জাতীয়

গাড়ি পোড়ানোর মামলায় মেজর সাদিককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন নাকচ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
6 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় প্রাইভেটকার পোড়ানোর ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত মেজর সাদিকুল হক সাদিককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকলে কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত পুলিশের আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ মামলায় মেজর সাদিককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন আদালত নাকচ করেছেন। তবে অন্য কোনো নতুন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হতে পারে।  অন্যদিকে, সাদিকের আইনজীবী এইচ এম আল আমিন বলেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে বর্তমানে আর কোনো মামলায় আটক রাখার আদেশ না থাকায় কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই। গত ৭ আগস্ট ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাদিককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক চাঁদ আলী। আদালত এ বিষয়ে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ১০ আগস্ট দিন ধার্য করেন। ওইদিন কারাগার থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আরও পড়ুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় / ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ’ নেতাকর্মীদের শিক্ষাজীবনের ভবিষ্যৎ কী? শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, গাড়ি পোড়ানোর ঘটনার সময় তার মক্কেল কারাগারে ছিলেন। ফলে বাইরে সংঘটিত ওই ঘটনায় তিনি কীভাবে সম্পৃক্ত হতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন। রোববার আদালতে দেওয়া লিখিত ব্যাখ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালে ২০২৫ সালের ৩ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত বসুন্ধরার কেবি কনভেনশন হলে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে গোপন সভা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছিলেন মেজর সাদিক। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, এসব আয়োজন থেকে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তার মদতে প্রাইভেটকার পোড়ানোর ঘটনা ঘটে। ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, মেজর সাদিক ভাটারা থানার অন্য একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। তদন্তে ওই ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার লিখিত ব্যাখ্যায় আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধান প্রশিক্ষক ও ‘কানেক্টর’ হিসেবে মেজর সাদিক বিভিন্ন স্থানে গোপন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করেছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব স্থানের মধ্যে রূপগঞ্জের পূর্বাচল সি-সেল নামের একটি রিসোর্ট, কাঁটাবনের একটি রেস্টুরেন্ট, মিরপুর ডিওএইচএস, উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর এবং আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতে প্রিয়াংকা সিটিতে তার স্ত্রী সুমাইয়া যাফরিনের সঙ্গে থাকা ফ্ল্যাটের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এসব গোপন সভা ও প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী পরবর্তীতে গ্রেফতার হলেও অনেকে এখনো গ্রেফতারের বাইরে রয়েছেন। সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত মেজর সাদিককে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর সামরিক আদালত তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে আটক ছিলেন বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন। এমডিএএ/এমকেআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>