বিজ্ঞাপন
ব্যস্ত জীবনে হাসির মুহূর্ত যেন ক্রমেই কমে যাচ্ছে। কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা, নানা ব্যস্ততার মাঝে একটু হাসিই অনেক সময় মনকে হালকা করে দিতে পারে। আর সেই হাসির উপলক্ষ তৈরি করতেই প্রতিবছর পালিত হয় টেল অ্যা জোকস ডে। নাম থেকেই বোঝা যায়, এই দিনের মূল উদ্দেশ্য হলো অন্যকে একটি মজার কথা বা জোকস শুনিয়ে হাসানো।
ক্যালেন্ডারে থাকা নানা মজার দিবসের মধ্যে টেল অ্যা জোকস ডে বেশ ব্যতিক্রমী। এখানে কাউকে উপহার দেওয়ার প্রয়োজন নেই, বিশেষ কোনো আয়োজনও করতে হয় না। একটি ছোট্ট মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত রসিকতা কিংবা পুরোনো কোনো জোকসই হয়ে উঠতে পারে দিনটি উদযাপনের মাধ্যম।
হাসি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
হাসি শুধু আনন্দের প্রকাশ নয়, এটি মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করতে পারে। মন ভালো থাকলে মানুষের সামাজিক যোগাযোগও সহজ হয়। পরিচিত কিংবা অপরিচিত কারো সঙ্গে একটি মজার কথা ভাগ করে নেওয়া মুহূর্তেই পরিবেশকে কিছুটা প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসির সঙ্গে শরীরে নানা ইতিবাচক শারীরিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। হাসলে মস্তিষ্কে এন্ডোরফিনের মতো ‘ফিল-গুড’ রাসায়নিক নিঃসরণ হতে পারে, যা সাময়িকভাবে মন ভালো করতে সাহায্য করে। তবে হাসিকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি ভালো থাকার দৈনন্দিন অভ্যাসগুলোর একটি হতে পারে।
আরও পড়ুন
‘বাঘ এসেছে, বাঘ!’ আসলেই আসে নাকি আড়ালে অন্য কিছু চলে
কীভাবে পালন করবেন টেল অ্যা জোকস ডে?
এই দিনটি পালন করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো কাউকে একটি জোকস শোনানো। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে পুরোনো মজার গল্প মনে করতে পারেন। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় নতুন কোনও কৌতুক শেয়ার করা যেতে পারে। চাইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজের পছন্দের নিরীহ ও মজার জোকস পোস্ট করতে পারেন।
অফিসেও দিনটি একটু অন্যভাবে পালন করা যায়। সহকর্মীদের নিয়ে ছোট্ট ‘জোকস সেশন’ হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, মজা করার সময় যেন কাউকে অপমান বা বিব্রত করা না হয়। ব্যক্তিগত চেহারা, শারীরিক বৈশিষ্ট্য, ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ, প্রতিবন্ধকতা কিংবা ব্যক্তিগত দুর্বলতাকে নিয়ে হাসাহাসি না করাই ভালো।
একটি ছোট্ট জোকস দিয়েই শুরু হোক
বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলেন-‘তুই এত বই কিনিস, পড়িসও?’
বন্ধু বললো-‘অবশ্যই!’
‘কী পড়িস?’
‘বইয়ের দাম!’
জোকসটি হয়তো খুবই সাধারণ। কিন্তু কাউকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য হাসাতে পারাটাই তো এই দিনের আসল উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন
আজকের কৌতুক: স্ত্রীর ডায়লগ যখন বস বলে দেয়
প্রতিদিনের জীবনে আমরা অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজের পেছনে ছুটতে গিয়ে হাসির জন্য সময় রাখি না। অথচ একটি হাসি কখনো কখনো কঠিন দিনকেও একটু সহজ করে দিতে পারে। তাই টেল অ্যা জোকস ডে-তে নিজের জন্য নয়, বরং আশপাশের মানুষগুলোর মুখে একটু হাসি ফোটানোর চেষ্টা করাই হতে পারে সবচেয়ে সুন্দর উদযাপন।
আজ তাই সুযোগ পেলেই কাউকে একটি জোকস শোনান। হয়তো আপনার বলা কয়েকটি মজার কথা কারো মন খারাপের দিনটিকে কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও আনন্দে ভরিয়ে দেবে।
কেএসকে
বিজ্ঞাপন