বিজ্ঞাপন
মাঝে মিডিয়ার সাথে কথা বলায় একটু সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে অমন জয়ের পর আর প্রচারমাধ্যমের সাথে কথা বলতে কোনই বাধা নেই। হাবিবুল বাশার, মোহাম্মদ আশরাফুল আর তালহা জুবায়েররা এখন মুক্ত বিহঙ্গ।
এমন উজ্জ্বল ও চমৎকার পারফরমেন্সের পর সবাই ফুরফুরে মেজাজেই আছেন। আজ বাংলাদেশ সময় পড়ন্ত বিকেল (অস্ট্রেলিয়ান সময় রাত ৮টার পরে) একসাথে ডিনার করতে গেছেন ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তারা।
সেই সময় জাগো নিউজের সাথে কথা বললেন ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অসি বধ, তাও ব্যাটিং-বোলিংয়ের প্রতিটি শাখায় একচেটিয়া প্রাধান্য বিস্তার করে। এমন সাফল্যর পেছনের গল্প কী?
রোববার জাগো নিউজকে সে গল্পই শুনিয়েছেন টাইগার ব্যাটিং কোচ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ভাষায়ই কথা বললেন আশরাফুল। তারও মনে হয়, ডারউইনের হারারা ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া ৯ উইকেটের জয়টিই টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। শুধু টেস্টে নয়, অপর দুই ফরম্যাটেও এটাই বাংলাদেশের সেরা জয়। কেন তা মনে হয়? তার ব্যাখ্যায় গিয়ে বাংলাদেশের সব সময়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার আশরাফুল বলেন, আলহামদুলল্লিাহ, এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় র্অজন, বিশেষ করে পাঁচ দিনের টেস্ট ক্রিকেটে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দল, যাদের বিপক্ষে পাকিস্তান ৩১ বছর আগে জিতেছিল এবং শ্রীলঙ্কা এখনো জিততেই পারেনি। সেই জায়গায় বাংলাদেশ দল জিতেছে। প্রথমে জিম্বাবুয়ের মাটিতে একমাত্র টেস্টে ইনিংস পরাজয়। তারপর ৩ দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার এবং ৫৪ রানে অলআউট। তারপর হঠাৎ কি হলো যে পুরো দল একদম তেঁতে উঠে এত ভালো খেললো?
এ প্রশ্নের জবাবে টাইগার ব্যাটিং কোচ জানান, ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পর খেলোয়াড়দের মধ্যে ভালো করার যে জেদ ছিল, তা প্রশংসনীয়। ক্রিকেটাররা সাফল্য পেতে মুখিয়ে ছিল। প্রত্যেকে নিজের শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করেছে।
ভালো খেলার পিছনে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও অনেক কাজে লেগেছে বলে দাবি আশরাফুলের। তার কথা, ‘আমি দেশ ছেড়ে আসার আগেও বলেছিলাম যে আমাদের এই টেস্ট দলটা অভিজ্ঞ। আপনি যদি দেখেন যারা একাদশে খেলেছে, সবার ম্যাচ সংখ্যা ৪০, ৬০, ৭০, ৮০ এমনকি ১০০ পর্যন্ত। বিশ্ব ক্রিকেটে এমন অভিজ্ঞ দল খুব কমই পাবেন। আমাদের টেস্ট দলটা মাশাআল্লাহ খুব অভিজ্ঞ।’
আশরাফুলের কথা ঠিক। ডারউইনে খেলা বাংলাদেশের ১১ ক্রিকেটারের টেস্ট সংখ্যা: সাদমান ২৯, তানজিদ তামিম ২, মুমিনুল হক ৭৯, নাজমুল হোসেন শান্ত ৪৩, মুশফিকুর রহিম ১০৪, লিটন দাস ৫৫, মেহেদী হাসান মিরাজ ৫৯, তাইজুল ৬১, তাসকিন ২৫, এবাদত হোসেন ২৫ ও হাসান মাহমুদ ১৫।
তানজিদ তামিম, হাসান মাহমুদ আর তাসকিন আহমেদ ছাড়া মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাজমুল হোসেন শান্ত সবাই ৪০-এর বেশি টেস্ট খেলে ফেলেছেন।
মানা গেল, দলটির অর্ধেকের বেশি ক্রিকেটার গড়ে ৪০ থেকে ৫০, ৬০, ১০০+ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ। কিন্তু তারপরও জিম্বাবুয়ের কাছে টেস্ট পরাজয় আর অস্ট্রেলিয়ায় এসে গা গরমের ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পর এমন কামব্যাক, এর পিছনের কাহিনী কী? বিশেষ করে ৩ অসি ফাস্টবোলার হ্যাজলেউড, কামিন্স ও স্টার্কদের বিপক্ষে। এই ঘুরে দাঁড়ানোটা কীভাবে সম্ভব হলো? প্রধান কারণ কী ছিল?
বাংলাদেশ ব্যাটিং কোচের কথা, ‘প্রথমত, আমরা খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। জিম্বাবুয়েতে টেস্টের আগে আমরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাইনি। এখানে আমরা ১১-১২ দিন সময় পেয়েছি। যদিও প্র্যাকটিস ম্যাচ ভালো হয়নি, কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো ছিল। প্রতিটি খেলোয়াড় ব্যক্তিগতভাবে এই টেস্টে ভালো করার জন্য প্রস্তুত ছিল।’
‘এছাড়া আবহাওয়া এবং উইকেট আমাদের পক্ষেই ছিল। ডারউইনের তাপমাত্রা ২৮-৩০ ডিগ্রি ছিল, যা অস্ট্রেলিয়ার অন্য ক্রিকেটারদের জন্য কঠিন ছিল। কারণ তারা সবাই বিভিন্ন রাজ্য থেকে এসেছে। যেসব অঞ্চল শীতপ্রধান জায়গা। এই গরম আমাদের জন্য বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। আমাদের বোলাররা অসাধারণ বল করেছে। টস হারার পর প্রথম বোলিং করার সুযোগ পাওয়াটাও আমাদের জন্য ভালো হয়েছে, কারণ শুরুতে উইকেট সহজ ছিল না।’
এমএমআর
বিজ্ঞাপন