ব্রেকিং নিউজ
বাংলাদেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই, রটনা ছড়ানো হচ্ছে: ত্রাণ মন্ত্রী ফুলবাড়ী ট্র্যাজেডির ২০ বছর আজ হামের টিকা পাবে আরো ৩০ লাখ শিশু হাম উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু সুইমিং পুলে পূজা চেরির সঙ্গে রহস্যময় পুরুষ, তবে কি তিনিই হবু স্বামী? বাবার থেকে নেওয়া ১০ হাজার টাকায় শুরু, ১০ বছরে কতটা এগোল নিশাতের ‘অরাম বাংলাদেশ’ টিনের চাল দিয়ে পড়ত পানি, কুঁড়েঘরে বেড়ে ওঠা ছেলেটি যেভাবে জাতীয় অঙ্গনের ফুটবলার দি মারিয়ার হাজার ম্যাচের মাইলফলকে পূর্বসুরি দুজন আর্জেন্টাইন কারা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেল রাস্তা, পানিবন্দী মেক্সিকোর পর্যটন নগরী আকাপুলকো ‘বিএনপির লোকদের সুবিধা দিতেই সিটি নির্বাচনে গড়িমসি’
জাতীয়

পর্যাপ্ত ডাম্পিং স্টেশন নেই, মামলার পরই সড়কে ফিরছে আটক যানবাহন

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রাজশাহী নগরীর ব্যস্ত সড়কে প্রতিদিনই বাড়ছে যানবাহনের চাপ। বৈধ-অবৈধ নানা ধরনের যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত করে আটক করার সক্ষমতাও রয়েছে পুলিশের। কিন্তু অভিযান চালিয়ে গাড়ি আটক করার পরই সামনে আসে বড় প্রশ্ন-আটক করা গাড়ি রাখা হবে কোথায়। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের জন্য নেই কোনো স্থায়ী ও পর্যাপ্ত ডাম্পিং স্টেশন। ফলে আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সক্ষমতা থাকলেও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে অনেক সময় কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছে না ট্রাফিক পুলিশ। অনেক ক্ষেত্রে মামলা বা জরিমানা করে যানবাহন ছেড়ে দিতে হচ্ছে। পরে একই যানবাহন আবারও সড়কে নামছে। ১৯৯২ সালের ১ জুলাই চারটি থানা নিয়ে যাত্রা শুরু করে রাজশাহী মহানগর পুলিশ। সময়ের সঙ্গে আরএমপির পরিধি ও কার্যক্রম বেড়েছে। বর্তমানে মহানগর পুলিশের অধীনে রয়েছে ১২টি থানা এবং ট্রাফিক বিভাগসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট। ‘ডাম্পিং স্টেশন থাকলে আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়বে। শুধু জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় যানবাহন জব্দ করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় নেওয়া সম্ভব হবে। এতে যানবাহনের মালিকদের মধ্যেও আইন অমান্য করার প্রবণতা কমবে।’ আরএমপির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, মহানগর পুলিশের এখতিয়ার বর্তমানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়নের অংশ মিলিয়ে প্রায় ৪৭২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে আরএমপি ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে এবং ৩৫তম বছরে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ এই সময়ে মহানগরের পরিধি ও যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশের জন্য প্রয়োজনীয় স্থায়ী ও পর্যাপ্ত ডাম্পিং স্টেশন এখনো গড়ে ওঠেনি। আরও পড়ুন জামালপুর জিলা স্কুলে একটি টয়লেট ব্যবহার করে ১০১ জন ছাত্র ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডাম্পিং স্টেশন শুধু জব্দ করা গাড়ি রাখার জায়গা নয়; আইন অমান্যকারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণে এটি পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো। কোনো যানবাহন আইন ভঙ্গ করলে সেটি আটক করার পর নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হয়। গাড়িটি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, যন্ত্রাংশ চুরি না হয় কিংবা অন্য কোনো ধরনের ক্ষতি না হয়, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। ‘মহানগরের আয়তন এখন আর আগের মতো ছোট নেই। যানবাহনের সংখ্যাও বেড়েছে। এ অবস্থায় ট্রাফিক বিভাগের জন্য একটি স্থায়ী ও নিরাপদ ডাম্পিং স্টেশন অত্যন্ত জরুরি। মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় এলাকাভিত্তিক ডাম্পিং স্টেশন থাকলে সবচেয়ে ভালো হয়। কারণ কোনো এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি গাড়ি আটক করার পর সেটিকে দূরের ডাম্পিং স্টেশনে নিতে অনেক সময় লাগে। এতে পুলিশের সময় ও শ্রম দুটোই বেশি ব্যয় হয়। কাছাকাছি এলাকায় ডাম্পিং স্টেশন থাকলে দ্রুত যানবাহন সরিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।’ কিন্তু পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যানবাহন আটক করে রাখা সম্ভব হয় না। ফলে অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশকে অনেক ক্ষেত্রে আগে থেকেই হিসাব করতে হয়-আটক করা গাড়িটি কোথায় রাখা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো আইন অমান্যকারী গাড়ি আটক করার পর সেটিকে নিরাপদে রাখার দায়িত্বও পুলিশের। কিন্তু নিরাপদে রাখার জায়গা না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই আটকের সংখ্যা কমিয়ে দিতে হয়। ফলে যে গাড়িকে আটক করার কথা, সেটিকেও অনেক সময় আটক করা সম্ভব হয় না। তখন মামলা বা জরিমানা করে ছেড়ে দিতে হয়। এতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। যেসব যানবাহন জব্দ করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, জায়গার অভাবে সেগুলোর অনেকগুলোই আবার সড়কে ফিরে আসছে। সামান্য জরিমানা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার পর একই যানবাহন আবার আইন ভঙ্গ করছে। ফলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযানও প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। বিশেষ করে অটোরিকশা ও অন্যান্য তিন চাকার যানবাহনের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি প্রকট। অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলার ছাড়াও মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, মিনিবাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নিতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। কিন্তু এসব যানবাহন আটক করার পর রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সবগুলোর বিরুদ্ধে একই মাত্রায় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ‘রাজশাহীতে যানবাহনের সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়েছে। এছাড়াও রাজশাহীতে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। ট্রাফিক পুলিশের চোখের সামনে দিয়ে লাইসেন্সবিহীন ও আইন অমান্যকারী যানবাহন চলাচল করে, কিন্তু পুলিশ অনেক সময় ব্যবস্থা নেয় না। এর কারণ কী, সেটা আমরা জানি না। তবে পুলিশ এসব গাড়ি আটক করে জব্দ করলে রাজশিয়ার সড়কে এমন অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করত না।’ ট্রাফিক পুলিশ আনোয়ার হোসেন উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরুন ১০০টি গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু যদি ২০টি গাড়ি রাখার মতো জায়গা থাকে, তাহলে বাস্তবে ১০০টি গাড়ি আটক করা সম্ভব নয়। কারণ আটক করার পর গাড়িগুলো নিরাপদে রাখা পুলিশের দায়িত্ব। ফলে জায়গার সংকট সরাসরি পুলিশের অভিযান পরিচালনার সক্ষমতাকে সীমিত করছে। এদিকে বর্তমানে রাজশাহীর হেলেনাবাদ এলাকায় একটি সরকারি কোয়ার্টারের পাশে ছোট একটি জায়গা অনেকটা অস্থায়ী ডাম্পিং হিসেবে ব্যবহার করছে আরএমপি ট্রাফিক বিভাগ। জায়গাটি অনেক আগে থেকেই ব্যবহার করা হলেও এটি কোনোভাবেই পূর্ণাঙ্গ ডাম্পিং স্টেশনের বিকল্প নয়। আয়তনে ছোট হওয়ায় সেখানে বেশিসংখ্যক যানবাহন রাখা সম্ভব হয় না। এর সঙ্গে রয়েছে প্রশাসনিক জটিলতাও। জায়গাটি মূলত গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) কোয়ার্টারের অংশ। এটি আবাসিক এলাকার হওয়ায় সেখানে জব্দ করা বিপুলসংখ্যক যানবাহন রাখা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। জায়গাটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য পিডব্লিউডি একাধিকবার ট্রাফিক বিভাগকে চিঠি দিয়েছে। তবে বিকল্প ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় আপাতত জায়গাটি ব্যবহারের সুযোগ রাখার জন্য ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে যে জায়গাটিকে ডাম্পিং হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি একদিকে ছোট, অন্যদিকে অস্থায়ী। সেখানে বেশি গাড়ি জমে গেলে নতুন করে জায়গার সংকট তৈরি হয়। এ অবস্থায় কোনো অভিযানে একসঙ্গে অনেক যানবাহন আটক করার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে। এদিকে গত ৩ আগস্ট আরএমপির ট্রাফিক বিভাগ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান চলাকালে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, ইজিবাইক, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি মামলা দায়ের করা হয়। একই সঙ্গে ২৫টি যানবাহন আটক করা হয়। ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত এসব অভিযানে প্রতিদিনই আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা ও অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে জব্দ করা যানবাহন দীর্ঘ সময় রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সব ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ডাম্পিং স্টেশন না থাকার প্রভাব শুধু ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নগরবাসীর ওপর। সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, মনিচত্বর, কাদিরগঞ্জ, রেলগেট ও তালাইমারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যত্রতত্র পার্কিং এবং সড়কে বিশৃঙ্খলার কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি। রাজশাহী জেলা পুলিশ ও মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জেলায় ১৩৫টি এবং মহানগরে ৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় মোট ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১৬৯টি মামলা হয়েছে। পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার প্রায় অর্ধেকই মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। এছাড়া প্রায় ৪০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ট্রাক বা ডাম্প ট্রাকের কারণে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, চালকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাব, বৈধ লাইসেন্স না থাকা এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে। মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ধীরগতির যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। রাজশাহী নগরীর হেতমখাঁ এলাকার বাসিন্দা আদিত্য রয় বলেন, রাজশাহীতে যানবাহনের সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়েছে। এছাড়াও রাজশাহীতে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। ট্রাফিক পুলিশের চোখের সামনে দিয়ে লাইসেন্সবিহীন ও আইন অমান্যকারী যানবাহন চলাচল করে, কিন্তু পুলিশ অনেক সময় ব্যবস্থা নেয় না। এর কারণ কী, সেটা আমরা জানি না। তবে পুলিশ এসব গাড়ি আটক করে জব্দ করলে সড়কে এমন অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করত না। রাজশাহীর সচেতন নাগরিক হানিফ মাহমুদ বলেন, রাজশাহী বাংলাদেশের অন্যতম ক্লিন সিটি। তবে এই শহরের পরিবেশ ও সড়কব্যবস্থা আমরা সঠিকভাবে রক্ষা করতে পারছি না। রাজশাহীতে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের কারণে অনেক সময় রাস্তা দিয়ে হাঁটা কঠিন হয়ে পড়ে। এসব যানবাহনের মধ্যে অনেকগুলোর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স নেই। এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ট্রাফিক পুলিশের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। ট্রাফিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় পুলিশকে অনেক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অভিযান চালাতে হচ্ছে। অর্থাৎ তাৎক্ষণিকভাবে বেশি ঝুঁকি তৈরি করা যানবাহনকে আগে আটক করা হচ্ছে। অন্যদিকে যেসব যানবাহনের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, সেগুলোর ক্ষেত্রে জায়গার সংকটের কারণে অনেক সময় সীমিত ব্যবস্থা নিয়ে ছেড়ে দিতে হচ্ছে। ফলে একটি যানবাহন সামান্য জরিমানা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার পর আবারও একই অপরাধ করতে পারে। পুলিশের হাতে মামলা ও জরিমানার মতো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা থাকলেও আইন অমান্যকারী যানবাহনকে দীর্ঘমেয়াদে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যে সংরক্ষণ ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া প্রয়োজন, সেখানে বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ রাজশাহী জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আমানুল্লাহ বিন আখতার আবিদ বলেন, যেসব স্থানে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে, সেগুলোর অধিকাংশই এক লেনের সড়ক। এছাড়াও রাজশাহীর অতিরিক্ত অবৈধ যানবাহন, চালকদের অসাবধানতা এবং বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়াও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ট্রাফিক পুলিশের জন্য আলাদা ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় তাদের কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে। আরও পড়ুন অস্ত্রোপচার হয় না মেহেরপুরের কোনো সরকারি হাসপাতালে তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর সড়কগুলো অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর উপযোগী নয়। তাই গতি নিয়ন্ত্রণ করে গাড়ি চালানো উচিত। এসব সড়কে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগ নিরাপদ। এর বেশি গতিতে চললে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিন্তু দেখা যায়, চালকরা ৬০-৭০ কিলোমিটার গতিবেগে গাড়ি চালান। ট্রাফিক পুলিশও অনেক ক্ষেত্রে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে না। তাই সবার মঙ্গলের জন্য হলেও রাজশাহীতে ডাম্পিং স্টেশন প্রয়োজন। এতে আইন অমান্যকারী যানবাহন পুলিশের আওতায় আসবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, মহানগরের আয়তন এখন আর আগের মতো ছোট নেই। যানবাহনের সংখ্যাও বেড়েছে। এ অবস্থায় ট্রাফিক বিভাগের জন্য একটি স্থায়ী ও নিরাপদ ডাম্পিং স্টেশন অত্যন্ত জরুরি। মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় এলাকাভিত্তিক ডাম্পিং স্টেশন থাকলে সবচেয়ে ভালো হয়। কারণ কোনো এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি গাড়ি আটক করার পর সেটিকে দূরের ডাম্পিং স্টেশনে নিতে অনেক সময় লাগে। এতে পুলিশের সময় ও শ্রম দুটোই বেশি ব্যয় হয়। কাছাকাছি এলাকায় ডাম্পিং স্টেশন থাকলে দ্রুত যানবাহন সরিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। নূর আলম সিদ্দিকীর মতে, একাধিক ডাম্পিং স্টেশন এখনই সম্ভব না হলেও অন্তত একটি স্থায়ী, নিরাপদ ও পর্যাপ্ত জায়গাসম্পন্ন ডাম্পিং স্টেশন প্রয়োজন। সেখানে বিপুলসংখ্যক জব্দ করা যানবাহন নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি জব্দ করা গাড়ির তথ্য, মালিকানা, মামলা এবং আদালতের আদেশ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকা দরকার। তিনি আরও বলেন, ডাম্পিং স্টেশন থাকলে আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়বে। শুধু জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় যানবাহন জব্দ করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় নেওয়া সম্ভব হবে। এতে যানবাহনের মালিকদের মধ্যেও আইন অমান্য করার প্রবণতা কমবে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, ডাম্পিং স্টেশন তৈরি হলে শুধু পুলিশের অভিযানই সহজ হবে না; নগরের যানজট, অবৈধ পার্কিং ও সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দীর্ঘদিনের এই অবকাঠামোগত ঘাটতি পূরণ করা গেলে অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত এর সুফল পাবেন রাজশাহীর সাধারণ মানুষ। তিনি আরও বলেন, অটোতে যেহেতু কোনো রেজিষ্ট্রেশন বা চেসিস নম্বর নেই। সেখানে মামলা করার কোনো সুযোগ থাকে না। তবে আটক করে ডাম্পিংয়ে পাঠালে অবৈধ অটোরিকশা কমে আসবে। আমরা চাইলেই ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করতে পারি না। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন পাওয়া গেলেই ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা সম্ভব হবে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো, যেন রাজশাহী মহানগর ট্রাফিক পুলিশের অধীনে একটি স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়। এনএইচআর/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>