বিজ্ঞাপন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রতিষ্ঠায় নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহর অবদান ও ভূমিকা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ‘ইশরাত মঞ্জিল’ নামে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
শনিবার (১৫ আগস্ট) নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহর ১৫৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদের সম্পাদনায় প্রকাশিত গ্রন্থটিতে নবাব সলিমুল্লাহর অবদান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং তৎকালীন সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভিন্ন গবেষক ও শিক্ষকের লেখা সংকলিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, জাতি হিসেবে আমরা অনেক সময় নিজেদের ইতিহাস ও অবদান রাখা ব্যক্তিদের ভুলে যাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে নবাব সলিমুল্লাহসহ যাদের অবদান রয়েছে, তাদের যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি, এর পেছনে নবাব সলিমুল্লাহর অবদান রয়েছে। যে মানুষটি তার ৬০০ একর জমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ওয়াক্ফ করে দিয়েছেন, তাকে এখন পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি দিতে পারিনি।’
সাদিক কায়েম দাবি করেন, গত কয়েক বছরে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং একপর্যায়ে হলটির শিক্ষার্থীদের অ্যালটমেন্টও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
ডাকসুর উদ্যোগে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও কর্মসূচির পর পুনরায় হলটিতে অ্যালটমেন্ট চালু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘যে বিশ্ববিদ্যালয় মুসলমানদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের—আমার বোনদের হিজাব পরার কারণে তাদের ক্রিমিনালাইজ করা হয়, ট্যাগিং করা হয়।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরআন তেলাওয়াতের আয়োজন এবং রমজানকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেও শিক্ষার্থীদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবদান প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ ও স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ডাকসু কাজ করছে।
তিনি জানান, ‘ইশরাত মঞ্জিল’ স্মারকগ্রন্থটি ডাকসুর সংগ্রহশালায় সংরক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে বইটি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্যও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর জিএস ফরহাদ বলেন, নবাব সলিমুল্লাহর অবদান বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ইতিহাসে তার অবদান নিয়ে প্রত্যাশিত মাত্রায় গবেষণা ও প্রকাশনা হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা ডাকসুর পক্ষ থেকে এমন একটি কাজ করতে চেয়েছি, যা দীর্ঘদিন টিকে থাকবে। আমাদের বিশ্বাস, বাংলা ভাষা যতদিন থাকবে, নওয়াব সলিমুল্লাহর অবদানের উজ্জ্বল স্মারক হিসেবে এই বইটি টিকে থাকবে।
ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে নবাব সলিমুল্লাহর অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই ‘ইশরাত মঞ্জিল’ প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি জানান, বইটিতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের লেখা প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও লেখা আহ্বান করা হয়েছিল। কয়েকশ লেখা থেকে বাছাই করে কিছু লেখা বইটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর বিভিন্ন সম্পাদক ও সদস্যরা নবাব সলিমুল্লাহর অবদান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য দেন।
এসময় ডাকসুর পক্ষ থেকে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতির ইতিহাস নিয়ে একটি ডকুমেন্টেশন ও স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়। পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের জিমনেসিয়াম, কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কার, মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নসহ ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন নেতারা।
এমআইএইচএস/
বিজ্ঞাপন