেকে ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দেবে ইরান?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
6 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গণহত্যা কিছুটা কমলেও চলতি বছর নতুন করে শুরু হয় ইরান-মার্কিন যুদ্ধ। ২০২৫ সালের জুন মাসের ১২ দিনের যুদ্ধে পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই যুদ্ধের তীব্রতা বর্তমানে কিছুটা কমলেও তা বিশ্বের তেল বাণিজ্য বড় বাধার সৃষ্টি করেছে। এর মূল কারণ হরমুজ প্রণালি এবং পরবর্তীতে ইয়েমেনের বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ পারাপারে নানাবিধ হামলা। এই দুই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের ৩২ শতাংশ সম্পন্ন হয়। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তা প্রায় শূন্যের কোঠায় না নামলেও প্রয়োজনের তুলনা তা অপ্রতুল। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে এ দুটি জলপথকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে তেহরান। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এমন তথ্য কি ছিল না? উত্তর হচ্ছে-এমন তথ্য এবং ইঙ্গিত আগে থেকেই পেয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র। তাহলে এর পরেও ইরানে কেন হামলা চালানো হলো? আরও পড়ুন দ্য নিউইয়র্ক টাইমস / ইরান যুদ্ধে কৌশলগত পরাজয়ের পথে যুক্তরাষ্ট্র, মিত্রদের উৎকণ্ঠা! ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। এসবের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-ইরানের কাছে থাকা ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ পরমাণু। এই পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে ইরান যদি পারমাণবিক বোমা তৈরি করে তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের জন্য বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে আছে দখলদার ইসরায়েল যা ট্রাম্প নিজেই একাধিকবার বলেছিলেন। আরও পড়ুন ইরানের সরকার পরিবর্তনে / ‘কল্পনানির্ভর’ হামলা ইসরায়েলের, ফের আলোচনায় ৪৪০ কেজি ইউরোনিয়াম আরও পড়ুন ব্লুমবার্গ রিপোর্ট / পরিদর্শনের সুযোগ দিলেও ইউরেনিয়ামের তথ্য গোপন করছে ইরান: আইএইএ সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর যুক্তি: ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের হাতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এমনকি ইউরোপে হামলা চালাতে সক্ষম এমন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আছে। এছাড়াও, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে যাচ্ছে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা এরই মধ্যে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যেগুলো ইউরোপ এবং বিদেশে আমাদের ঘাঁটিগুলোকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। আর তারা এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ করছে যেগুলো শিগগির যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারবে।’ আরও পড়ুন নিউ ইয়র্ক টাইমস বিশ্লেষণ / ইরানের কৌশল: যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পকে হটানো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বেন শাপিরোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ইরান যে কোনো আমেরিকান শহরকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে। মানুষ এটি বিশ্বাস করে না। ইরান ৮,০০০ কিলোমিটার পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে; এর সঙ্গে আরও ৩,০০০ কিলোমিটার যোগ করতে পারলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে পারবে। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্যে একটি প্রশ্ন উঠে আসে-ইরান কি তাহলে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরি করছে? এর উত্তর ট্রাম্প নিজেই দিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জানান- ইরান আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তবে, ICBM কর্মসূচির কথা বরাবরই অস্বীকার করেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছিলেন, স্টেট ইউনিয়নে দেওয়া ট্রাম্পের ওই ভাষণ ‘বড় বড় মিথ্যায়’ পূর্ণ ছিল। এর আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও ইউরোপীয় সরকারগুলো বলে আসছিল, ইরান চাইলে তার সামরিক মহাকাশ কর্মসূচির আড়ালে ভবিষ্যতে ICBM তৈরি করতে পারে। তবে, সম্ভাব্য ICBM কর্মসূচির কারণে হুমকি তৈরি হয়েছে বলে তারা কোনো সতর্কবার্তা দেননি।  এর আগে ২০২৫ সালে প্রকাশিত Defense Intelligence Agency (DIA)-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের কাছে এমন স্পেস লঞ্চ ভেহিকল (SLV) রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে তেহরান চাইলে ২০৩৫ সালের মধ্যে সামরিকভাবে কার্যকর ICBM তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি নিউজ-কে বলেন, ইরান বহু বছর ধরে ICBM তৈরির দিকে এগোচ্ছে এবং অগ্রগতিও করছে। তবে, নাটকীয় বা হঠাৎ বড় ধরনের নতুন অগ্রগতির কোনো প্রমাণ নেই। ইরান ICBM সক্ষমতা অর্জনের কতটা কাছাকাছি? এ প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেছিলেন-তারা কতটা দূরে আছে, সে বিষয়ে আমি অনুমান করব না। তবে তারা অবশ্যই আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে-এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ (ICBM) কী? সাধারণত নিক্ষেপ করার পর দূরত্ব অতিক্রম করার ওপর নির্ভর করে ক্ষেপণাস্ত্রের পার্থক্য তৈরি হয়। এক্ষেত্রে ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লা (দূরত্ব) একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমা। কোনো ক্ষেপণাস্ত্র এই পাল্লা অতিক্রম করতে পারলে তা আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সীমার নিচে কয়েক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।   আরও পড়ুন ‘খোরদাদ-৩’ / বিধ্বস্ত করেছে মার্কিন যুদ্ধবিমান, নিরাপদ রাখছে ইরানের আকাশ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ কারণ কী? ইরান যদি আন্তঃমহাদেশীয় (ICBM) ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে তবে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে সক্ষম হবে। এর বাইরেও আরেকটি মূল কারণ হচ্ছে-এই সীমার ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক ওয়ার হেড বহন করতে পারে এবং যে সব দেশের কাছে ICBM রয়েছে তারা সবাই পরমাণু শক্তিধর দেশ; যেমন-যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, ভারত, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে কার্যকর আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) রয়েছে। তবে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যার ICBM নেই।  আরও পড়ুন এক দেশ, ৩১ যুদ্ধক্ষেত্র: ইরানের ‘মোজাইক ডিফেন্স’ কৌশল তাই, এমন ক্ষেপণাস্ত্রের কর্মসূচি গ্রহণ করা মানে ধরে নেওয়া হয় যে, পারমাণবিক ওয়ার হেড বহন করার জন্যেই ICBM তৈরি করা হয়। তবে, এটি সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।  ইরানের কাছে যে সব ক্ষেপণাস্ত্র আছে: বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হলো খোররামশাহ (Khorramshahr)। এর পরীক্ষিত পাল্লা ৪,০০০ কিলোমিটার। এছাড়া ইরানের ভাণ্ডারে মাঝারি-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে যেগুলো ১,০০০ থেকে ৩,০০০ কিলোমিটার (৬২১ থেকে ১,৮৬৪ মাইল) পর্যন্ত যেতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দিয়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চল এবং ইউরোপের কিছু অংশে আঘাত হানতে পারবে।   তবে, ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি কত সময়ে সম্পন্ন হতে পারে—এ ধরনের পূর্বাভাস দেওয়া সরকারি ও বেসরকারি বিশ্লেষকদের জন্য সবসময়ই কঠিন। ইরান একটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে কত সময় নিতে পারে, তা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি অর্জনের প্রমাণিত ইতিহাস রয়েছে। তাই দেশটি এখন যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম পূর্ণাঙ্গ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরি করছে- এমন দাবি খুব একটা বিস্ময়কর নয়। ইরানের ICBM ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে নতুন বিতর্ক! সম্প্রতি বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে যে, তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ১৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কথা ভাবছে। আরব গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ডিফেন্স এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতিনিধি আব্দুল-নবি মুসাভি ফার্দ সম্প্রতি এমন কথা বলেছেন। তার বক্তব্যকে ১৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার প্রয়োজনীয়তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে আঘাত হানার সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই পাল্লা ইরানের ভূখণ্ড থেকে বিশ্বের যে কোনো দেশের বিরুদ্ধে আঘাত হানার জন্য যথেষ্ট।তবে, মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সরাসরি শুধু একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই নয় বরং পৃথিবীর প্রায় যে কোনো স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া নিয়ে কিছুটা সন্দেহ রয়েছে। ইরানের প্রথম ৫,৫০০ কিলোমিটারের তুলনায় সামান্য বেশি পাল্লার ICBM তৈরি করলে তা বেশি যৌক্তিক বলে ধরা যেত। তবে, ইরানের ভূখণ্ড থেকে ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্কে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য কমপক্ষে ১০ হাজার কিলোমিটার পাল্লা প্রয়োজন। তাই এমন তথ্য উড়িয়েও দেওয়া যাচ্ছে না।  ইরান এই প্রযুক্তি কীভাবে পাবে? এমন প্রযুক্তির সাধারণত অন্য কোনো ‘রগ স্টেট’ বা আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করতে হবে। এমন দেশের কাছ থেকে বিদ্যমান নকশা ও প্রযুক্তি গ্রহণ করা হতে পারে। এক্ষেত্রে, ইরানের সমালোচকদের উপস্থাপিত একটি সমীকরণ হচ্ছে-রাশিয়া থেকে উত্তর কোরিয়ার মাধ্যমে ইরানে কাছে ICBM ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি হস্তান্তর।     ইরানের খোররামশাহর একটি তরল-জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র। এটি উত্তর কোরিয়ার Hwasong-10 (Musudan বা BM-25 নামেও পরিচিত)-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আর Hwasong-10 সোভিয়েত R-27 সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে মনে করা হয়। এছাড়া, উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, যেগুলোর পাল্লা ১৫,০০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি বলে ধারণা করা হয়। এর একটি হলো Hwasong-18। ২০২৩ সালের ১২ জুলাই-এর উৎক্ষেপণের পর এর গতিপথ পুনর্গণনা করে ১৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লা নিশ্চিত করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। এর চেয়েও শক্তিশালী একটি সংস্করণ হলো Hwasong-19, যার পাল্লা ১৭,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি বলে ধারণা করা হয়।একই সময়ে, Hwasong-18-এর উন্নয়নে রাশিয়ার ভূমিকা যথেষ্ট স্পষ্ট বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার তিন-ধাপের কঠিন-জ্বালানিচালিত Topol-M আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে উদ্ভূত।উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, উত্তর কোরিয়ায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র তুলনামূলকভাবে দ্রুত উদ্ভূত হয়েছে এবং এগুলোর পরীক্ষা আশ্চর্যজনকভাবে সফল হয়েছে। এটি আরও ইঙ্গিত দেয় যে পরীক্ষিত ও আগে থেকেই প্রমাণিত প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত: Arms Control Association-এর নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল কিমবল মনে করেন, ইরানের সম্ভাব্য আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্য ‘অতিরঞ্জিত’। কিমবল বলেন, ‘ইরানের কাছে এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যেগুলো এই অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে। তাদের কাছে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নেই। এমনকি থাকলেও, সেই ক্ষেপণাস্ত্রের মাথায় বসানোর মতো পারমাণবিক অস্ত্র তাদের নেই।’ অন্যদিকে, Foundation for Defense of Democracies-এর ইরান কর্মসূচির সিনিয়র পরিচালক বেনহাম বেন তালেব্লু বলেন, ICBM তৈরির ক্ষেত্রে ইরান ঠিক কতটা এগিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে তেহরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে, যার মধ্যে সম্ভাব্য আন্তঃমহাদেশীয় অস্ত্রও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণযান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মধ্যে থাকা প্রযুক্তিগত মিল কাজে লাগাতে পারে। ইরানের প্রপালশন বা রকেট-চালনা ব্যবস্থা এবং গাইডেন্স প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ভবিষ্যতে ICBM তৈরির পথ সুগম করতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কয়েক দশক ধরে সতর্ক করে আসছে যে, ইরান তার সামরিক মহাকাশ কর্মসূচি ব্যবহার করে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। তারা এমনও পূর্বাভাস দিয়েছিল যে ইরান তুলনামূলক দ্রুত এই প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারে। আরও পড়ুন ১০০ দিন পর / ব্লান্ডার-জুগজুয়াং-স্টেলমেট: তিন শব্দে ইরান বনাম মার্কিন যুদ্ধ ১৯৯৯ সালের একটি মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিল যে, ইরান ২০১০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকির মুখে ফেলতে সক্ষম একটি ICBM-এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করতে পারে। তবে, সে মূল্যায়ন এখনও সত্যি হয়নি। তাই ইরানের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি নিয়ে বর্তমানে যে আলোচনা এবং গোয়েন্দা মূল্যায়ন প্রকাশিত হচ্ছে তা নিয়েও সন্দেহ থেকে যায়।  কেএম 
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>