ব্রেকিং নিউজ
নরসিংদীতে পুলিশের অভিযান, অস্ত্র-মাদকসহ গ্রেফতার ২৩৭ মরদেহ উদ্ধারের গুজবে নিখোঁজ ৫ জেলের জন্য খোঁড়া হলো কবর মিরপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান, গ্রেফতার ৪৫ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীতে ডিএমপির কঠোর নিরাপত্তাবলয়, দেশজুড়ে সতর্ক র‌্যাব আগামী শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক হচ্ছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছ থেকে বাংলাদেশিসহ ৭৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার ইনভেস্ট বাংলাদেশ চেয়ারম্যানকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পাবনায় কমিটি বাতিলের দাবিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঝাড়ু মিছিল অজিত দোভাল-ওয়াং ই বৈঠক: সীমানা নির্ধারণ এগিয়ে নিতে চায় ভারত ও চীন ফারহান ফাইয়াজকে যখন রিকশায় ওঠাই , তখন সে একটি দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়ে: জবানবন্দিতে সাক্ষী সাইদ
জাতীয়

পুরুষদের যৌনাঙ্গের আকার বাড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে, ঝুঁকি কতটা?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
4 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
পুরুষদের মধ্যে যৌনাঙ্গের আকার বা পুরুত্ব বাড়াতে ফিলার ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার ব্যবহার করে পেনিসের পুরুত্ব বাড়ানোর পদ্ধতি কিছু ক্লিনিকে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে চিকিৎসকদের সতর্কতা, দীর্ঘমেয়াদি তথ্যের ঘাটতি এবং গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি নিয়েও এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ম্যানচেস্টারের জেসন নামের এক ব্যক্তি এমন ফিলার নিয়েছেন। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিনি জানান, তার পেনিসের পুরুত্ব প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে। জেসনের দাবি, এই পরিবর্তন তার আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে। তবে তিনি এমন অতিরিক্ত ফিলার চাননি, যাকে অনেকে মজা করে ‘কোকাকোলার ক্যান’ বলে থাকেন। অতিরিক্ত ফিলারের কারণে যৌনাঙ্গের আকৃতি অস্বাভাবিক মোটা হয়ে গেলে এমন নাম দেওয়া হয়। জেসন জানান, তিনি পেনিসের দৈর্ঘ্য নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন না। তার চাওয়া ছিল কিছুটা বেশি পুরুত্ব এবং ভারসাম্যপূর্ণ আকৃতি। প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে চিন্তা করার পর তিনি অস্ত্রোপচারের বদলে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার বেছে নেন। এই ধরনের ফিলার সাময়িক। সময়ের সঙ্গে তা শরীরে শোষিত হয়ে যায়। ফলে ফলাফল পছন্দ না হলে সেটি স্থায়ী থাকবে না—এই বিষয়টিও জেসনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। কেন বাড়ছে আগ্রহ? বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের সৌন্দর্য ও শরীর নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশা বদলে যাওয়াও এই প্রবণতার অন্যতম কারণ। জেসনের ভাষায়, বিষয়টি পুরুষত্ব দেখানোর প্রতিযোগিতা নয়। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিজ্ঞাপন এবং নিখুঁত শরীরের ছবি মানুষের নিজের শরীর সম্পর্কে ধারণাকে প্রভাবিত করছে। পেনিস বড় বা মোটা করার জন্য অস্ত্রোপচার ও অস্ত্রোপচারবিহীন—দুই ধরনের পদ্ধতিই রয়েছে। এর মধ্যে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। একই উপাদান ঠোঁটের ফিলারেও ব্যবহার করা হয়। এই উপাদান শরীরে স্বাভাবিকভাবেই পাওয়া যায়। এটি পানি ধরে রাখে। ফলে ইনজেকশন দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্থানে কিছুটা ভলিউম তৈরি হয়। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের একটি ক্লিনিকে এ ধরনের চিকিৎসা দেন চিকিৎসক জাভেদ হুসেইন। তিনি জানান, তার কাছে বিভিন্ন বয়সের পুরুষ আসছেন। তাদের মধ্যে ২০-এর কোঠার পুরুষ যেমন রয়েছেন, তেমনি ৭২ বছর বয়সী রোগীও রয়েছেন। তার মতে, চিকিৎসার আগে রোগীর স্বাস্থ্য, কেন তিনি এই পদ্ধতি নিতে চান এবং তার প্রত্যাশা—সবকিছু নিয়ে আলোচনা করা হয়। সাধারণত যৌনাঙ্গের কয়েকটি অংশে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড দেওয়া হয়। এরপর ফিলারটি সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে ম্যাসাজ করা হয়। রোগীকেও পরে বাড়িতে নির্দিষ্টভাবে ম্যাসাজ করতে বলা হয়। প্রক্রিয়াটির খরচ প্রায় ৩ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। এর মাধ্যমে সাধারণত ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত পুরুত্ব বাড়তে পারে। তবে এই ফলাফল স্থায়ী নয়। সাধারণত ছয় থেকে নয় মাস পর ফিলারের প্রভাব কমে আসে। ঝুঁকিও কম নয় চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখানেই। ফিলার ব্যবহারের পর ব্যথা, ফোলা, কালশিটে দাগ কিংবা ফিলার অসমভাবে ছড়িয়ে পড়ার মতো সমস্যা হতে পারে। আরও গুরুতর ক্ষেত্রে সংক্রমণ হতে পারে। এ ছাড়া যৌনাঙ্গে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও টিস্যু রয়েছে, যেগুলো যৌন সক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয়। ভুলভাবে ফিলার দেওয়া হলে এসব কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এক রোগীর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল বলে জানান হুসেইন। অন্য জায়গা থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর ওই ব্যক্তির যৌনাঙ্গ কালো হতে শুরু করে। ভুল ধরনের ফিলার ব্যবহারের পাশাপাশি রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্বকও মারা যেতে শুরু করেছিল। পরে তাকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। ম্যানচেস্টারের এনএইচএসের ইউরোলজিক্যাল সার্জন অধ্যাপক বৈভব মোদগিলও এমন রোগী দেখেছেন। তার ভাষায়, এসব জটিলতা দেখা দিলে রোগীর জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ত্বকের একটি অংশ মারা যেতে পারে। ত্বক কালো হয়ে পরে খসে পড়তেও পারে। ফলে যে ব্যক্তি নিজের চেহারা বা আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন, তিনি আরও বেশি অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরতে পারেন। অস্ত্রোপচারেও ঝুঁকি শুধু ফিলার নয়, অন্যান্য পদ্ধতিতেও ঝুঁকি রয়েছে। অ্যালেক্স নামের এক ব্যক্তি জার্মানিতে পেনিস বড় করার অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। তার ক্ষেত্রে পেনিসকে কিছুটা লম্বা দেখানোর জন্য একটি লিগামেন্ট কাটা হয়। একই সঙ্গে শরীরের অন্য অংশ থেকে চর্বি সংগ্রহ করে যৌনাঙ্গে ইনজেকশন দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর প্রচণ্ড ব্যথায় তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। পায়ে প্রচুর কালশিটে পড়ে এবং কিছুদিন ঠিকভাবে হাঁটতেও পারেননি। পরে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হন। অ্যালেক্স বলেন, সমাজ ও পর্নোগ্রাফির কারণে তার মনে হয়েছিল বড় পেনিসই পুরুষত্বের প্রতীক। পরে তিনি বুঝতে পারেন, এই ধারণা তার নিজের শরীর সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করেছিল। চিকিৎসকদের সতর্কতা পেনিস ফিলার বা অন্যান্য যৌনাঙ্গ বড় করার চিকিৎসা নিয়ে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানও নেই। কতজন পুরুষ এসব পদ্ধতি নিচ্ছেন, তার সরকারি কোনো হিসাব নেই। তবে অনলাইন সার্চ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিজ্ঞাপনের প্রবণতা দেখে চিকিৎসকদের ধারণা, এ ধরনের চিকিৎসা বাড়ছে। ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস সম্প্রতি এসব পদ্ধতি নিয়ে সতর্ক করেছে। সংস্থাটি ৩৬টি গবেষণা পর্যালোচনা করেছে। এসব গবেষণায় প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জন পুরুষের তথ্য ছিল। তারপরও দীর্ঘমেয়াদে এসব চিকিৎসা কতটা নিরাপদ, সে বিষয়ে পরিষ্কার সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দীর্ঘমেয়াদি তথ্যের অভাব। ফিলার যৌনাঙ্গে বছরের পর বছর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা এখনো যথেষ্ট জানা যায়নি। আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো—এই ধরনের ফিলার দেওয়ার জন্য সব জায়গায় চিকিৎসা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক নয়। ফলে অনভিজ্ঞ ব্যক্তির হাতে চিকিৎসা নেওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়ে। অধ্যাপক মোদগিল সরাসরি নিষেধাজ্ঞাকে হয়তো অতিরিক্ত কঠোর মনে করেন। তবে তার মতে, এই চিকিৎসা চালু থাকলে পুরো খাতটিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। তিনি জাতীয় পর্যায়ে একটি রেজিস্ট্রি চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে কতজন পুরুষ এই চিকিৎসা নিচ্ছেন, কী ধরনের জটিলতা হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর ফল কী—এসব তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। তবু জেসনের মতো কিছু পুরুষ ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট। বর্তমান ফিলারের প্রভাব শেষ হয়ে গেলে তিনিও আবার চিকিৎসাটি নেওয়ার কথা ভাবছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য নেওয়া এই ধরনের চিকিৎসার আগে ঝুঁকি, চিকিৎসকের যোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সম্পর্কে ভালোভাবে জানা জরুরি। সূত্র: বিবিসি এমএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>