বিজ্ঞাপন
পরিচয় শনাক্ত ৩ লাখের বেশি, রাখাইনের নিরাপত্তা বাধায় ফেরতে জটিলতা : মিয়ানমারবাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনতা রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন বলে শনাক্ত করেছে মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত জান্তা সরকার। তবে, বাংলাদেশ থেকে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকা পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের স্থানীয় পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত সরকারের যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠাতে রাখাইনে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিলতা সৃষ্টি করেছে। রাখাইনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রত্যাবাসন শুরু হবে না। এর পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার একটি দ্বি-পাক্ষিক বিষয় বলে জানিয়েছে দেশটি।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে বলে সোমবার (১৭ আগস্ট) এ সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:
১) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৮২৮,৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে ৩০৮,৭৯৭ জনকে সাবেক রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হয়েছে।
২) জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পর ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এখনো অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্র ও স্থলপথে মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আসছে।
৩) মিয়ানমারের দাবি, বাংলাদেশের প্রত্যাবাসন তালিকায় থাকা ৪ হাজার ২৪১ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এছাড়া আরও ১,১৩,৫০৭ জনকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে দেশটি জানিয়েছে।
৪) মিয়ানমার বলছে, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে না।
৫) মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বর্তমানে আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়াই করছে। এটি রাখাইনে সক্রিয় একটি জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা ওই অঞ্চলের জন্য আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন চায়।
৬) মিয়ানমারের বক্তব্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার একটি দ্বিপক্ষীয় বিষয়।
৭)মিয়ানমার বলেছে, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের আগের প্রত্যাবাসন উদ্যোগগুলোতে দুই দেশ প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যায়নি।
৮) মিয়ানমার মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া ৫,০০০ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে মালয়েশিয়া জানিয়েছে, তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে-এমন পরিস্থিতিতে এই প্রত্যাবাসন কার্যকর করা হবে না।
উল্লেখ্য, সর্বপ্রথম ১৯৭৮ সালে মিয়ানমারের তৎকালীন সামরিক সরকারের অভিযান ও নির্যাতনের কারণে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। পরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমঝোতার মাধ্যমে তাদের একটি বড় অংশ ফিরে যায়। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নির্যাতন ও সহিংসতার কারণে কয়েক দফায় বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তবে, ২০১৬-১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।
কেএম
বিজ্ঞাপন